টুপি গয়নার বিজ্ঞাপন কেন ফেসবুকের ‘রাজনৈতিক’ তালিকায়

অন্তত ২৬টি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনকে রাজনৈতিক তালিকায় ফেলা হয়েছে ছবির কপিরাইট facebook
Image caption অন্তত ২৬টি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনকে রাজনৈতিক তালিকায় ফেলা হয়েছে

যুক্তরাজ্যের কয়েক ডজন গয়না, টুপি আর পোশাক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনকে কারণ ছাড়াই রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই জানে না কেন তাদের 'রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে'র তালিকায় ফেলা হয়েছে।

টুপি, গয়না আর প্রসাধন সামগ্রী বনাম রাজনৈতিক ইস্যু

ফেসবুকে যুক্তরাজ্যের ১২ শোর বেশি পণ্যের বিজ্ঞাপন রয়েছে। এর মধ্যে বিবিসি ট্রেন্ডিং তাদের এক গবেষণায় দেখেতে পেয়েছে, অন্তত ২৬টি বিজ্ঞাপনকে ফেসবুক রাজনৈতিক তালিকায় ফেলেছে।

এই ২৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হ্যাট বা টুপি তৈরি করে এমন প্রতিষ্ঠান, ফ্যাশন বুটিক, অনলাইন গয়না বিক্রির প্রতিষ্ঠান, ম্যাগাজিন, কফি কোম্পানি ইত্যাদি।

এখন এই একই ধরণের মার্কিন বা ব্রাজিলিয়ান প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক তালিকায় যুক্ত করা হয়নি। কিন্তু যুক্তরাজ্যে করার কী কারণ?

ছবির কপিরাইট FACEBOOK
Image caption ভারতের লোক গানের এক আসরের বিজ্ঞাপনও রাজনৈতিক তালিকায় রয়েছে

ডাটাবেসে যে প্রতিষ্ঠানটিকে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সেই হ্যাট বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কনসেপ্ট ক্যাপ জানিয়েছে, বিবিসি তাদের সঙ্গে যোগাযোগের আগ পর্যন্ত তারা বিষয়টি খেয়ালই করেননি।

প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের পণ্যের কোন রকম রাজনৈতিক বার্তা নেই।

তবে, শুরুতে নিয়ম মাফিক তারা একটি ফর্ম পূরণ করেছিলেন, যা জমা দেবার পর তাদের কাছে নোটিফিকেশন পাঠানো হয়েছিল, যে তারা চাইলে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি পোষ্ট করতে পারবে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ফেসবুকে কেনাকাটার তথ্য, সবই কাজে লাগবে বিক্রেতাদের?

দাঙ্গা-সহিংসতার তান্ডব কেন বারবার মুম্বাইতেই?

শিশু জারিফ অপহরণ: যেভাবে নাটকের সমাপ্তি

তরুণরা এবার আওয়ামী লীগকে কতটা সমর্থন দেবে?

ঘটনার সূত্রপাত

রাজনৈতিক হিসেবে চিহ্নিত বিজ্ঞাপনের তালিকা দেখে বিবিসি ফেসবুক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাতে মনে হয়েছে, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমের এই বিভাগটি সম্ভবত কোন মানুষ দ্বারা পরিচালিত হয় না।

ছবির কপিরাইট FACEBOOK
Image caption কফি, গয়না আর বিউটি ট্রিটমেন্টের বিজ্ঞাপনও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের ডাটাবেসে

বরং সেটি কোন রোবট বা যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বিবিসিকে জানিয়েছে, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে। তবে, অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দেবার সময় নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে বুঝতে না পেরে অনেক বিজ্ঞাপনদাতাই 'রাজনৈতিক' বক্সে টিক দেন---এমনটাও হতে পারে বলে ফেসবুক মনে করে।

গত মাসে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ একটি নতুন ডাটাবেস তৈরির ঘোষণা দেয়, যেখানে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের তালিকা সংরক্ষণ করা হবে।

ডাটাবেসে প্রতিটি বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু এবং সেটি ফেসবুকে প্রচারের জন্য কে পয়সা দিয়েছে, সে তথ্যও যুক্ত করা হবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, যুক্তরাজ্যের মত এই লাইব্রেরী যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিলে ইতিমধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে।

এই মূহুর্তে ডাটাবেসে নিজের বিজ্ঞাপনটি তালিকাভুক্ত করা বাধ্যতামূলক নয়।

আরো পড়ুন:ব্রিটেনে পাঁচ লাখ পাউন্ড জরিমানার মুখে ফেসবুক

ফেসবুকের ভুল স্বীকার করলেন জাকারবার্গ

পুলিশের মাঝে জাঙ্গিয়া পরা ব্যক্তিটি আসলে কে?

সংসদ নির্বাচন: শুরু হয়েছে তুমুল নেতিবাচক প্রচারণা

‘শোকরানা মাহফিল’ নিয়ে যত আলোচনা

কিন্তু কর্তৃপক্ষের আশা নিকট ভবিষ্যতেই ফেসবুকে দেয়া সব ধরণের 'রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন' সমূহের সকল তথ্য ডাটাবেসে বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হবে।

ফেসবুকের এ সিদ্ধান্ত নেবার কারণ, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর তথ্য অপব্যবহার এবং ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সামাজিক এই মাধ্যমটির ভূমিকা নিয়ে অব্যাহত রাজনৈতিক চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ফেসবুক।

স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নতুন যে টুল ফেসবুক চালু করছে তার মাধ্যমে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনের স্বচ্ছতা কতটা নিশ্চিত করা যাবে।

গত মাসে ভাইস নিউজের একজন সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রের ১০০জন সিনেটরের পক্ষে ভুয়া বিজ্ঞাপন কেনার জন্য আবেদন করেছেন।

এর পর বিজনেস ইনসাইডারের একজন রিপোর্টার ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা থেকে অর্থ পেয়েছেন এমন একটি ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।

এছাড়া যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের এক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, বেক্সিট নিয়ে প্রচারণা চালানো কিছু ভুয়া প্রচারণা চলছে।

তবে, সেসব বিজ্ঞাপনের পেছনে কারা আছে সে সম্পর্কে তথ্য দিতে ফেসবুক অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এর মধ্যে আটটি দেশের আইনপ্রনেতারা ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিকা রাখা এবং ভুল তথ্যের ব্যপারে প্রমাণ হাজির করার আহ্বান জানিয়েছেন।