আলোচনায় কতটা ছাড় দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা?

শেখ হাসিনা ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption আলোচনায় কতটা ছাড় দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা?

বাংলাদেশ জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারী দলের যে সংলাপ হবে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, সেখানে কতটা ছাড় দিতে রাজী আওয়ামী লীগ?

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলছেন, বিরোধীদের যে সাত দফা দাবি, তার ছোটখাট কিছু বিষয়ে হয়তো ছাড় দেয়া হতে পারে, কিন্তু সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকার গঠনের যে দাবি, সেটা মানার কোন সুযোগ নেই।

বিবিসি বাংলার মিজানুর রহমান খানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "কেয়ারটেকার সরকার তো সংবিধানে নেই। কোনক্রমেই এখানে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন ক্রমেই না। অন্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট নিয়ে আলোচনার কোন সুযোগ নেই।"

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের আরেকটি দাবি খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, "এটা আমি জানিনা। কারণ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। এখন আপিল বিভাগে আপিল করে যদি দ্রুততার সঙ্গে তাকে মুক্তি দেয়, সেটা দিতে পারে, সেটার সুযোগ আছে। কিন্তু সেটাও নির্ভর করবে আপিল বিভাগের ওপর। তিনি তার সাজা থেকে মওকুফ পান কিনা।"

Image caption আবদুর রাজ্জাক: 'নির্বাচন কমিশন প্রশ্নে সমঝোতা হতে পারে'

আরও পড়ুন:

সংলাপে কোন ইস্যুতে ছাড় দিতে পারে বিএনপি?

নির্বাচন নিয়ে সংলাপ কখনো সফল হয়নি কেন?

যে দুটি ইস্যুতে হোঁচট খেতে পারে সংলাপ

তাহলে এই সংলাপ করে কি কোন ফল হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে এই আলাপ আলোচনায় কিছুটা হলেও অগ্রগতি হবে। এবং একটা সমঝোতার সুবাতাস আসবে।

তাঁর এই আশাবাদের ভিত্তি কি?

এর উত্তরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, "২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপি অনেক ভুল করেছে। নির্বাচনের পরেও ২০১৫ সালে তারা একটানা হরতাল অবরোধ করেছে। গাড়ি পুড়িয়েছে। মানুষকে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যা করেছে। করে তারা সফল হয়নি। কাজেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে বিএনপি এবার নির্বাচনে আসবে। তারা এ ধরনের ভুল আর করবে না। তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে পরিবেশ চাচ্ছে, যে নিশ্চয়তা চাচ্ছে, সেটি আমরা দেয়ার চেষ্টা করবো।"

আওয়ামী লীগ কোন কোন বিষয়ে ছাড় দিতে পারে, সে প্রশ্নের উত্তরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, "আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটা সমঝোতা হতে পারে যে নির্বাচন কমিশনের সর্বাত্মক কর্তৃত্ব থাকবে। আমাদের দলের নেত্রী অনেক উদার মনের মানুষ। আলাপ আলোচনা করে উনি যদি মনে করেন, কোন বিষয়ে ছোটখাট ছাড় দেয়া, সেটা আলোচনা মাধ্যমে হবে। আমি এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে পারছি না।"