নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন, অদম্য মাকে নিয়ে গর্ব

ছেলেকে কোলে নিয়ে সীমা সরকার: সব নারীর জন্য প্রেরণার উৎস।
Image caption ছেলেকে কোলে নিয়ে সীমা সরকার: সব নারীর জন্য প্রেরণার উৎস।

সীমা সরকারের কথা অনেকেই পড়েছেন। তাঁর যুবক ছেলেকে কোলে করে বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা কক্ষে নিয়ে যাবার ভিডিও অনেকে দেখেছেন। যে সীমা সরকারকে অনেকেই গর্ব করছেন, তাকে নিয়ে একটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''বিবিসি বাংলাকে কিভাবে যে ধন্যবাদ দিব, তা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারছি না। খবরটি শুনে খুবই ভাল লাগছে। এক কথায় অসাধারণ। কারণ ২০১৮ সালের বিবিসির ১০০ নারীর তালিকায় নাম উঠেছে সীমা সরকারের। তাঁর শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলে হৃদয় সরকারকে কোলে নিয়ে গিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে। তাঁর মতো একজন অদম্য মাকে নিয়ে নারী হিসাবে আমিও গর্ব ও প্রেরণা অনুভব করছি।''

আপনাকে ধন্যবাদ মিস ফেরদৌসি। আপনার সাথে আমরাও গর্বিত যে বাংলাদেশের একজন নারী বিশ্বের অন্যান্য নারীর জন্যও দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
অদম্য মা: প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।

এবারে বাংলাদেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন এবং বিবিসি নিয়ে লিখেছেন রাজশাহীর রানীবাজার থেকে হাসান মীর:

''নির্বাচন উপলক্ষে আপনারা যে সকাল ও সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে নিয়মিতভাবে খবর ছাড়াও মতামত, সাক্ষাৎকার ইত্যাদি প্রচার করছেন সেজন্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে এই সাথে সাময়িকভাবে, অবলুপ্ত পরিক্রমা প্রচারের সময়, অর্থাৎ প্রতিদিন রাত সাড়ে দশটায় অন্ততপক্ষে পনের মিনিটের একটি বিশেষ নির্বাচনী সংবাদ বুলেটিন প্রচার করা সম্ভব কিনা বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের এবারের নির্বাচন নানা দিক দিয়ে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

''তবে আপনারা যেমন জানেন, দেশের বুদ্ধিজীবী মহলের মতো প্রচার মাধ্যমগুলিও দুটি বা তিনটি শিবিরে বিভক্ত। বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের সমর্থন ও আনুগত্য এত বেশি যে তাদের কাছে অনেক সময়ই নৈর্ব্যক্তিক ও নিরপেক্ষ মতামত বা বিশ্লেষণ আশা করা যায় না। এক্ষেত্রে বিবিসি বাংলার নিরপেক্ষ সংবাদ ও সংবাদ ভাষ্য আমাদের সত্যের কাছাকাছি নিয়ে যেতে সহায়ক হতে পারে।''

বিবিসির প্রতি আস্থা রাখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ হাসান মীর। আমরা চেষ্টা করবো তিনটি মাধ্যমে, অর্থাৎ রেডিও, টেলিভিশন এবং অনলাইনে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা নিয়ে আসতে। কিন্তু নতুন করে কোন রেডিও বুলেটিন প্রচার করা সম্ভব হয়তো হবে না। তবে নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে বর্ধিত অধিবেশনের সম্ভাবনা আমরা খতিয়ে দেখছি।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: ঢাকায় বিরোধী বিএনপির অফিসের সামনে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর, নভেম্বর ১৪, ২০১৮।

আমাদের খেলার খবরে একটি ভুল নিয়ে চিঠি, লিখেছেন রাজশাহীর তানোর থেকে মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন:

''গত ২১শে নভেম্বর অনুষ্ঠিত ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার প্রথম T20 ম্যাচে, আমরা দেখলাম প্লেয়ার অফ দ্যা ম্যাচ হলো অ্যাডাম জামপা, অথচ প্রবাহ অনুষ্ঠানে আপনারা প্রচার করলেন মারকাস স্টয়নিস-এর নাম। আসলে ভুলটা কোথায়?''

ভুলটা আমরাই করেছি মি: হোসাইন। আপনি ঠিকই দেখেছেন, সেই ম্যাচে অ্যাডাম জামপাকেই সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত করা হয়েছিল। ভুলের জন্য আমরা দু:খিত।

খবরের সত্যতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন রংপুর উপশহরের এস এম মোহাম্মদ লিয়াকত আলী:

''এখন যেভাবে অনলাইনে ফেক নিউজ প্রচার হচ্ছে, তাতে আমরা পাঠকরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি। কোনটা আসল বা কোনটা নকল সেটা বুঝাই মুশকিল। আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিবিসি বাংলার রেড়িও অনুষ্ঠানের উপর নির্ভর করি। আমার নিকট একমাত্র বিশ্বাসের জায়গা হচ্ছে বিবিসি বাংলা।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: আলী। ফেক নিউজ বা ভুয়া খবরকে বিবিসি একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। সম্প্রতি ঢাকায় আমরা একটি সেমিনারও করেছি এ বিষয়ে। ভবিষ্যতে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে ফেক নিউজ নিয়ে আরো কাজ করবো।

Image caption বড় হুমকি: ঢাকায় 'ফেক নিউজ' বা ভুয়া খবর নিয়ে বিবিসি বাংলা আয়োজিত সেমিনার।

একই রকম বিষয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার বলরাম:

''নানা ডিজিটাল সংবাদ মাধ্যম থাকা সত্ত্বেও বিবিসি বাংলার খবর শুনে নিজেকে গর্বিত মনে করি। অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছি বিবিসি বাংলার ফেক আইডি তৈরি হওয়ার জন্য। তবে আমার মতো লক্ষ লক্ষ সচেতন পাঠক খুব সহজেই বুঝতে পারবে কোনটি আসল আর কোনটি নকল আইডি। তাছাড়া বিবিসি বাংলার খবর পরিবেশনের ধরণটাই আলাদা। যেটা অন্য কেউ কখনোই নকল করতে পারবে না।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: বলরাম। বিবিসি বাংলার লোগো এবং ব্র্যন্ডিং নকল করে ফেক ওয়েবসাইট বা পেজ বের করা হয়তো আমরা বন্ধ করতে পারবো না, তবে যখনি কোন ফেক সাইটের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে, তখনই সেটা বন্ধ করে দেবার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

আমাদের কিছু প্রতিবেদন পুন:প্রচার নিয়ে আপত্তি তুলে লিখেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম:

''আগে চারটা অধিবেশন হতো। তখন কিছু কিছু ফিচার পুন:প্রচার করা হতো। এটাতে আমার ঘোর আপত্তি ছিল। এখন মাত্র দুইটা। এতেও যদি পুন:প্রচার করা হয় তবে বিবিসি বাংলার সাংবাদিকদের নিয়ে আমার সন্দেহ হবে। বাঙালি অলস জাতি, আপনারা কি এই প্রবাদ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন? ফেসবুকে, ইউটিউবে আপনাদের প্রতিবেদন আপলোড করা হয়, তারপরেও কেন এক প্রতিবেদন বারবার শোনাবেন?''

আমার মনে হয় না মি: ইসলাম, যে আমরা এক প্রতিবেদন বার বার শোনাচ্ছি। পুন:প্রচার আমরা অবশ্যই করি, কিন্তু তার সাথে আলসেমির কোন সম্পর্ক নেই। যে কোন সম্প্রচার কেন্দ্র তাদের অনুষ্ঠান পুন:প্রচার করবেই, কারণ সব শ্রোতা একই সময়ে রেডিও শোনেন না। সন্ধ্যার অধিবেশনে যদি ভাল একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই চাইবো সকালের শ্রোতারাও যাতে ঐ সাক্ষাৎকার শুনতে পান। এতে লজ্জার কিছু নেই। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption বিবিসি বাংলার সন্ধ্যাবেলার রেডিও অনুষ্ঠান এখন সরাসরি ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে।

আবার ফিরে যাচ্ছি রাজনীতি এবং নির্বাচনের বিষয়ে। এবার লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''তফসিল ঘোষণার পর থেকে তাদের নেতা-কর্মীদের উপর ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকেই আটক করা হচ্ছে না। এই পরস্পর-বিরোধী বক্তব্য কি কোন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়? বা এই নির্বাচনকে মেনে নেবার মতো মানসিকতা আমাদের রাজনৈতিক দলগুলির এখনো হয়নি? নির্বাচন কমিশন কি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে নাকি দলীয় সরকারই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করবে?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মি: সরদার। আপনার প্রশ্নের জবাবের ওপর নির্ভর করছে নির্বাচন কেমন হবে এবং নির্বাচন পরবর্তী দেশের পরিস্থিতি কেমন হবে। কিন্তু সেই ভবিষ্যদ্বাণী করাটা ঠিক হবে বলে আমার মনে হচ্ছে না। আপাতত: ঘটনাপ্রবাহ দেখে মনে হয় পরিস্থিতি মোটামুটি ইতিবাচক কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর যেহেতু একে অপরের ওপর কোন আস্থা নেই, তাই পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দেয়া খুব কঠিন কাজ হবে না।

খুলনা থেকেই আরেকটি চিঠি। রাজনীতির আরেক দিক নিয়ে আক্ষেপ করে লিখেছেন কপিলমুনি থেকে শিমুল বিল্লা বাপ্পি:

''জননেতা বলতে আমরা কি বুঝি? জনসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যিনি লড়াই করেন আমরা তাকে পুস্তকের ভাষায় জননেতা বলি। কিন্তু বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আমরা রাস্তায়, বিলবোর্ড, পোস্টারে দেখছি, সদ্য গ্র্যাজুয়েট ছাত্র নেতা তার প্রচার পত্রে লেখে 'জননেতা'। ব্যবসায়ী নিজেকে বলে 'জননেতা'। সদ্য চাকুরী থেকে অবসয় নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করে নিজের পরিচয় দেন 'জননেতা'।

''আর যারা ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে সমগ্র জীবন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য হামলা-মামলার শিকার হয়ে সাধারণ মানুষের কাছে জননেতা খেতাব পায়, তারা অর্থের অভাবে নিজ দলের রাজনৈতিক মনোনয়ন পায় না। সেই জননেতার মূল্যায়ন কোথায়?''

ছবির কপিরাইট REHMAN ASAD
Image caption বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে ভোট গ্রহণ করতে পারবে?

কঠিন প্রশ্ন করেছেন মি: শিমুল বিল্লা। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নই কি রাজনৈতিক নেতাকে মূল্যায়ন করার একমাত্র পথ? একজন সংসদ সদস্যর সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব থাকে, যা পালন করতে শিক্ষার পাশা পাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন আছে। কিন্তু সব রাজনৈতিক নেতা যেমন সংসদের জন্য উপযুক্ত নন, তেমনি রাজনীতিতে নতুন আসা ব্যক্তিও সংসদে যেকোন দলের জন্য মূল্যবান হতে পারেন। তবে আপনার সাথে আমি একমত যে, রাজনীতি করলেই কেউ জননেতা হয়ে যায়না। আপনাকে ধন্যবাদ।

নির্বাচন এবং বিবিসি নিয়ে ছোট মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের খবর প্রচারে বিবিসি সাধারণ জনগণের মন্তব্য প্রচার করছে খুবই কম।''

সাধারণ জনগণের মন্তব্য প্রচারের সুযোগ অনেক আসবে মি: আহমেদ। তবে সত্যি কথা বলতে, নির্বাচনের সময় সাধারণ জনগণ তাদের আসল কথা ব্যালট বাক্সেই বলে থাকে, মিডিয়াকে না! তবে আমাদের অনুষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে জনগণের প্রতিক্রিয়া অবশ্যই তুলে ধরা হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

একই বিষয়ে লিখেছেন খুলনার খালিশপুর থেকে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সুজন:

''নির্বাচনের সময় বিবিসির সাংবাদিকদের আমরা কতটা তৎপর দেখতে পাবো? আশা করি পুরাপুরিই পাবো, কারণ এখন দিনে মাত্র দুইবার আপনাদের সংবাদ প্রচার হয়। এর মধ্যেই জনগণের কাছে আপনাদের নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।''

অবশ্যই অনেক তৎপরতা দেখবেন মি: আসাদুজ্জামান, এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করাই আমদের উদ্দেশ্য। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption ভারতে 'স্যানিটেশন ফর ফিমেল' নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় সুখবর।

এবারে গুরুতর একটি অভিযোগ এনে লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে মোহাম্মদ মিজানুর রহমান:

''আগে শুনতাম বিবিসি গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য খবর প্রচার করে। কিন্তু এখন আমি দেখছি বিবিসি যেভাবে যৌন সুড়সুড়ি দিচ্ছে তাতে মনে হয় পশ্চিমা বিশ্বের মতো বাংলাদেশকেও ফ্রি সেক্সের দেশ বানাতে চাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অতি শীঘ্রই বাংলাদেশে ধর্ষণ পরিসংখ্যান কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।''

কোন খবরকে যৌন সুড়সুড়ি বলছেন সেটা আমার কাছে পরিষ্কার না মি: রহমান। এ'কথা ঠিক, ডিজিটাল যুগে আমরা অনেক ব্যতিক্রমী খবর পরিবেশন করছি, বিশেষ করে আমাদের অনলাইনে। ঐসব বিষয়গুলো নিয়ে অনেক রক্ষণশীল মানুষের এক ধরণের মানসিক বাধা রয়েছে। কিন্তু সেগুলো কোনটাই যৌন সুড়সুড়িমূলক নয়। এখানে স্বাস্থ্য, বিশেষ করে নারী স্বাস্থ্যর বিষয় আছে, অধিকারের বিষয় আছে, যৌনতার ব্যাপারে সামাজিক রক্ষণশীলতা বা জড়তা চ্যালেঞ্জ করার বিষয় আছে। এখানে সুড়সুড়ি নেই। আপনাকে ধন্যবাদ।

একই বিষয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করে লিখেছেন এইচ এম আশরাফুল ইসলাম:

''প্রায়শই পরিবারের সবাই মিলে বিবিসি সংবাদ শুনি। এ অবস্থায় যদি তারা বেহায়ার ন্যায় যৌন সুড়সুড়িমূলক সংবাদ পরিবেশন করে, তাহলে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যাই। উদাহরণ স্বরূপ তাদের আজকে সন্ধ্যার প্রবাহ অনুষ্ঠানের একটা নিউজ শিরোনাম এরকম যে, ভারতের দুই যুবক মহিলাদের দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার এক অভিনব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে। এধরনের সংবাদ বিবিসি নির্লজ্জের ন্যায় প্রায়ই প্রচার করে।''

আপনার মন্তব্যে আমি আসলেই আশ্চর্য হয়েছি মি: ইসলাম। ভারতে নারীদের শৌচাগারের অভাব রয়েছে। পাবলিক শৌচাগারগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। সেই টয়লেটগুলোতে নারীরা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন দুজন যুবক। এখানে আপনি যৌন সুড়সুড়ি কীভাবে খুঁজে পেলেন তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না। (বিস্তারিত জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''ওয়েব সাইটে বেশ কিছুদিন থেকে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে যে ছোট ছোট ভিডিও দেয়া হচ্ছে তা প্রশংসার দাবি রাখে। তারা এত প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও কিভাবে জীবনযুদ্ধে সফল হচ্ছে বা হওয়ার চেষ্টা করছে তা অন্যদের জন্য বড়ই প্রেরণামূলক। হঠাৎ করে বিবিসি নিউজ বাংলা একটা ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশংসামূলক কাজ শ্রোতা-দর্শকদের উপহার দিলো। জানতে ইচ্ছে করছে কেন এই উদ্যোগ নেয়া হলো এবং কি পরিস্থিতির জন্য নেয়া হলো?''

এখানে কোন 'পরিস্থিতি' ছিল নাম, শামীম উদ্দিন শ্যামল। ডিজিটাল যুগে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে, তার সাথে আমরা সামাজিক এবং মানবিক অনেক দিক নিয়ে প্রতিবেদন নিয়ে আসছি। এখানে পাঠক-দর্শকদের অনুপ্রেরণা দেওয়াও একটি উদ্দেশ্য। সামাজিক মাধ্যম, ভিডিও পরিবেশনা, এসব এখন আমাদের অনেক সাহসী করতে সহায়তা করছে এবং সমাজের অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারছি যেটা হয়তো আগে আমরা ভাবতামই না। আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের অনুষ্ঠানে ভাষার ব্যবহা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন ঢাকা থেকে নাজমুল হোসাইন:

''গত বৃহস্পতিবারে বিবিসি বাংলার সকালের অধিবেশন প্রত্যুষায় বলা হয়েছে, যে ইসরাইলি সেনাদের সাথে ফিলিস্তিনি জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে। এখানে ফিলিস্তিনি জঙ্গি বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে?''

এখানে 'জঙ্গি' বলতে গাযার সশস্ত্র গোষ্ঠিদের বোঝানো হয়েছে মি: হোসাইন। খবরটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। ইংরেজি militant শব্দটিকে জঙ্গি বলা হয়েছে। বিবিসিতে সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠিগুলোকে militant বলা হয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

সব শেষে বিবিসির অনুষ্ঠান নিয়ে লিখেছেন নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে প্রত্যয় রিপন:

''সম্প্রতি বিবিসির চালানো এক জরিপের পর '১00 সেরা নারী'র তালিকা প্রকাশিত হয়েছে তাতে জায়গা হয়েছে বাংলাদেশের এক অদম্য সাহসী মায়ের। ঐ মায়ের সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি সত্যি মন ছুঁয়ে যায় ! আমার প্রশ্ন হলো বিবিসির কি '১00সেরা পুরুষ' বাছাই করার জরিপ চালানোর পরিকল্পনা আছে?''

না মি: রিপন, ১০০ সেরা পুরুষ নিয়ে কোন কিছুর করার পরিকল্পনা বিবিসির এই মুহূর্তে নেই। তবে দুটি বিষয় পরিষ্কার করে নেই। প্রথমত, ১০০ নারীকে আমরা সেরা নারী বলি না, শুধু ১০০ নারী বলা হয়। দ্বিতীয়ত, নারীদের কোন জরীপের মধ্যে বাছাই করা হয় না। বিবিসির সাংবাদিকরাই বিভিন্ন দেশের খবরের ভিত্তিতে যেসব নারী অগ্রসর হয়েছেন, বা যাদের জীবন কাহিনী অন্যদের অনুপ্রেরণা দিবে তাদেরকে এই তালিকায় স্থান দেয়া হয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

নবনিতা ভট্টাচার্য, উত্তর ত্রিপুরা, ভারত।

ওবায়েদুল ইসলাম উজ্জ্বল, আল-আইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মোহাম্মদ আব্দুল হক, বড়কমলাবাড়ি, লালমনিরহাট।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, লালমোহন, ভোলা।

করিমুল ইসলাম প্রতাপ, হরিপুর ঠাকুরগাঁও।

মোহাম্মদ সোহাগ বেপারী, নাংগলকোট, কুমিল্লা।

ফেরদৌস হাসান, নাগোয়া, জাপান।

মোহাম্মদ তাজনুর ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

জয়ন্ত চক্রবর্তী, নয়া দিল্লি, ভারত।

বি এম মহিউদ্দিন আল মিজান, খুলনা।

বিবিসি বাংলার খবর সম্পর্কে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখুন:

ইমেইল: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক: www.facebook.com/BBCBengaliService/