বাংলাদেশে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য: খালেদা জিয়ার মুক্তি বা তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার 'নির্বাচনী ঐক্যের শর্ত নয়'

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান

'খালেদা জিয়ার মুক্তি' বা 'তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার' - এগুলো বিএনপি এবং ড. কামাল হোসেনের 'যুক্তফ্রন্টের' মধ্যেকার কোন 'নির্বাচনী ঐক্যের শর্ত' হিসেবে গণ্য হবে না - বলছেন ওই জোটের নেতারা।

বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনের আগে ড. কামাল হোসেন এবং বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই নতুন রাজনৈতিক জোটটি এখন বিএনপির সাথে নির্বাচনী ঐক্য নিয়ে কথা বলছে ।

বিএনপি রোববার ঢাকায় একটি জনসমাবেশ থেকে যে সাতটি দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেছে - তার শুরুর দিকেই এই দুটো দাবি রয়েছে।

কিন্তু ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোটের একজন নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বিবিসিকে বলেছেন, "যে দাবিগুলো বেশি করে তারা বলেছেন, সেগুলো তাদের দলের শ্লোগান।"

"তারপরও বেগম জিয়ার মুক্তি আমরা চাই এই অর্থে যে, আমরা মনে করি মামলা যাই হোক...আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিলে তিনি মুক্তি পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে হয়।"

"সব আইনজীবীই এ কথা বলেছেন। এই অর্থে আমরা বলি, তার মুক্তি ঠেকিয়ে মতো কাজ করা সরকারের উচিত নয়।" বলেন মি. রহমান।

"আর তারেক রহমানের মামলার ব্যাপারটা, সেটাও আলোচনা করে আইনগত লড়াই বা গণতান্ত্রিক বিধানের মধ্যে থেকে আমরা আমাদের বক্তব্য রাখবো" - বিবিসি বাংলাকে বলেন ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না।

বিবিসি বাংলায় এ প্রসঙ্গে আরো খবর:

'নির্বাচন করতে বিএনপিকে কোনো কাকুতি-মিনতি নয়'

সমাবেশে যে সাত দফা দাবি জানাবে বিএনপি

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে ২০০৪ সালের ২১শে অগাষ্টের গ্রেনেড হামলার মামলা

নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত যে দাবিগুলো বিএনপি দিয়েছে, তাতে সংসদ ভেঙে দেয়া, সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে। এরসাথে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং ইভিএম পদ্ধতি চালু না করার দাবিও রয়েছে।

এই পাঁচটি দাবির সাথে একমত বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্য দলগুলো। তারাও ইতিমধ্যে একই ধরণের দাবি তুলে ধরেছে।

জোট নেতারা মনে করছেন, নিরপেক্ষ সরকার গঠনসহ নির্বাচন সম্পর্কিত দাবিগুলোর সাথে তারা একমত এবং সেগুলো যৌথ দাবি হতে পারে।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলছিলেন, "সাত দফা দাবি যেটা দিয়েছেন, এর মধ্যে প্রধান যে দাবিগুলো গণতন্ত্র এবং অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত - সেগুলোর সাথে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। ওগুলো আমরা একইভাবেই বলেছি।"

তবে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১শে অগাষ্টের গ্রেনেড হামলার মামলা প্রত্যাহারের দাবিগুলোকে 'বিএনপির দলীয়' বলে অন্য দলগুলো বলছে।

মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্প ধারা, ড: কামাল হোসেনের গণফোরাম এবং আ স ম আব্দুর রবের জেএসডি মিলে যে 'যুক্ত ফ্রন্ট' গঠন করা হয়েছে, ঢাকায় সপ্তাহখানেক আগে তাদের সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র নেতারা যোগ দিয়েছিলেন।

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির তাদের দাবিকে ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্য দলগুলো দাবি বা শর্ত হিসেবে না দিলেও তারা ঐ দাবিকে সমর্থন করে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

চীনে উইগর মুসলিম নির্যাতনের ব্যাপারে যা জানা গেছে

'গ্রামের সবাই বলছে তাদেরকে সাপে কামড়েছে'

বোমা মেরে চাঁদ কেন উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল নাসা

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption খালেদা জিয়া এখন কারাভোগ করছেন জিয়া এতিমখানা সংক্রান্ত একটি মামলায়

জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানের শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক মির্জা তাসলিমা সুলতানা বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, প্রতিটি দলই স্ব স্ব অবস্থান থেকে আলাদা আলাদা দাবি দিতে পারে। ঐক্যের লক্ষ্য ঠিক থাকলে সেটা বাধা হয় না বলে তিনি মনে করেন।

"নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনের যে পরিবেশ পরিস্থিতি, নির্বাচনে যাওয়া প্রসঙ্গে তাদের কথাবার্তা এখনও হচ্ছে।একেকটা দল তাদের জায়গা থেকে কথা বলবে, সেটাতো থাকারই কথা।এবং তাদের হয়তো অন্য বিষয়গুলো নিয়ে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না" - বলেন অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা।

যুক্তফ্রন্টের মাঝেই এখনও কিছু ইস্যুতে অন্য তিনটি দলের সাথে বিকল্প ধারার দ্বিমত আছে। বিকল্প ধারার অন্যতম নেতা মাহী বি চৌধুরী বলেছেন , নির্বাচন সম্পর্কিত তাদের দাবির সাথে বিএনপির পাঁচটি দাবি মিলে গেছে। কিন্তু এখনও যৌথভাবে একক দাবি নির্ধারণের পর্যায়ে তারা আসতে পারেননি।

তিনি বলছিলেন, "ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে, এক নম্বর - মুক্তিযুদ্ধের শক্তির মধ্যে ঐক্য হতে হবে। ভিত্তিটাই যদি আমরা রচনা করতে না পারি, তাহলে দাবিগুলো নিয়ে বা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন নিয়ে এখন পর্যন্ত সময় এসেছে বলে মনে করি না। এখনও অপরিপক্ক। এর আগে নিশ্চিত হতে হবে যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বাইরে তাদের মধ্যে একটা ঐক্য হতে হবে। এটা না হওয়া পর্যন্ত যৌথ ঘোষণায় আমরা দাবিগুলোকে আনতে পারছি না।"

তবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দাবিগুলো নিয়ে তারা আরও আলোচনা করবেন।