যে ৪টি কারণে বাংলাদেশের সেরা নারী ফুটবলাররা গ্রাম থেকেই আসছে

নারী, ফুটবল, বাংলাদেশ ছবির কপিরাইট বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন
Image caption গোল দেয়ার পর বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের উদযাপন

বাংলাদেশের মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় পর্যায়ে ভালো করছে ৪-৫ বছর ধরে।

মূলত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা নামের একটি নারী স্কুল টুর্নামেন্ট থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসছেন এসব নারী ফুটবলার।

যার মধ্যে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নামটি বেশ পরিচিত।

তবে ঢাকা বা বিভাগীয় শহরগুলোতে মেয়েদের ফুটবল খেলাটা খুব একটা পরিচিত দৃশ্য নয়।

কিন্তু কেনো?

আরো পড়ুন:৯ ম্যাচে ৫৪ গোল: কিশোরী ফুটবলারদের সাফল্যের রহস্য

১. ফেডারেশন কী ধরণের চেষ্টা করেছে?

নারী ফুটবল উইঙের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়।

তিনি বলছেন ফেডারেশন এই উদ্যোগ নিয়েছিল আগেই, ২০০৮ সালে।

তবে সেবার যেসব ফুটবলার তুলে আনা হয়, তারা জাতীয় দলে খেলতে চাননি।

"একদম শুরুতে আমি যখন ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাই, মহানগর পর্যায়ে মেয়েদের স্কুল টুর্নামেন্ট চালু করি," বলছিলেন মিজ কিরণ।

সেখানে বেশ বেগ পেতে হয় ফেডারেশনকে।

ফেডারেশন যখন বঙ্গমাতা স্কুল আসর থেকে মেয়ে ফুটবলার পাওয়া শুরু করে তখন থেকে তাদের জন্য বিশেষ ক্যাম্প করে কলসিন্দুরের মেয়েরা উঠে আসার পর ফেডারেশন জোরালো কর্মসূচি চালু করে।

সেখানে থাকা ও খাওয়ার জায়গা করে দেয়া হয় একটা বড় ফুটবল দলকে সেটা গ্রাম থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের জন্য একটা বড় ব্যাপার।

ছবির কপিরাইট Anadolu Agency
Image caption বাংলাদেশের মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলগুলো ৪-৫ বছর ধরে ভালো করছে

২. অভিভাবকদের ইচ্ছা ছিলোনা

মিজ কিরণ বলেন, 'শিক্ষকদের সাথে কথা বলে, অভিভাবকদের সাথে কথা বলে নানা ধরণের চেষ্টা তদবির করে মেয়েদের মাঠে নামানো হয়।'

"তবে বেশ কজন ভালো ফুটবলার বাছাই করার পর, তারা আর জাতীয় দলে খেলতে রাজি হননি," এক্ষেত্রে অভিভাবকদের অনাগ্রহ বেশি বাঁধা তৈরি করেছে।

"পড়াশোনা বাদ দিয়ে অভিভাবকরা ফুটবলে মেয়েদের আসতে দিতে চাননি, এক্ষেত্রে বাফুফে বিনিয়োগ করে কোনো সুবিধা করতে পারেনি," বলছিলেন মিজ কিরণ।

মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেন, বাফুফে চেয়েছিলো পড়াশোনা করা মেয়েরা যদি ফুটবলে আসে সেক্ষেত্রে মেধায়ও এগিয়ে যাবে নারী ফুটবল।

তবে গ্রাম থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের জন্য ব্যাপারটা অন্যরকম।

অভিভাবকরাও বেশ সন্তুষ্ট হয় যখন মেয়েরা খেলাধুলা করে অর্থ উপার্জন করছে। খুব বেশি না হলেও।

মিজ কিরন মনে করেন, বাংলাদেশে নারী ফুটবলের উত্তরণের পেছনে এটা একটা বড় কারণ।

ছবির কপিরাইট Anadolu Agency
Image caption পড়াশোনা ছেড়ে মেয়েদের ফুটবলে আসতে দিতে চান না অভিভাবকরা

৩. সামাজিক সমস্যা কেমন?

কথা বলছিলাম আনোয়ারুল হক হেলালের সাথে, যিনি দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবল নিয়ে কাজ করছেন।

তিনি মূলত সামাজিক সমস্যার দিকে নজর দিয়েছেন।

"মেয়েদের ফুটবল খেলাটাকে কতটা গ্রহণ করা হয় সেটা মূল ব্যাপার, এটা সামাজিকতার বিষয়।

মহিলা কমপ্লেক্সে খেলা হয়েছিলো একটা স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টের, সেখানে ইংরেজি মাধ্যমের মেয়েরাও এসেছিল। কিন্তু তারা ঐ পর্যন্তই থেমে যায়," আনোয়ারুল হক হেলাল বলছিলেন।

তারা শিক্ষাটাকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে মনে করেন মি. হেলাল।

তিনি বলেন, "উল্টোদিকে গ্রামের মেয়েরা এতো ভাবে না, ফুটবলটা ওরা ভালো খেলে, কষ্ট করতে চায়।"

আর সামাজিক বাঁধা গ্রামেও থাকে কিন্তু সেটাকে যারা পার করে আসে তারা আর পেছনে তাকায় না।

বিবিসি বাংলার আরো খবর:

ভারতীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

গ্রেনেড হামলা: বিএনপির প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

পত্রমিতালী করে জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছিলেন যারা

ছবির কপিরাইট Barcroft Media
Image caption ময়মনসিংহের কলসিন্দুর গ্রামে কিশোরীরা ফুটবল খেলছে

৪. পেশাদারিত্ব আনলে কি সমস্যা সমাধান হবে?

আনোয়ারুল হক হেলালের মতে, পেশাদারিত্ব ভিন্ন জিনিস। বাংলাদেশে ছেলেদের ফুটবলও আক্ষরিক অর্থে পেশাদার নয়।

তবে লিগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

"যতদিন ফুটবল ফেডারেশনের ক্যাম্পে খাওয়া দাওয়া বসবাসের সুবিধা পাবেন এরা ততদিন এরা থাকবে। সেক্ষেত্রে কিন্তু আয়ের উৎস হচ্ছে না। এটা স্বাভাবিক তারা এরপর আর উৎসাহ পাবেন না ফুটবলে।"

পেশাদারিত্ব যদি পুরোপুরি না আসে সেক্ষেত্রে গ্রামের মেয়েরাও বেশিদিন থাকতে পারবেনা বলে মনে করেন মি. হেলাল।

সম্পর্কিত বিষয়

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর