মনোনয়নপত্র জমা শেষ: সবার নজর খালেদা, জামায়াতের দিকে

সারাদেশে ৩ হাজার ৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে: বলছে নির্বাচন কমিশন ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption সারাদেশে ৩ হাজার ৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে: বলছে নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেবার শেষ দিনে অন্যতম বড় দুই ঘটনা ছিল প্রধান বিরোধীদল বিএনপির কারাভোগরত নেত্রী খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা পড়া, এবং নিবন্ধনহীল দল জামায়াতে ইসলামীর এই ঘোষণা যে তারা ২৪টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে।

বুধবার দুপুরে বগুড়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি চেয়ারপার্সন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্থানীয় নেতা, পৌরসভা মেয়র এ. কে.এম মাহবুবুর রহমান।

সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন, খালেদা জিয়ার নির্বাচন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এ আসনে আরো কয়েকজন বিএনপি নেতাও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

দু বছরের বেশি মেয়াদের কারাদন্ডপ্রাপ্ত কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না - একটি মামলায় এ মর্মে হাইকোর্টের এক রায়ের পর খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে গুরুতর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা বলছেন, আইনী পথ এখনো আছে বলে তারা মনে করেন, তবে প্রশ্ন হলো এর জন্য হাতে যথেষ্ট সময় আছে কিনা।

জামায়াতে ইসলামীর ২৪ জন ধানের শীষ প্রতীক পাচ্ছেন

বিএনপির ২০দলীয় জোটের শরীক দল জামায়াতে ইসলামী বিএনপির কাছ থেকে ২৪টি আসন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একজন নেতা।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়া দল জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন।

ডা. শফিকুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, রংপুরের একটি আসনে তার ভাষায় 'প্রশাসনের বাধার কারণে' তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সম্ভব হয় নি।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

এখনও কেন চূড়ান্ত হয়নি দুই দলের সিট ভাগাভাগি

কোন কোন বিবেচনায় প্রার্থী বাছাই: বিবিসির চোখে

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কতটা আছে?

বাংলাদেশে নির্বাচনী জোট করা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Image caption বাংলাদেশের প্রধান দলগুলো ইতিমধ্যেই একাধিক জোট গঠন করেছে নির্বাচনের আগে

তাই প্রথমে ২৫টি আসনে জামায়াতের জোটগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা প্রথমে শোনা গেলেও এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৪টিতে।

ডা. রহমান জানান, আরো কিছু আসনে তাদের প্রার্থীর জোটগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যাপারে আলোচনা এখনো চলছে।

অন্যদিকে, বিএনপির আরেক জোট ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কতজন প্রার্থী ধানের শীষ নিয়ে লড়বেন তা এখনো জানা যায় নি।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার ড. হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এক বৈঠকে বিএনপির সাথে সিট ভাগাভাগি নিয়ে কোন ফয়সালা হয়নি। পরে জোটের শরীকরা নিজেদের মত করে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তিন হাজার ছাপ্পান্নটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে: নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সারা বাংলাদেশে ৩০৫৬টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

তিনি জানান, দলগতভাবে কোন দল কত মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে তা বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হবে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৩০শে ডিসেম্বর

মি. হেলালউদ্দিন বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেবার সময় কোন অনিয়মের ঘটনা ঘটেনি।

সকল প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

কে কোথায় মনোনয়নপত্র জমা দিলেন

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মঙ্গলবার গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া) ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির নেতারা। গোপালগঞ্জের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।

জাতীয় পার্টি জানিয়েছে, দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের পক্ষে ঢাকা-১৭ ও রংপুর-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনিসংহ-৪ ও ৭ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন দলটির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ।

বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনহীন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার পক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন জমা দেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান আকন্দ।

বিএনপির অপর নির্বাচনী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের নামে কোন মনোনয়নপত্র জমা পড়ে নি। মি. হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, বয়সের কারণেই তিনি নির্বাচন করছেন না।