দুই সৌদি বোনের মৃত্যু রহস্য: নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীতে কোত্থেকে ভেসে আসলো দুজনের লাশ?

দুই বোন তালা ফারিয়া এবং রোতানা ফারিয়া ছবির কপিরাইট NYPD
Image caption দুই বোন তালা ফারিয়া এবং রোতানা ফারিয়া

নিউ ইয়র্কে হাডসন নদীতে গত সপ্তাহে খুঁজে পাওয়া গেল দুই সৌদি তরুণীর লাশ। তাদের দু'জনের দেহ এক সঙ্গে টেপ দিয়ে পেঁচানো। এই দুজন আসলে দুই বোন।

বড় বোন রোতানা ফারিয়ার বয়স ২২। ছোট বোন তালা ফারিয়ার ১৬। কেন তাদের মৃত্যু ঘটলো, তাদের লাশ কীভাবে হাডসন নদীতে ভেসে আসলো, সেটা এক বিরাট রহস্য। নিউ ইয়র্কের পুলিশ এখনো পর্যন্ত এই রহস্যের কোন কিনারা করতে পারেনি।

পুলিশ বলছে, এরা কি কোন অপরাধের শিকার হয়েছে, নাকি দুই বোন মিলে আত্মহত্যা করেছে সেটা নিশ্চিত করে বলার মত তথ্য এখনো তাদের কাছে নেই।

পুলিশ বলছে, সৌদি নাগরিক এই দুই বোন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়ে আবেদন করেছিল।

সৌদি আরব থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সে আসে ২০১৫ সালে। সঙ্গে ছিল তাদের মা।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই বোন প্রায়শই তাদের বাড়ি থেকে পালিয়ে যেত।

কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তারা এই ধাঁধাঁর কোন সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না কেমন করে ভার্জিনিয়ার বাড়ি থেকে ২৫০ মাইল দূরে হাডসন নদীর তীরে তাদের মৃতদেহ এলো।

সৌদি কনস্যুলেট জেনারেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দূতাবাসের কর্মকর্তারা এই দুই বোনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরা দুজনেই ছিল ছাত্র। তারা ওয়াশিংটনে তাদের ভাইয়ের সঙ্গে ছিল।

অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক পুলিশকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস বলছে, যেদিন দুই বোনের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায়, তার আগের দিন সৌদি দূতাবাসের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে তাদের মায়ের কাছে একটি ফোন কল আসে।

ছবির কপিরাইট NYPD
Image caption মুখের স্কেচ প্রকাশ করে দুই বোনের পরিচয় খুঁজে বের করে পুলিশ

ঐ কর্মকর্তা নাকি যুক্তরাষ্ট্রে দুই বোনের রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে পরিবারটিকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেন।

নদীর ধারে যখন তাদের দেহ খুঁজে পাওয়া যায়, দুই বোনের পরনে ছিল কালো লেগিংস এবং কালো জ্যাকেট। তাদের দু'জনের কোমরে এবং পায়ের গোড়ালিতে কালো ডাক্ট টেপ পেঁচানো ছিল।

অন্যান্য খবর:

যৌন হয়রানি: কাজ ফেলে বেরিয়ে এলেন গুগল কর্মীরা

ব্যবসায় আফগানিস্তানের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আলোচনায় কতটা ছাড় দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা?

পুলিশ প্রথমে সন্দেহ করছিল, এরা দুজন হয়তো জর্জ ওয়াশিংটন ব্রীজ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল। কিন্তু দুজনের শরীরে কোন ধরনের আঘাতের চিহ্ণ না দেখে তারা সেই ধারনা এখন বাতিল করে দিচ্ছে।

পুলিশ লাশ দুটি সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল দু'জনের মুখের স্কেচ একেঁ সেটি প্রকাশ করে মানুষের সাহায্য চাওয়ার পর।

গত দু'মাসে নিউ ইয়র্কে এই দু'জনের জীবন সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে পুলিশ মানুষের কাছে তথ্য চেয়ে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।

বুধবার নিউ ইয়র্কের গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেছেন, এই দু'জনের জীবনের অনেক তথ্য এখনো অজানা। তারা দু'জনের পুরো জীবনের একটা পরিস্কার চিত্র পাওয়ার চেষ্টা করছেন।