ব্রিটেনে কীভাবে বাংলায় টিভি চ্যানেল দাঁড় করালেন মাহী জলিল
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ব্রিটেনে কীভাবে বাংলায় টিভি চ্যানেল দাঁড় করালেন মাহী জলিল

লন্ডনে 'চ্যানেল এস' যাত্রা শুরু করেছিলো ১৪ বছর আগে, ২০০৪ সালে। বাংলাদেশি, বিশেষ করে সিলেট থেকে আসা অভিবাসীদেরকে লক্ষ্য করেই চালু হয়েছিলো ব্রিটেন-ভিত্তিক এই বাংলা টিভি চ্যানেল।

শুরুর দিকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষাতে অনেক অনুষ্ঠান হলেও সময়ের সাথে সাথে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি এখন ব্রিটেনের বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি চ্যানেল। এর সম্প্রচার এখন ব্রিটেনের বাইরে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটেনে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বাংলা টিভি চ্যানেল চালু আছে। তবে এগুলোর বেশিরভাগই বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের সাথে সম্পর্কিত। তবে ব্রিটিশ-বাংলাদেশীদের বিনিয়োগে ও উদ্যোগে এখানে মূলত দুটো চ্যানেল বাংলায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছিলো। একটি এই চ্যানেল এস। আর অন্যটি 'বাংলা টিভি' ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

চ্যানেল এস প্রতিষ্ঠা করেন কিশোর বয়সে বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে আসা মাহী ফেরদৌস জলিল।

এখানে তিনি আলোচিত ও সমালোচিত দুটোই। একদিকে চ্যানেল এসের কারণে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে পরিচিত ব্যক্তিত্ব, আবার অন্যদিকে গাড়ির ইন্সুরেন্স ব্যবসায় দুর্নীতির দায়ে তার সাজা হওয়ায় তিনি সমালোচিতও।

চ্যানেল এস কীভাবে শুরু করেছিলেন সেটা বলতে গিয়ে মি. জলিল বিবিসি বাংলাকে বলেন, "বাংলাদেশ থেকে যেসব টিভি চ্যানেল ব্রিটেনে আসতো সেগুলো দর্শকদের কাছ থেকে সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যেতো। টিকে থাকতে পারতো না। তখন আমি চিন্তা করলাম ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের কাছে বাংলায় কীভাবে পৃথিবীর আলো পৌঁছে দেওয়া যায়।"

২০০২ সাল থেকে শুরু হয়েছিলো এই চ্যানেল প্রতিষ্ঠার কাজ। তবে অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয় ২০০৪ সাল থেকে।

ছবির কপিরাইট Channel S
Image caption চ্যানেল এসের যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে।

তিনি বলেন, বিলেতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে তাদের শেকড়ের যোগাযোগ শক্ত রাখার জন্যে, কারণ "দিনে দিনে বাংলাদেশের সাথে আমাদের যোগাযোগ কমে আসছিলো, বাড়িতে বাংলায় কথা বলাও কমে যেতে লাগলো" - এসব কথা বিবেচনা করেই তিনি বাংলায় টিভি চ্যানেল চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, "শুধু কিছু কথা বা কিছু গান নয়। বাংলাদেশী কমিউনিটির সামনে কিছু দিক নির্দেশনা তুলে ধরাও ছিলো একটি লক্ষ্য। তারা কোন দিকে যাবেন, কি করবেন, তাদেরকে আইনি পরামর্শ দেওয়া, সুযোগ সুবিধাগুলো তাদের সামনে তুলে ধরা, তাদেরকে ইসলাম ধর্মের কিছু কথা শোনানো এসব ছিলো চ্যানেল এস প্রতিষ্ঠার পেছনে।"

মি. জলিল বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিলো সিলেটি ভাষায় কিছু অনুষ্ঠান করা যাতে প্রবাসীরা ব্রিটেনে কি হচ্ছে সেটা বুঝতে পারেন। "মা বোনরা যাতে লজ্জা ভেঙে, ফোন করে কথা বলতে পারেন সেজন্যেই আমরা চ্যানেল এস চালু করি।"

তবে এই 'সিলেটি' ভাষার কারণে এর নাম 'চ্যানেল এস' হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সেটা স্বীকার করেন নি। বলেছেন, "মার্কেটিং এর কথা চিন্তা করেই এই নামটি দিয়েছি। সিলেটি ভাষাতে তো আর সংবাদ পড়া যায় না। কিন্তু যাদের জন্যে আমাদের এই টেলিভিশন, যারা এর সামনে বসে আছেন, তাদের অনেকে প্রথম কিম্বা দ্বিতীয় প্রজন্মের মানুষ যারা সিলেট থেকে এসেছেন। তারা রাষ্ট্রভাষা বাংলা বোঝেন না, শুদ্ধ ভাষায় ছন্দ মিলিয়ে কথাও বলতে পারেন না। যতো সহজ ভাষায়, মায়ের ভাষায় কথা বলা যায়, ততো সহজ ভাষাতেই তাদের জন্যে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে চেয়েছি।"

তিনি বলেন, সিলেটি ভাষায় যখন অনুষ্ঠান প্রচার শুরু হয় তখন বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় তার প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু তিনি বলেন, "এখন কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিটি চ্যানেলেই আঞ্চলিক ভাষায় অনুষ্ঠান হয়। আমরা যে ব্রিটেনে থাকি সেখানেও বহু রেডিও চ্যানেল আছে যেখানে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।"

তিনি মনে করেন, আঞ্চলিক ভাষা কখনো মূল বা রাষ্ট্রীয় ভাষার ক্ষতি করে না। কিন্তু আঞ্চলিক ভাষায় কথা বললে মানুষের মধ্যে যোগাযোগটা সহজ হয়।

"আঞ্চলিক ভাষায় কথা বললে মানুষের বোঝার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মানুষ তখন আরো ভালোভাবে বুঝতে পারে। সিলেটি ভাষায় টিভি অনুষ্ঠান করা কিন্তু বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু করা নয়," বলেন তিনি।

ছবির কপিরাইট Channel S
Image caption মাহী জলিল বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে এসেছেন তার কৈশোর কালে।

মি. জলিল জানান, লন্ডনে বাংলায় টিভি চ্যানেল চালু করা ছিলো তার জন্যে বড় রকমের চ্যালেঞ্জ। তিনি মনে করেন, এই কাজটা এখনও খুব কঠিন।

প্রশ্ন: কেন?

উত্তর: এসব চ্যানেল কমিউনিটির উপর ভিত্তি করে চলে। এটা চালাতে প্রচুর অর্থের দরকার হয়। কিন্তু এখান থেকে কখনো মুনাফা আসবে না। অথচ কমিউনিটির সেবা করার জন্যে এরকম টেলিভিশন চ্যানেলের প্রয়োজন আছে।

তিনি বলেন, "ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটা বড় অংশই এসেছে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল থেকে। তাদের লেখাপড়া এবং জানাশোনাও একটু কম ছিলো। তাই এদেরকে পৃথিবীর কোথায় কী ঘটছে, বিশেষ করে ব্রিটেনে ও বাংলাদেশে কী হচ্ছে, সেটা জানানো ছিলো একটা দায়িত্ব।"

তিনি বলেন, এই চ্যানেলটি দাঁড় করাতে গিয়ে তাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। প্রথমত ছিলো আর্থিক কষ্ট। তারপর ছিলো পেশাগত কিছু অসুবিধা।

কারণ হিসেবে বলেন, একই সাথে বাংলায় কথা বলা ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করার মতো দক্ষ লোক ছিলো না। বাংলাদেশ ও ভারত থেকে তিনি বহু কর্মীকে ওয়ার্ক পারমিট দিয়ে ব্রিটেনে নিয়ে আসেন টিভি চ্যানেলটি চালানোর জন্যে।

তিনি জানান, শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এরকম ৪৮ জনকে নিয়ে আসা হয়েছিলো তাদের মধ্যে দুজন ছাড়া বাকি সবাই এখন ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, এখন চ্যালেঞ্জটা আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বর্তমানে তৃতীয়/চতুর্থ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ব্রিটেনে বড় হচ্ছে। তারা ঠিক মতো বাংলা বলতে পারে না। বোঝেও না। ফলে এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতে গিয়ে তাদের নিজেদেরকেও অনেক পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট Channel S
Image caption মাহী জলিলের উপস্থাপনায় চ্যানেল এসের একটি আলোচনা অনুষ্ঠান রিয়েলিটি উইথ মাহী।

"মানুষ যেমন পরিবর্তিত হয় তেমনি একটা ফরম্যাটে টেলিভিশন চ্যানেলও চলতে পারে না। একুশ শতকে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। স্যাটেলাইটের পাশাপাশি এখন অনলাইন ও ডিজিটাল কনটেন্টের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলোতে এখন অনেক বেশি ইংরেজি বিষয়, ব্রিটিশ-বাংলাদেশী বিষয় চলে আসছে। শুরুতে যতোটা সিলেটি বিষয় ছিলো এখন আর ততোটা নেই।"

মি. জলিল বলেন, ইউরোপের প্রতিটি দেশের যেখানেই বাংলাদেশীরা আছেন সেখানেই আছে চ্যানেল এস। তাদের খবরও থাকে এই চ্যানেলে। আমেরিকাতেও তাদের ভালো দর্শক রয়েছে। লন্ডনে সদর দপ্তর ছাড়াও সিলেটেও কাজ করছে বড়ো একটি প্রডাকশন টিম।

নানা রকমের অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেন মি. জলিল। তার জনপ্রিয় একটি টক শো 'রিয়েলিটি উইথ মাহী।' কমিউনিটির বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর নানা ইস্যু তিনি সেখানে তুলে ধরেন। টিভির পর্দায় সরাসরি সোজাসাপ্টা কথা বলার কারণে তিনি আলোচিত, একই সাথে সমালোচিত।

"আপনি যদি সেখানে ডিপ্লোম্যাসি নিয়ে বেশি খেলেন তাহলে তো বাস্তব কথাটা বের করতে পারবেন না। এসব অনুষ্ঠানের অর্থ হলো কমিউনিটি থেকে কিছু অন্ধকার দূর করা। সমাজের মানুষজনের কাছে একটু আলো পৌঁছে দেওয়া। আমি আসলে পলিটিক্সে বিশ্বাসী না। আমাকে যা ইচ্ছে তা-ই প্রশ্ন করতে পারেন। তবে সেখানে একটা ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।"

মাধ্যমিক স্কুল পর্যন্ত বাংলাদেশে পড়েছেন মি. জলিল। তারপর বাবা মা তাকে ব্রিটেনে নিয়ে আসেন। এখানে এসে তিনি গাড়ির ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন। গাড়ি নির্মাণকারী বড় বড় প্রতিষ্ঠানেও কাজ করেছেন তিনি।

মি. জলিল বলেন, "আমি যখন আসি তখন একটা ফর্ম পূরণ করার লোক ছিলো না। আমাদের লেখাপড়া কম ছিলো। কিন্তু গত তিন দশকে এখানে বড় রকমের পরিবর্তন হয়েছে। এখন ঘরে ঘরে গ্র্যাজুয়েট পাওয়া যাবে, আইনজীবী, চিকিৎসক সবই আছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ছিলো না। এখন টাওয়ার হ্যামলেটসে গেলে অর্ধশতেরও বেশি মসজিদ পাওয়া যাবে।"

তারপর তিনি নিজেই শুরু করেন গাড়ির নানা ধরনের ব্যবসা।। তবে গাড়ির ইনস্যুরেন্সের ব্যবসা করতে গিয়ে মি. জলিল ইনস্যুরেন্স কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে জেলেও গেছেন। কারাগারে ছিলেন এক বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু তিনি মনে করেন, বিদেশি ও মুসলিম হওয়ার কারণেই তার এই সাজা।

"আমার নামের শুরুতে যদি মোহাম্মদ না থাকতো, তাহলে আমি হয়তো জেলেই যেতাম না। বিলাতে এসে আপনি যদি উপরের পর্যায়ে যেতে চান এবং আপনি যদি কোন প্রতিষ্ঠানের চোখে পড়েন, তাহলে এখানে আপনার আর কিছুই করার থাকবে না।"

ছবির কপিরাইট Channel S
Image caption লন্ডনে তৈরি একটি নাটক - বাংলা টাউনের বাংলা প্রেম।

মি. জলিল মনে করেন যে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক রেসিজমের শিকার হয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, তার জেলে যাওয়ার ঘটনাটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ঘটনাগুলোর একটি। "কারণ আমি আমাকে চিনতে পেরেছি। যখন আমার স্বাধীনতা চলে গেলো, তখন আমি বসে নিজেকে নিয়ে চিন্তা করতে পারলাম।"

প্রশ্ন: তাহলে কি বলবেন যে আপনি জাতিবিদ্বেষের শিকার হয়েছেন?

উত্তর: "আমি একটি ব্রাইট স্পার্ক। কোন পয়সা ছাড়া এদেশে এসে, মেকানিক্যাল কাজ করে যখন লাখ লাখ পাউন্ড রোজগার করেছি, তখন ট্যাক্স অফিস এইচএমআরসি ও ইনস্যুরেন্সের জন্যে আমার জেলে যাওয়া। পাবলিকের পয়সা মেরে খাওয়ার জন্যে আমার জেল হয়নি। পৃথিবীর কোন বড় ব্যবসায়ীর কর সংক্রান্ত সমস্যা হয় না?"

প্রশ্ন: কিন্তু বিচারকরা তো আর কার নামের আগে মোহাম্মদ আছে কার নেই এসব ভেবে বিচার করেন না বা সাজা দেন না...

উত্তর: এটা নিয়ে অনেক কিছু বলা যায়। সমান অপরাধের জন্যে আপনি যদি একজন শ্বেতাঙ্গ ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের সাজা তুলনা করে দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন বৈষম্যটা কোথায় ও কতোখানি।

প্রশ্ন: কিন্তু এখানে অভিযোগটা হলো ইনস্যুরেন্স নিয়ে প্রতারণা হয়েছে। যে দুর্ঘটনা ঘটেনি, সেরকম মিথ্যা দুর্ঘটনা বানিয়ে অর্থ ক্লেইম করা হয়েছে..

উত্তর: দেখুন, আমি হলাম কোম্পানির স্বত্বাধিকারী। এখানে কাজ করে শতাধিক মানুষ। আমি তো আমার হাতে এসব ক্লেইম ডিল করিনি। এটা আমার কপালে লেখা ছিলো।

প্রশ্ন: তাহলে পরে আপনি কি আপনার কোম্পানির স্টাফদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন?

উত্তর: হ্যাঁ হ্যাঁ। তারা আর সেখানে কাজ করে না। আমি আপিল আদালতেও গিয়েছিলাম। কিন্তু একসময় আমার অর্থ শেষ হয়ে গেলো। ১৩ হাজার ৪০০ পাউন্ডের কোর্ট কেসের জন্যে আমি ১৭ লাখ পাউন্ড ব্রিটেনের লিগ্যাল সিস্টেমের পেছনে খরচ করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারিনি।

একদিকে জনপ্রিয়তা আবার অন্যদিকে সাজা খেটে জেলে যাওয়ায় কারণে তিনি বিব্রত বোধ করেন কী?

জানতে চাইলে মাহী জলিল বলেন, "সমালোচনা তো তারই হয় - যে সমাজে কিছু করে। সিলেটের মফস্বল শহর থেকে এসে আমি বিলাতে ৫,৭০০ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। বাংলাদেশও আমি বড় বড় চ্যারিটি প্রকল্প চালাই। আফ্রিকাতেও আমার কিছু প্রোজেক্ট আছে। আমি মানুষকে ভাত খাওয়ানো ও কাপড়-চোপড় দেওয়াতে বিশ্বাস করি না। আমি চাই তাকে দক্ষতা দিতে।"

"আমি তাকে হাতুড়ি কিনে দিতে রাজি, দা কিনে দিতে রাজি কিন্তু আমি তাকে ভাত খাওয়াতে রাজি না, বস্ত্র দিতে রাজি না। কারণ দক্ষতা থাকলে ওটা সে নিজেই জোগাড় করে নিতে পারবে।"