বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে বক্তব্য দিয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দুঃখ প্রকাশ

জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বাংলাদেশ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন - তার জন্যে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন ।

শনিবার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মি: চৌধুরী বলেন, "আলোচনাকালে আমি দেশের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল এম এ আজিজ সম্পর্কে অসাবধানতাবশত: একটি ভুল তথ্য উল্লেখ করেছিলাম।"

বেসরকারি সময় টেলিভিশনের টক-শোতে মি. চৌধুরী গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বর্তমান সেনাপ্রধানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। মি: চৌধুরীর বক্তব্যের অংশটুকু ছিল এরকম:

"আর্জেস গ্রেনেড কোত্থেকে আসছে? দেখেন আর্জেস গ্রেনেড, আমি জানিনা সময়টা মিলে কিনা। আমাদের বর্তমান চীফ অব আর্মি আজিজ সাহেব চট্টগ্রামের কমান্ডেন্ট ছিলেন, জিওসি ছিলেন, তাঁর ওখান থেকে একটা ব্যাপক সংখ্যক অ্যাঁ..এ.. সমরাস্ত্র গোলাগুলি চুরি হয়ে গেছিল, হারিয়ে গেছিল, বিক্রি হয়ে গেছিল। এবং এজন্য একটা কোর্ট মার্শালও হয়েছিল। আজিজের নামে, জেনারেল আজিজের নামে কোর্ট মার্শালও হয়েছিল।"

তিনি আরো বলেন, "আজকে উনি...কিন্তু ওনার ওনার কেন হয়েছে? কারণ উনি হলেন ওভারঅল উনি নিশ্চয়ই। এখন তো ওখান থেকে এবং আমরা আরো দেখছি মিরপুরে সম্প্রতি কয়েক বাক্স পুকুরের মধ্যে পাওয়া গেছে। এসবগুলো আমাদের ব্যর্থতা..."

এ প্রসঙ্গটি শেষ না করেই মি: চৌধুরী আলোচনার মূল বিষয়ে ফিরে যান। কিন্তু মি: চৌধুরী কেন সেনাপ্রধানের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন, এবং এর মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন - সেটি পরিষ্কার ছিল না।

তবে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে মি: চৌধুরী এজন্য তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তিনি কিডনি রোগে ভুগছেন।

তিনি বলেন, "জীবন রক্ষার নিমিত্তে আমাকে প্রতি সপ্তাহে তিনদিন প্রতিবার চার ঘণ্টা করে করে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। ডায়ালাইসিস সমাপনের পর স্বাভাবিক কারণে শারীরিক দুর্বলতা বাড়ে এবং মানসিক স্থিতি কিছুটা কমে। সময় টেলিভিশনের বিশেষ অনুরোধে শারীরিক দূর্বলতা নিয়েই আমি ৯ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে রাত দশটায় তাদের একটি টক-শোতে অংশ নেই। "

এর আগে মি. চৌধুরীর এই বক্তব্যকে 'দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং অসত্য বক্তব্য' হিসেবে বর্ণনা করে সেনা সদর।

ছবির কপিরাইট ISPR
Image caption সেনাবাহিনী এর প্রতিবাদ জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। আইএসপিআরের ওয়েবসাইাট থেকে নেওয়া।

আরো পড়তে পারেন:

ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গা পরিবার কি মিয়ানমারের দাবার ঘুঁটি?

আচমকা মুম্বাইতে কেন বাংলাদেশী খোঁজার হিড়িক?

ভিনগ্রহে প্রাণ খোঁজার যত রকম চেষ্টা

এনিয়ে একটি বিবৃতিও দিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।

সেনা সদর বলছে, "সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ চাকুরি জীবনে কখনোই চট্টগ্রামের জিওসি বা কমান্ড্যান্ট হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন না।"

"তিনি সেপ্টেম্বর ২০১০ হতে জুন ২০১১ পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার, জুন ২০১১ হতে মে ২০১২ পর্যন্ত ঢাকায় মিরপুরে ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার এবং মে ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।"

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, "বর্ণিত সময়ে চট্টগ্রাম বা কুমিল্লা সেনানিবাসে কোন সমরাস্ত্র বা গোলাবারুদ চুরি বা হারানোর কোন ঘটনা ঘটেনি। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বর্তমান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সামরিক চাকুরি জীবনে কখনোই কোর্ট মার্শালের সম্মুখীন হননি।"

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানোর পর শনিবার সংবাদ সম্মেলনে মি. চৌধুরী তার বক্তব্যের জন্য দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, তাঁর বক্তব্য ভুল ছিল এবং তাতে শব্দবিভ্রাট হয়েছে।

মি. চৌধুরী বলেন, "তিনি (সেনাপ্রধান) চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি ছিলেন না কমান্ডেন্টও ছিলেন না। তিনি তার কর্মজীবনের এক সময়ে চট্টগ্রাম সেনা ছাউনিতে আর্টিলারি প্রশিক্ষক ছিলেন।"

তবে আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে একবার 'কোর্ট অব এনকোয়ারি' হয়েছিল বলে মি: চৌধুরী তাঁর সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।

ছবির কপিরাইট ISPR
Image caption সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ।

কোর্ট অব এনকোয়ারি এবং কোর্ট মার্শালের পার্থক্য

সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা বলছেন, বাহিনীতে যখন কোন বিষয় নিয়ে কারো বিরুদ্ধে তদন্ত হয়, তখন সেটিকে কোর্ট অব এনকোয়ারি বলা হয়। সাধারণ অর্থে এটি প্রাথমিক তদন্তের মতো। সে তদন্তের যদি কোন কিছু বেরিয়ে আসে তখন বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় স্তরে যাওয়া হয়। দ্বিতীয় স্তরে আরো তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হয়। এরপর সে বিষয়টিকে সামরিক আদালতে বিচারের জন্য নেয়া হয়। অর্থাৎ কোর্ট মার্শাল করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেনাবাহিনীতে 'কোর্ট অব এনকোয়ারি' খুবই সাধারণ একটি বিষয়।

"খুব সাধারণ বিষয় নিয়ে কোর্ট অব এনকোয়ারি হতে পারে, আবার সিরিয়াস বিষয় নিয়েও কোর্ট অব এনকোয়ারি হতে পারে। এটা খুবই রুটিন একটা বিষয় এবং অহরহ এরকম হয়ে থাকে," বলছিলেন সে কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, অনেক কোর্ট অব এনকোয়ারি হয়, যেগুলো তথ্য প্রমাণের অভাবে সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর