সংসদ নির্বাচন: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন কোন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী বাছাই করেছে

খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপি আজ তাদের দলের মনোনীত প্রার্থীদের চিঠি দিতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গতকাল তাদের প্রার্থীদের চিঠি দিয়েছে। দুই দলই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা এবং প্রতিপক্ষের কৌশলের ওপর অনেক বেশি জোর দিচ্ছে।

তবে দল দু'টি তাদের নিজ নিজ জোটের সাথে বণ্টন করা আসনের বিষয়ে এখনও কিছু প্রকাশ করেনি।

প্রার্থী বাছাই-এ বিএনপির বিবেচনা

এবারই প্রথম বিএনপি তাদের দলের শীর্ষ নেত্রী খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন করছে। তিনি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছেন।

তাঁর নির্বাচনে অংশ নিতে পারার বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। সেটি বিবেচনায় থাকলেও বিএনপি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে খালেদা জিয়াকে তিনটি আসনে প্রার্থী করেছে। বিকল্প প্রার্থীর চিন্তাও দলটি করে রেখেছে বলে জানা গেছে।

খালেদা জিয়াকে তাঁর পুরনো ফেনী-১ এবং বগুড়া ৬ ও ৭ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে।

বিএনপি নেত্রীর দলীয় মনোনয়ন সম্পর্কিত চিঠি তাঁর প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তরের মধ্য দিয়েই দলটি তাদের প্রার্থীদের চিঠি দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। সে সময় সাংবাদিকদের সামনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য দিতে গিয়ে কেঁদেছেন।

দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, এবার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে তারা বড় ধরনের ঝুঁকি নেননি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মনোয়নপত্র বিক্রি করার সময় বিএনপির অফিসের সামনে নেতা-কর্মীদের ভিড়

আরও পড়তে পারেন:

‘ক্লিন ইমেজের ক্যান্ডিডেট’ বলতে কী বোঝেন প্রার্থীরা?

নির্বাচন: কীভাবে দলগুলো প্রার্থী বাছাই করে

দুই রাজনৈতিক জোটে আসন ভাগাভাগির কতদূর?

বিএনপি তাদের সিনিয়র কিছু নেতার আসন ছাড়া বেশির ভাগ আসনে মূল প্রার্থীর পাশাপাশি বিকল্প প্রার্থীও রেখেছে। দলটির নেতারা বলেছেন, মামলা এবং ঋণ খেলাপির প্রশ্নসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রেখে দু'জন করে প্রার্থী রেখেছেন, যাতে একজন বাদ পড়লে আরেক প্রার্থী বহাল থাকে।

এছাড়াও কোন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত মাঠে টিকে থাকতে পারবেন সেবিষয়টিকেও বিবেচনা করেছে বিএনপি। কারণ তারা ধরেই নিয়েছেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা পাবেন না।

দীর্ঘ ১০ বছর পর নির্বাচন করছে বিএনপি। এই সময়ে দলের কঠিন সময়েও যারা মাঠে সক্রিয় ছিল তাদেরকে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে দলটি।

সেই বিবেচনায় বিএনপির ভেতরে প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত বড় রকমের কোন চমক চোখে পড়েনি।

আওয়ামী লীগের কৌশল

অন্যদিকে আওয়ামী লীগে বর্তমান সংসদের তাদের দলীয় ৩৮ জনের মতো সংসদ সদস্য বাদ পড়েছে এবং নতুন মুখ এসেছে ৪৬ জনের মতো।

ক্রিকেটার মাশরাফির প্রার্থী হওয়ার চমক এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বড় কোন ঝুঁকি নেয়নি।

২০১৪ সালে একতরফা যে নির্বাচন হয়েছিল তাতেও আওয়ামী লীগের আগের সংসদের ৪৮ জন সদস্য বাদ পড়েছিলেন।

কক্সবাজারের আব্দুর রহমান বদিসহ বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে দু'একজনকে বাদ দেওয়া হলেও, তাদের পরিবার থেকেই অন্য সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কোন মন্ত্রী বা এমপি বাদ পড়লে তারা দুর্নীতির কারণে বাদ পড়েছেন- এমন আলোচনার আশঙ্কাতেও আওয়ামী লীগ সেই ঝুঁকি নেয়নি।

Image caption ধানমন্ডির কার্যলয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ফরম কিনতে যাচ্ছেন

আরো পড়তে পারেন:

বিশ্বে একদিনে খুন হয় যতো নারী

বৈবাহিক সম্পর্কে ধর্ষণ: সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া নজরদারির নির্দেশ

এছাড়াও টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে যেসব জায়গায় মাঠ পর্যায়ে কোন্দল বেড়েছে সেটি সামাল দেওয়ার ব্যাপারও মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিবেচনা রেখেছে।

যারা জিতবেন বলে দলটি পুরোপুরি নিশ্চিত হয়েছে তাদেরকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো- চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করছেন। বিবিসিকে তিনি বলেছেন, এবার নির্বাচনে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন।

জোটের হিসাব নিকাশ

তবে এই প্রধান দুই দলই এখনও তাদের স্ব স্ব জোটের সাথে আসন ভাগাভাগির বিষয়কে প্রকাশ করেনি। বিএনপির পুরনো ২০ দলীয় জোটে তাদের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী থেকে আসনের চাহিদা কিছুটা বেশি।

বাকি দলগুলোর জন্য বেশি আসন ছাড়তে হবে না বলে বিএনপির নেতারা বলেছেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুটো দলকেই তাদের জোটের শরিক দলগুলোকে বিবেচনায় রেখে প্রার্থী বাছাই করতে হচ্ছে।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোকেও বেশি সংখ্যক আসন তাদেরকে ছাড়তে হচ্ছে না।

দলটির নেতারা বলছেন, তারা দুই দলের শরিকদের জন্য ৫০টির মতো আসন ছেড়ে দিতে পারেন। মওদুদ আহমদ বলছিলেন, শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ আজ সোমবার তাদের জোটের শরিকদের সাথে আসন বণ্টনের হিসাব নিকাশ প্রকাশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা তা করেনি।

১৪দলীয় জোট, জেনারেল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবং নতুন শরিক অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টের সাথে ভাগাভাগিতে সব মিলেয়ে ৭০টির মতো আসন ছাড়তে চায় আওয়ামী লীগ। এইচ টি ইমাম বলছিলেন, শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও প্রার্থীর জনপ্রিয়তাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, বড় দুই দলই শরিকদের সাথে আসন ভাগাভাগিতে সিদ্ধান্তে এসেছে। তবে কৌশলগত কারণে তারা এখনই সেটা প্রকাশ করতে চাইছে না।

অবশ্য বুধবারই মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন।