প্রীতিভাজনেষু: আপনাদের প্রশ্ন, সম্পাদকের জবাব

ইস্তান্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেট তুরস্কের পুলিশ তল্লাশি করছে, যেখানে সাংবাদিক খাসোগজিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ছবির কপিরাইট YASIN AKGUL
Image caption অপকর্মের কেন্দ্রস্থল?: ইস্তান্বুলে সৌদি আরবের কনসুলেট তুরস্কের পুলিশ তল্লাশি করছে, যেখানে সাংবাদিক খাসোগজিকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ সপ্তাহের বড় আন্তর্জাতিক খবরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল নি:সন্দেহে হচ্ছে তুরস্কে সৌদি আরবের কনসুলেটে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির নিখোঁজ বা খুন হবার ঘটনা। প্রতিদিন মনে হচ্ছে ঘটনা নতুন মোড় নিচ্ছে। এই খবর নিয়ে আমাদের শ্রোতা-পাঠকদের মধ্যে যে ব্যাপক কৌতূহল আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

তাহলে শুরু করা যাক জামাল খাসোগজির বিষয় দিয়েই। প্রথমে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়ার মনিজা রহমান স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

''নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার নিয়মিত কলাম লেখক ও সৌদি রাজ পরিবারের ভিন্নমতাবলম্বী স্বেচ্ছাধীন নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাসোগজির মৃত্যু রহস্য যেন কিছুতেই কাটছে না। সৌদিআরব ও তুরস্কের মধ্যে চলছে চরম কূটনৈতিক টানা পোড়েন। আমার প্রশ্ন, জামাল খাসোগজির মৃত্যু রহস্য নিয়ে তুরস্কের এত সোচ্চার হওয়ার কারণ কী? তুরস্ক কী সিরিয়া যুদ্ধের প্রতিশোধ নিতে চাইছে?''

আমার কিন্তু উল্টোটা মনে হচ্ছে মিজ ফেরদৌসী। তুরস্কের মাটিতে অবস্থানরত একজন সাংবাদিককে যদি সৌদি আরবের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এসে মেরে ফেলে থাকে, তাহলে তো তুরস্কের আরো কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত। কিন্তু ঘটনা যেহেতু সৌদি কনসুলেটের ভেতরে হয়েছে, যেখানে তুরস্ক সরকারের কোন এখতিয়ার নেই, তাই তুরস্ক বেশ ধৈর্যের সাথে, সহযোগিতার ভিত্তিতে কূটনৈতিক নিয়মাবলী মেনে ঘটনার তদন্ত করছে। তবে তদন্ত শেষে তুরস্কের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেটা দেখার বিষয়।

সৌদি সাংবাদিকের নাম নিয়ে প্রশ্ন করেছেন পঞ্চগড়ের বোদা থেকে মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম:

''সৌদি সাংবাদিকের নামটি বাংলাদেশের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমে বা পত্র-পত্রিকাতে বলা হচ্ছে,খাসোগি। অথচ বিবিসিতে জামাল খাসোগজি বলা হচ্ছে। এর সঠিক উচ্চারণ কি হবে,খাসোগি না খাসোগজি?''

আমরা বিবিসির উচ্চারণ সেন্টার এবং আরবি বিভাগের সহকর্মীদের সাথে কথা বলে জেনেছি, নামটির সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে জামাল খাসোগজি।

ছবির কপিরাইট Chip Somodevilla
Image caption বিব্রত: ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবকে নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ঘটনাটি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব কেন এত উদ্বিগ্ন, সেই প্রশ্ন করেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''এই সাংবাদিককে নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে যে রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বা যে ধরণের রাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা সত্যিই আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। আমার প্রশ্ন হলো, এই সাংবাদিকের হত্যা নিয়ে কেন আজ পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করছে? কেনই বা তার হত্যাকাণ্ড নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে এবং সৌদি আরব ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে রাজনীতির মেরুকরণ বা রাজনৈতিক পর্যায়ে বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে?''

বিষয়টি বেশ জটিল শামীম উদ্দিন শ্যামল। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবে রাজপরিবারের যে অংশ বর্তমানে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আছে, জামাল খাসোগজি তাদের সমালোচক ছিলেন। বিশ্বের কোথাও একজন সরকার-বিরোধী সাংবাদিককে হত্যা করা হলে পশ্চিমা বিশ্বে নিন্দার ঝড় এমনিতেই ওঠে। কিন্তু এখানে সন্দেহ করা হচ্ছে, সৌদি আরব থেকে দেশের নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সংস্থার দল ইস্তাম্বুলে এসে মি: খাসোগজিকে হত্যা করেছে। এখানে সৌদি সরকারের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তুরস্কের মত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

সৌদি আরব যেহেতু পশ্চিমা দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ এবং গুরুত্বপূর্ণ মিত্র, তাই তাদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত বিব্রতকর। তারা না পারছে সৌদির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে, না পারছে বিষয়টি না দেখার ভান করতে। বিষয়টি আরো অনেক দূর গড়াবে বলেই মনে হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট CHANDAN KHANNA
Image caption নতুন সাহস: ভারতে মি-টু আন্দোলন নারীদের অতীত নির্যাতনের কথা বলার সাহস দিয়েছে।

ভারতে বিনোদন এবং গণমাধ্যম জগতে এখন চলছে মি-টু আন্দোলনের বাতাস। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন ঢাকার তানজিলুর রহমান:

''গত ১৬ই অক্টোবর প্রভাতিতে ভারতের এক আইনজীবী #metoo আন্দোলনকে নেতিবাচক বলেছেন, যার সাথে আমি আংশিক একমত। এটার শুরুটা বেশ ভালো হলেও এখন মনে হচ্ছে এর যাচ্ছেতাই ব্যবহার হচ্ছে। এখন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তার এক রকম শাস্তি হয়ে যাচ্ছে। আমরা এতদিন জানতাম 'দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত নির্দোষ'। কিন্তু এখন হয়ে গেছে 'নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত দোষী'।

''কোন সন্দেহ নেই, এসব অভিযোগের হয়তো ৯০-৯৫ শতাংশ সত্য, কিন্তু কোন হতভাগা যদি বাকি ৫-১০ শতাংশের মধ্যে পরে যায় তখন সে ভুক্তভোগীই কেবল বুঝতে পারবে এর মর্মবেদনা।''

আপনি একদিক দিয়ে ঠিক বলেছেন মি: রহমান, অভিযুক্তের নাম বিচারের আগেই প্রকাশ পেলে সমাজের চোখে সে অপরাধীর মতই হয়ে যায়। তবে একথাও ঠিক, অনেক নারী সমাজের ভয়ে এতদিন তাদের নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেনি। এই #মি-টুর ফলে তারা সেই সাহস পেয়েছে। সেটা কম অর্জন না। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption ঢাকায় গ্রেনেড হামলার রায়ের দিন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে আদালতে নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশে ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ে যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে , তাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশ আছেন। তাদের নিয়ে প্রশ্ন করেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার বলরাম:

''আসামীদের অনেকেই দেশে বিদেশে পলাতক রয়েছে। তারেক রহমান লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। আমার প্রশ্ন হচ্ছে তারেক রহমানসহ অন্যান্য আসামীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা কতটা সম্ভব? এব্যাপারে কি বলছে ব্রিটিশ সরকার ও তাদের আইন?''

বলা মুশকিল মি: বলরাম। ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ তারেক রহমানকে দেশে ফেরত নেবার জন্য আবেদন করতে পারে। কিন্তু সেজন্য ব্রিটিশ আদালতকে নিশ্চিত হতে হবে যে মি: রহমান ন্যায় বিচার পেয়েছেন, আর দেশে ফেরত নেবার পর অন্য কোন মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে না। কিন্তু ব্রিটেন তারেক রহমানকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে। অর্থাৎ তারা মানে করে মি: রহমান দেশে ফিরলে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। তাই তারা বাংলাদেশ সরকারের আবেদন গ্রহণ নাও করতে পারে।

গুজরাটের দাঙ্গা নিয়ে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে লিখেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''এ'মাসের ১৪ তারিখের প্রবাহ অনুষ্ঠানে ২০০২ সালে ভারতের গুজরাটের দাঙ্গা নিয়ে সাবেক জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহ এর বই "দ্য সরকারী মুসলমান" নিয়ে শুভজ্যোতি ঘোষের প্রতিবেদনটি শুনলাম। জেনারেল শাহ গুজরাট দাঙ্গার একজন প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তখনকার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন।

''তখনকার নরেন্দ্র মোদীর সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব করেছিল এবং সে কারণে তখনকার দাঙ্গায় প্রাণহানি অনেক বেশি হয়েছিল, সেটা জেনারেল জমিরউদ্দিন শাহের বইতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ঐ দাঙ্গার জন্য দায়ী কে এবং ভুক্তভোগীরা কী আদৌ বিচার পাবে?''

ছবির কপিরাইট Hindustan Times
Image caption অবশেষে ন্যায় বিচার: গুজরাটে ২০০২ সালের দাঙ্গায় বিলকিস বানোর পরিবারের ১৪জন খুন এবং তিনি গণধর্ষণের শিকার হন। পনেরো বছর পর ১১জন আক্রমণকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।

খুবই কঠিন প্রশ্ন করেছেন মি: রহমান। এ'ধরণের ব্যাপক সহিংসতা, যেখানে রাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা, জাতি বা ধর্মগত প্রতিহিংসা জড়িত থাকে এবং যেখানে সাধারণ জনগণের একটি অংশের প্রত্যক্ষ মদদ থাকে, সেখানে বিচার খুব সহজ বিষয় নয়। অনেকে চেষ্টা করছে যাতে অন্তত কয়েকটি বিশেষ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করা যায়। দাঙ্গার দায়িত্বে রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিচার হবে কি না, তা বলা মুশকিল।

ছোট একটি মন্তব্য করে লিখেছেন কুমিল্লা থেকে শহীদুল ইসলাম:

''আগে কখনো লেখা হয়নি, এটাই প্রথম। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মির্জা তসলিমা সুলতানা এবং অধ্যাপক দিলারা চৌধুরীর বিশ্লেষণ খুবই ভালো লাগে।''

চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি: ইসলাম। আশা করি অনুষ্ঠান নিয়ে ভবিষ্যতে আরো লিখবেন।

আরেকটি ছোট চিঠি, একটি প্রস্তাব দিয়ে লিখেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী:

''বাংলাদেশের জাতীয় মাছ হলো ইলিশ। কিন্তু এদেশের সাধারণ মানুষ ইলিশ তো কিনতে পারে না। বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। তাহলে ইলিশের বদলে পুঁটিকে জাতীয় মাছ করা উচিত।''

হুম, প্রস্তাবটা কেমন হলো জানি না মি: চৌধুরী। তবে আমার মনে হয়না আপনার প্রস্তাবের সাথে খুব বেশি লোক একমত হবে। ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Majority World
Image caption মেঘনার ইলিশ: বাংলাদেশের জাতীয় মাছ

প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছেন সাতক্ষীরা সরকারী কলেজের ছাত্র মোহাম্মাদ আব্দুল মাতিন:

''গত কয়েকদিন আগে আমি বিবিসি বাংলার অনলাইনে খবর পড়ছিলাম। একটি খবর দেখে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম - "চীনের যাবার পথে গায়েব হয়েছেন, ইন্টারপোল প্রেসিডেন্ট মেং হংওয়ে '' এমন একটি অভিযোগের পর তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি পুলিশ। কিন্তু অন্যদিকে তদন্তকারী একজন কর্মকর্তা বলছেন তিনি ফ্রান্সে নিখোঁজ হননি। কোন একটি সূত্রে মিঃ মেংকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আসলে কোনটা সত্য?''

আপনার প্রশ্নে কিন্তু এখন আমি বিভ্রান্ত মি: মাতিন। তথ্যগুলো তো পরস্পরবিরোধী মনে হচ্ছে না আমার কাছে। কোনটা মিথ্যা হবার সুযোগ আছে কি? তিনটি তথ্য তিনটি সূত্র থেকে, কিন্তু কোনটাই আরেকটা নাকচ করছে না। তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, ফরাসি পুলিশ তদন্ত করছে কিন্তু তারা মনে করে না তিনি ফ্রান্সে নিখোঁজ হয়েছেন আর হংকং-এর পত্রিকা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট তাদের একটি সূত্রে বরাত দিয়ে বলছে মিঃ মেংকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ধরে নিয়ে জাওয়া হয়েছে। এখানে একটি ধারাবাহিকতা আছে।

ভারতের আসামে লক্ষ লক্ষ বাংলাভাষীকে নাগরিক তালিকা থেকে বাদ দেবার পর বিভিন্ন রাজ্যে কথিত বিদেশি সনাক্ত করার যে দাবী দক্ষিণপন্থী দল বিজেপি তুলছে, তা নিয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-আইন থেকে ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল:

''বাংলাদেশী আর ভারতের বাঙ্গালীদের মাঝে অনেক পার্থক্য আছে, আছে ভাষার, কথার সুর, আর অনেক কিছু। যারা তিন-চার দশক ধরে ভারতে বাস করছেন, যাদের জন্মটা সেখানে, তারা কিভাবে একটি রাজনৈতিক শিকারের কারণে দেশ থেকে বিতাড়িত হবে? প্রশ্ন তাদের কাছে, তারা কি নিজেরদেরকে কখনো বাংলাদেশী বলে ভেবেছে?''

সম্প্রতি এ বিষয়ে যত রিপোর্টিং হয়েছে মি: ইসলাম, তাতে আপনার এই বক্তব্যের সমর্থনে প্রচুর কথা ছিল। তবে একই সাথে ভারতের কর্তৃপক্ষ আর তাদের সমর্থকদের বক্তব্যকেও যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Pacific Press
Image caption কলকাতায় প্রতিবাদ: আসামে নাগরিকত্ব হারানো বাংলাভাষীদের আটক করার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের ইমামদের বিক্ষোভ।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পর এখন চলছে চাকরিতে যোগ দেবার বয়স ৩৫-এ বৃদ্ধি করার আন্দোলন। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনা থেকে মোহাম্মদ শফিক:

''আপনার জানেন যে, পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বা তার বেশি। যেখানে আমাদের গড় আয়ু ৭২ সেখানে আমাদের চাকরির আবেদন এর বয়স মাত্র ৩০। আমাদের সরকার চায় দেশ ডিজিটাল করতে, অথচ দেশে ৪ কোটির বেশি বেকার, যার মধ্যে ২৫ লক্ষ শিক্ষিত বেকার। আমাদের দেশে লেখাপড়া শেষ করতে সময় লাগে ২৫/২৭ বছর, সেশনজট সারা বছর লেগেই থাকে কোন না কোন ইউনিভার্সিটিতে।

''এতগুলো ছাত্র প্রতিবছর পাস করে বের হচ্ছে। তারা তো সাথে সাথে চাকরি পাচ্ছে না। এক এক জন প্রায় ১০০/১৫০ টা আবেদন করে। কারো হয়। কারো হয়না। এর পর ঘুষ, স্বজনপ্রীতি তো আছেই। এই করতে করতে দেখা যায় বয়স ৩০ এর কোঠা পার হয়ে গেছে। তখন তার জীবনে হতাশা ছাড়া আর কিছুই থাকেনা। তখন সে কি সনদ ধুয়ে পানি খাবে? তাই আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার জন্য আবেদন করছি।''

আমার মতে এখানে দুটো বিষয় আছে মি: শফিক। প্রথমে, আপনি ঠিক বলেছেন চাকরিতে প্রবেশের জন্য ২৯ বছর খুবই কম হয়ে যাচ্ছে। চাকরিতে প্রবেশ হওয়া উচিত যোগ্যতা বলে, এবং আমার মতে, সেখানে বয়সের কোন সীমানা তৈরি করাই উচিত না, সেটা ২৯ না, বা ৩৫ও না। অন্যদিকে, সরকারি চাকরি না পেলে একজন গ্র্যাজুয়েট কেন হতাশায় ভুগবে? বাংলাদেশে নিশ্চয় বেসরকারি খাতে অনেক চাকরি তৈরি হচ্ছে?

আইনের বিষয়ে একটি প্রশ্ন করেছেন মেহেরপুরের গাংনী থেকে মাসুম রেজা:

''সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তাহলে একই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ভিআইপি লোকদের সাধারণ সেলে না রেখে ভিআইপি সেলের ব্যবস্থা করা হয় কেন? এখানে কি সমতার বিধান রাখা হল? যদি হয়, তাহলে কিভাবে?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মি: রেজা। যেখানে ভিআইপি বলে কোন বস্তু থাকে, সেখানে সমতা তো থাকতেই পারেনা, সেটা জেলখানা হোক আর এয়ারপোর্ট টার্মিনাল হোক। বাংলাদেশে - শুধু বাংলাদেশ না, গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে - এরকম একটা ভিআইপি সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে, যার মাধ্যমে যারা ক্ষমতার আশেপাশে থাকেন তারা সাধারণ জনগণ থেকে একটু দূরে থাকতে পারে।

তবে এটাও হতে পারে, যে ব্রিটিশ আমল থেকে এখনো জেলখানায় অনেককে নেয়া হয় যারা মূলত রাজনৈতিক অপরাধে দোষী, তাই তাদের চোর-বাটপার-খুনিদের কাছ থেকে পৃথক রাখার জন্য ভিআইপি সেল তৈরি করা হয়েছিল। আপনাকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠান নিয়ে অনেক প্রশ্নের জবাব দিয়েছি, কিন্তু এ বিষয়ে আপনাদের আগ্রহের শেষ নেই। যেমন জানতে চেয়েছেন রংপুরের মহানগর থেকে মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান:

''অতীতে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে বিবিসি থেকে বাংলাদেশ সংলাপ প্রচারিত হত । এবারে তা প্রচারিত হবে কি না এবং হলে কবে তা প্রচারিত হতে পারে?''

আমার মনে হচ্ছে না এবার বাংলাদেশ সংলাপের মত অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হবে মিঃ রহমান। যদি সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই সেটা আপনাদের জানানো হবে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা।

এমদাদুল হক বাদশা, দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা ।

দেব প্রসাদ রায়, দক্ষিণ পানাপুকুর, রংপুর।

রাফিউল ইসলাম রাফি, নারায়ণপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

বিরেন্দ্র নাথ গাইন, ঢাকা।

মহসিন রেজা, কাউনিয়া, বরিশাল।

ফরিদুল হক, ফুলবাড়ি, কুড়িগ্রাম।

অমরেশ কুমার পাল, বাগমারা, রাজশাহী।

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

রবিউল, চাঁদপুর।

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/