নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে শিগগীরই: মওদুদ

মওদুদ আহমেদ ছবির কপিরাইট বিবিসি বাংলা
Image caption মওদুদ আহমেদ

বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকার কি ধরনের হবে, কিভাবেই বা তা গঠিত হবে তা নিয়ে তাদের নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট খুব শিগগীরই একটা রূপরেখা দেবেন।

বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে নতুন বিরোধীদলীয় জোট গঠিত হয়েছে - সেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার প্রথমেই রয়েছে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে।

এই দফায় আছে 'অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।'

লক্ষণীয় যে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে বিএনপির নেতাদের মুখে আগে যা শোনা যেতো - অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন - নতুন এই ৭ দফার প্রথমটিতে তার কিছুটা হেরফের দেখা যাচ্ছে।

এখানে 'নির্দলীয়' কথাটি নেই। 'সরকারের পদত্যাগ' কথাটি আছে কিন্তু কি ধরনের 'নিরপেক্ষ' সরকার তার স্থলাভিষিক্ত হবে - সে ব্যাপারেও স্পষ্টভাবে কিছু বলা হয় নি।

তাহলে আগামী নির্বাচন কি ধরনের সরকারের অধীনে হবে? বিএনপির সিনিয়র নেতা মওদুদ আহমদ বলছেন, এ নিয়ে তারা খুব শিগগীরই একটা রূপরেখা দেবেন।

"এটা নিয়ে এখন আমরা কাজ করছি, যথাসময়ে আমরা রূপরেখা দেবো" - বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন মি. আহমেদ।

এতে এত সময় লাগছে কেন? এ নিয়ে কি কোন মতপার্থক্য আছে?

এ প্রশ্নের জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন, "কোন মতপার্থক্য নেই। তবে এখন প্রেক্ষাপট পাল্টেছে - আমরা ঐক্যফ্রন্ট করেছি, এককভাবে কিছু করার তো প্রশ্ন এখন নেই। আমরা প্রথম খসড়া তৈরি করেছি, এটার ওপর আলাপ-আলোচনা করতে হবে।"

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

মায়ের মাসিকের সাথে ছেলের বয়ঃসন্ধিকালের সম্পর্ক

যৌন হয়রানির প্রতিবাদের ভিডিও ভাইরাল

নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা শিগগীরই: মওদুদ

ছিনতাইকারী ধরে পুরস্কার পেলেন ঢাকার যে তরুণী

জিন্নাহর যে অসুস্থতার কথা কেউ জানত না

বাংলাদেশী শিল্পীদের জন্য খুলছে ভারতের বাজার?

সেই সরকার 'নির্দলীয়' হতে হবে কিনা - তার উল্লেখ ৭-দফায় নেই কেন, এ প্রশ্নের জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন, "নিরপেক্ষ বলতেই নির্দলীয় বোঝায়। নিরপেক্ষ মানেই তো হলো দল-নিরপেক্ষ।"

বিএনপির নেতাদের মুখে বার বার শোনা গেছে যে নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ হতে হলে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। এখানে তার স্পষ্ট উল্লেখ নেই কেন?

জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন - "সরকারের পদত্যাগ মানেই তো প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া তো সরকার হতে পারে না। তা ছাড়া আমরা বলেছি সংসদ বাতিল করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিলে তো এমনিতেই আর সরকারের থাকার কোন সুযোগ নেই - যদি না আমরা অন্যরকম কোন ব্যবস্থা করি।"

কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান নেতা ড. কামাল হোসেন তো বলেছিলেন যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও নির্বাচন যাওয়া যেতে পারে -যদি সরকার সংবিধানের চেতনা এবং বিধি মেনে চলে।

জবাবে মওদুদ আহমেদ বলেন, সেটা তিনি বলেছিলেন কিন্তু পরে তিনি তা রিট্র্যাক্টও করেছিলেন (প্রত্যাহার বা পিছিয়ে আসা অর্থে ) - বলেছিলেন যে তিনি ঠিক সেভাবে বলেন নি।

প্রধানমন্ত্রী যদি বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন, এবং তিনিই নেতৃত্বে থেকে একটা নতুন নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করেন - তাহলে সেটা কি ঐক্যফ্রন্টের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে?

জবাবে মি. আহমেদ বলেন, "না - সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। সেটা তো একটা দলীয় সরকারই হবে। কারণ তর্কের খাতিরেই বলছি, প্রধানমন্ত্রী তো অন্যদের নিয়ে সরকার গঠন করতে পারবেন না - বর্তমান সংবিধান তো সেটা অনুমোদন করে না । সংবিধানে তো নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু নাই। "

"আর তারা যদি সংবিধান থেকে সরে এসেই কিছু করতে চান তাহলে আমাদের প্রস্তাবটা মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়? - বলেন মি. আহমেদ।

কিন্তু তেমন কিছু করতে হলে তো সরকার-বিরোধীদল আলোচনা হতে হবে - তার কি কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে?

তিনি বলেন, "অবশ্যই - এ ব্যাপারে আমরা উন্মুক্ত মনে আলোচনা করতে চাই সরকারের সাথে। আলোচনা করতে হবে, সমঝোতায় আসতে হবে।"