ফেসবুকে কওমী মাদ্রাসার শোকরানা মাহফিল নিয়ে যে তর্ক-বিতর্ক

কওমী মাদ্রাসা ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption ঢাকার একটি কওমী মাদ্রাসা।

কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে যে শোকরানা মাহফিল অনুষ্ঠিত হলো - তা নিয়ে ফেসবুকে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের মন্তব্য করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেইজে পাঠকদের মন্তব্য চাওয়া হয়।

আরো পড়ুন:

'আইন পাশ করা হয়েছে যাতে কেউ বন্ধ করতে না পারে'

'শোকরানা মাহফিলের রাজনৈতিক বার্তা নেই'

বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসায় পড়ছে কারা?

বাংলাদেশে কওমী মাদ্রাসায় কী পড়ানো হয়?

তাওহীদ জামান নামে একজন বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করে লিখেছেন, "যেহেতু একদম নির্বাচনের আগে এই শুকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে অনেকেই এটাকে সন্দেহের চোখেই দেখবে। তবে কওমি স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে অসাধারণ একটা কাজ করেছেন এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর কোন সরকারই এই কাজ করেন নি। এখন চারিদিকে শত্রুমিত্র খেলা চলছে,রাজনীতির ডামোডালে অনেক খেলা চলছে। তবে আমি একদম এটাকে রাজনীতির সাথে মেশাতে চাই না। আমার ধরনা হেফাজত আর সরকারে আঁতাত হয় নি, বরং আগের তিক্ততা কমেছে। এটা দেশ এবং জাতীর জন্য ভালো"।

তবে তারিখ আজিজ অবশ্য ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন।

তিনি লিখেছেন, "শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা।"

বেলাল মোহাম্মদ এটিকে "নির্বাচনি কৌশল মাত্র" হিসেবে মনে করছেন।

এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আজকের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পেছানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কামাল হোসেন নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী।

তিনি লিখেছেন, " হুজুরদের ভোট আওয়ামীলীগে জায়েজ হল, কিন্তু জেএসসি পরীক্ষা বন্ধ করে সংবর্ধনা কতটা যুক্তিযুক্ত সেটাই ভাববার বিষয়"।

মো.আলমগীর লিখেছেন " কওমি মাদ্রাসাকে সরকারি স্বীকৃতি দিছে ঠিক আছে ! এইটাও একটা দাবী ছিল তার জন্য ধন্যবাদ দিলে তাও ঠিক আছে ! তবে শোকরানা মাহফিলের নাম দিয়ে কওমি মাদ্রাসা নির্বাচনী শো করে কওমির শত বছরে আদর্শ ঐতিহ্য ধ্বংস কি দরকার ছিল ?"

এই সমাবেশের উদ্দেশ্য নিয়ে সৈয়দ শফিক আহমেদ লিখেছেন, " জনাব শফি এবং তার কওমি নামধারী আলেমদের ইসলামের নামে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করাটাই তাদের মুল উদ্দেশ্য"।

তবে বিষয়টিকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছেন রাফিউল ইসলাম রাফি।

তিনি লিখেছেন, "নির্বাচনের সাথে উক্ত বিষয়ের আমার মনে হয়না কোন প্রভাব পরবে। কিন্তু পরীক্ষা বন্ধ করা টা খুব একটা যৌক্তিক নয়"।

এসকে দেলোয়ার গালিব বলেছেন, "অরাজনৈতিক হেফাজতে ইসলাম এবার রাজনীতি চর্চায় মনোযোগী হল। মানুষের ভালোবাসার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন শফী হুজুর"।

রাজু রায়হান লিখেছেন, "শেখ হাসিনা সরকার তার রাজনৈতিক মেধার পরিচয় দিল ইলেকশনের আগে ,এছাড়াও ইসলামিক জনসমর্থন আদায়েও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি আমি" ।

শওকত আলী লিখেছেন, " ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে।কারণ এটা কওমি ছাত্রদের জন্য খুব দরকার ছিল, আমার দেখা মতে তাদের মধ্যে অনেক মেধাবী আছে যারা যে কোন চাকুরী পাওয়ার যোগ্যতা আছে"।