গ্রেনেড হামলার মামলার রায়: কোন দিকে যাবে বাংলাদেশের রাজনীতি?

ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ১৪ বছর আগের সেই লোমহর্ষক হামলার দিন

বাংলাদেশে যে কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে বৈরিতা আরও তীব্র করে তুলেছে, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল তার অন্যতম।

এ ঘটনা সম্পর্কে প্রথম থেকেই আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে আসছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের সহযোগীরাই এই হামলার পেছনে ছিল, পুরো শীর্ষ নেতৃত্বকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল সেদিন। সে কারণেই তারা এই ঘটনার সঠিক তদন্তে বার বার বাধা সৃষ্টি করেছে। আজকের রায়েও সে কথারই প্রতিফলন ছিল।

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রে উত্তরণের কোন রাজনৈতিক সমাবেশে এতো বড় হত্যাকাণ্ড কখনো হয়নি। সেটির লক্ষ্য যে শেখ হাসিনাই ছিলেন তাতে সন্দেহ নেই।

প্রশ্ন হচ্ছে, ১৪ বছর আগের সেই লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায়ের প্রভাব কি হবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে? হলেও কতটা হবে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক দিলারা চৌধুরী বলছেন রাজনীতিতে তার মতে এই রায় বাড়তি কোন প্রভাব ফেলবে না । কারণ, তার মতে, তারেক রহমানসহ বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এরই মধ্যে বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন।

দিলারা চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, "আমার তো মনে হয়না এ রায় নতুন কিছু যোগ করবে। আগের রায়গুলোর মতো বিএনপি এবারও দেখানোর চেষ্টা করবে যে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত।"

ছবির কপিরাইট BNP
Image caption তারেক রহমানের দেশে ফেরা কি আরো অনিশ্চিত হলো?

আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে যে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বিএনপি ক্ষমতা পোক্ত করতে চেয়েছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাশেদা রওনক খান মনে করেন দুই দলের মধ্যে যে গভীর তিক্ততা তৈরি হয়েছে সেটি কাটবে কিনা সন্দেহ আছে।

"একটা দল যদি আরেকটি রাজনৈতিক দলের মূল উৎপাটন করতে চায়, এবং তা হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে, সে রাজনৈতিক দল তো সেটা ভুলে যাবে না," বলছিলেন রাশেদা রওনক খান।

এ মামলায় মূল চরিত্র ছিলেন তারেক রহমান। গত ১১ বছর ধরে তিনি নির্বাসনে লন্ডনে আছেন। মি: রহমান সহসা দেশে ফিরবেন সে রকম কোন সম্ভাবনাও নেই। এ মামলার রায় সেটি আরো জটিল হয়েছে। তারেক রহমানকে আদালত কী সাজা দেবে সেটি নিয়ে অনেক জল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে তারেক রহমান।

তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করেন, বিএনপিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে তেমন কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে না।

আরও পড়ুন:

বাচ্চাকে জিনিয়াস হিসাবে গড়ে তুলতে চান? জানুন কীভাবে

তুর্কী টিভিতে 'সৌদি ষড়যন্ত্রকারী' সম্পর্কে ভিডিও ফুটেজ

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption গ্রেনেড বিস্ফোরণের ঠিক আগ মূহুর্তে তোলা এই ছবি: ভাষণ দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা

"যারা বিএনপির সাপোর্টার তারা তাকে সাপোর্ট করেই যাবে। যারা আওয়ামী লীগের সাপোর্টার তারা তাদের কথাই বলে যাবে।"

তবে মিসেস চৌধুরী বলেন, এই রায় থেকে আওয়ামী লীগ বাড়তি কোনো সুবিধা নিতে পারবে কিনা তা নির্ভর করবে আগামী দিনগুলোতে তাদের ভূমিকার ওপর। "তারা যদি এ থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে কিছুই বদলাবে না। কিন্তু তারা যদি এটা নিয়ে রাজনীতি না করে, তাহলে তাদের লাভ হবে।"

আরও পড়ুন:

মুফতি হান্নানের যে জবানবন্দি মামলার মোড় ঘুরিয়েছিল

গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন যারা

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর