বগুড়ায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলা, পুলিশের ধারণা রায়ের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে

বগুড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্টল বোমা হামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে ছবির কপিরাইট Google
Image caption বগুড়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্টল বোমা হামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে

বাংলাদেশের বগুড়া জেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা হামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ বলছে, এই হামলায় তিনজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ঢাকার একটি আদালতে ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় রায় ঘোষণার জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে বিএনপি সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে ঢাকার ওই আদালত।

পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর দেড়টার দিকে নীলফামারী থেকে ঢাকাগামী নাবিল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস হামলার শিকার হয়। বাসটি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলায় মহাসড়কে পৌঁছার পর এটির ওপর পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারা হয়।

আরো পড়তে পারেন:পেট্রোল বোমা হামলার শিকার মানুষদের ঘুরে দাঁড়ানো

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "আমরা জানতে পেরেছি কয়েকজন দুর্বৃত্ত শাহজাহানপুরে বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করেছে। এ সময় একটি বাসের ওপর তারা পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারলে তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন।"

"ঘটনাস্থল থেকে আমরা একজনকে আটক করেছি, যে জেলা যুব দলের সহকারী কৃষি বিষয়ক সম্পাদক।"

হামলার পর বাসটিকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই বাসের একজন যাত্রী কাজী আইনুন নাহার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাস্তার ওপর ১৫/২০ ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে প্রথমে বাসটিতে থামানোর চেষ্টা করে। এরপর তারা বাসটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পরে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে।

এতে বাসটির সামনের দিকে বসে থাকা তিনজন নারী যাত্রীর শরীরে আগুন ধরে যায়।

আহত আরেকজন যাত্রী মুনিরা বেগম বলেন, বাসের সামনে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে কি যেন একটা ছুটে আসলো, এরপর আমার গায়ে আগুন ধরে গেলো। এরপর আর কিছু মনে নেই।

এর আগে ২০১৪ সালের বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আন্দোলনের সময় অনেক যানবাহনে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

এসব হামলার জন্য বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের দায়ী করে আসছে সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে।

তবে বিএনপি ও জামায়াতের তরফ থেকে এসব হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ সবসময়েই অস্বীকার করা হয়েছে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর