বাংলাদেশে ড. কামালের ঐক্য প্রক্রিয়া: কতটা চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের জন্য?

বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, আর আসম আবদুর রবের মত নেতারা আছেন যুক্তফ্রন্টে। (ফাইল ফটো)
Image caption বি চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন, আর আসম আবদুর রবের মত নেতারা আছেন যুক্তফ্রন্টে। (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশে সরকার বিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে শনিবার ড. কামাল হেসেনের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রথম প্রকাশ্য সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র নেতারা যোগ দিয়েছিলেন।

'জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া' নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এই নতুন রাজনৈতিক জোটে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে আছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাসদের একটি অংশের আ স ম আব্দুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

এই জোটের সাথে বৃহত্তর ঐক্য করার ব্যাপারে বিএনপিরও চেষ্টা রয়েছে।

কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐক্য প্রক্রিয়াকে আসলে কতটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছে তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ নতুন এই জোট তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করেননা তারা।

ড. কামালের রাজনৈতিক ঐক্য প্রক্রিয়া: বিএনপির কী লাভ?

বিচারপতি এস কে সিনহার বই নিয়ে যা বলছে আওয়ামী লীগ

"বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় এবং দুর্নীতির দায়ে আদালত দ্বারা তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের কারাদণ্ড হওয়ায় বা বিদেশে পলাতক থাকায় রাজনৈতিকভাবে তারা হতাশাগ্রস্ত ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে"।

তিনি বলেন বিএনপি বহু চেষ্টা করেও জনসমর্থন না থাকায় দাবি উত্থাপন বা আন্দোলনও করতে পারেনি, এমনকি বিদেশীদের কাছে ধর্না দিয়েও সফল হয়নি।

"সবশেষে তারা একটি জোট করেছে। কিন্তু এই দল কারা? জনবিচ্ছিন্ন এবং জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাতদের সাথে জোট করে কোনো ফায়দা হবেনা"।

Image caption মাহবুবুল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

কিন্তু আওয়ামী লীগে বা আওয়ামী লীগের জোটের বাইরের সব দল যদি একটি মঞ্চে আসে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় কি-না?

জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন এরশাদ আমলেও বায়াত্তর দলের জোট হয়েছিলো এবং সে দলের নেতা এখনো আছেন। এসব নামসর্বস্ব দলের নেতাদের নিয়ে জোট করলে তা নিয়ে আওয়ামী লীগের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

কিন্তু এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী কিংবা ড. কামাল হোসেনের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি কাজে লাগানোর চেষ্টার কথা বলছে নতুন জোট- এটি কি বিবেচনায় নেয়ার মতো নয়?

জবাবে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন ,"আমরা মনে করি এসব জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের নিয়ে ভাবনার কিছু নেই"।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ নেতারা তো এসব জোট নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে, সেটি কেন তাহলে?

জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নিক এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট গঠন বা সম্প্রসারণ তা হয়ে থাকে।

"কিন্তু এসব দলের অতীত ইতিহাস বলে তারা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজে বেড়ায়। ষড়যন্ত্রের জন্য কোনো জোট হলে সেটা জনগণ বরদাশত করবেনা। সেটাই আওয়ামী লীগের নেতারা হয়তো বলছেন"।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি বৃহত্তর জোট হলে আওয়ামী লীগ কি একা হয়ে পড়বে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মিস্টার হানিফ বলেন, "আওয়ামী লীগ একা হবে কেনো? নামসর্বস্ব এখন একশ ব্যক্তি নিয়ে একশ দল হলে তাদের ঐক্যের কী গুরুত্ব আছে?"

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর