স্বামীর হাতে ধর্ষণের খবরে কেন আপত্তি?

Image caption বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত রিপোর্ট

স্বামীর হাতে ধর্ষণ: বাংলাদেশে এক নারীর অভিজ্ঞতা

বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে স্বামীর হাতে ধর্ষণের ওপর খবরটি নিয়ে আপনারা অনেকেই নানা রকম মন্তব্য করেছেন। শাই ম্যান এহসান লিখেছেন: বিবিসি বাংলার কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, বর্তমান অ্যাডমিনকে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে নিয়ে হেডলাইন করার ব্যাপারে আরো সতর্ক করার আহ্বান জানাচ্ছি।

রবিউল আলম মন্তব্য করেছেন: বিয়ের পর স্ত্রী স্বামীর দ্বারা কিভাবে ধর্ষিত হয়ে থাকে? গাঁজাখুরি নিউজ পোস্ট থেকে বিরত থাকুন। বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, ধর্ম নিয়ে বেশি পাকামো করতে যাবেন না।

একই প্রসঙ্গে মো. অলিউল্লাহ লিখেছেন: বিবিসি বাংলা সম্প্রতি 'স্বামীর হাতে ধর্ষণ' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে স্ত্রীর অনিচ্ছায় স্বামীর সহবাসকে 'ধর্ষণ' আখ্যায়িত করে স্বামীদের বিরুদ্ধে স্ত্রীদেরকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যক্তি স্বাধীনতার পুরাতন মোড়কে প্রচারিত এ ধরনের প্রতিবেদন দিনদিন ভঙ্গুর হতে থাকা দাম্পত্য সম্পর্কগুলোর ধ্বংসকে আরো ত্বরান্বিত করবে। সাধারণ দাম্পত্য জীবনে জোরপূর্বক সহবাসের ঘটনা কতো পার্সেন্ট ঘটে থাকে? যে দু'চারটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে, তা বন্ধু ও সঙ্গীসূলভ আবদার এবং বোঝাপড়া থেকেই হয়, যা দাম্পত্য জীবনেরই অংশ। দাম্পত্য সম্পর্কগুলো টিকে থাকে বোঝাপড়ার ওপর। স্ত্রীও অনেক বিষয়ে স্বামীর কাছে বায়না ধরেন এবং কিছুটা জোর করে আদায় করেন। যৌ-জীবনে এগুলো উভয়পক্ষের কাছেই সহনীয়, বরং কখনো কখনো এনজয়ের। এটাকে স্বাধীনতা-খর্ব বলে দাবি করা মূর্খতা কিংবা ধূর্ততা।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ আপনাদের মতামত পাঠানোর জন্য। সংখ্যার দিক থেকে স্বামীর হাতে ধর্ষণের ঘটনা কম ঘটে থাকতে পারে। কিন্তু সমস্যাটি যে সত্যি বাংলাদেশের সমাজে রয়েছে, তাকে উপেক্ষা করলে চলবে না। আর তাছাড়া আমাদের রিপোর্টে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনাও কম হয়। সমালোচনাই বেশি হয়। আর ঠিক সে জন্যেই বিষয়টা তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা মনে করি।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption বাংলাদেশের ওয়ান-ডে ক্রিকেট অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচন করছেন।

প্রায় একই প্রসঙ্গে এই ইমেইল পাঠিয়েছেন জাকির হোসেন:বিবিসিকে বলতে চাই, আপনারা আজকাল দেখি বেশি করে নারী অধিকার নিয়ে পোষ্ট করেন। আসলে নারীদের অধিকার নিয়ে এতো বেশি পোষ্ট করার কারণ কি? আমি মনে করি বাংলাদেশে নারীরা ভালো আছে। যদি তারা ইসলাম ধর্মের মতো করে চলে তাহলে আমি মনে করি তারা এইসব সমস্যায় পড়বে না। আর আপনারা যদি মনে করেন বাংলাদেশের নারীরা যেমনটা চায় তেমনটা তারা করতে পারবে, তাহলে এটি মোটেও ভালো নয়। এবং আশাকরি এমন পদক্ষেপ বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। বাংলাদেশে যে নারীরা তাদের অধিকার নিয়ো বেহুদা কথা বলে, তারা কি জানে আমেরিকায় বাংলাদেশের তুলনায় অনেকগুণ বেশী নারী ধর্ষিত ও অত্যাচারিত হয়?

মি. হোসেন আপনার মতামতের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে, কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে আমি মোটেই একমত হতে পারছি না। নারী অধিকার নিয়ে খবর প্রচার করা বিবিসির নীতিমালার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের শ্রোতা-দর্শকদের একটা বড় অংশ নারী। আমাদের সমাজ-জীবন তাদের ছাড়া অচল। এখন বাংলাদেশের নারীরা আদৌ ভাল আছেন কিনা, সেই সার্টিফিকেট নারীরাই দেবেন, আপনি দিতে পারেন না। আর নারীদের অবস্থা নিয়ে কোন প্রসঙ্গ উঠলেই তার সাথে পশ্চিমা দুনিয়ার তুলনা দেয়াটা একটা খোঁড়া যুক্তি ছাড়া আর কিছু নয় বলেই আমি মনে করি। আপনাকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে এ সপ্তাহেও আপনারা নানারকম মন্তব্য করছেন, মতামত পাঠাচ্ছেন। মো. মিজানুর রহমানের ইমেইল: রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের এক নম্বর বিষয় হওয়া উচিত বিনা মূল্যে চাকরির আবেদন ফর্ম পূরণের নিশ্চয়তা দেয়া, যেটা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ড. আতিউর রহমান করে গেছেন। একটা পদে আবেদন করতে যদি ৭০০-১০০০ টাকা লাগে সেটা একজন বেকারের পক্ষে যে কতটা বেদনার তা কেবল সেই বোঝে । তাই, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এটাই দাবি যে ব্যাংকের চাকরির মতো অন্যান্য চাকরিতেও বিনামূল্যে আবেদন করতে চাই। তাতে একটু হলেও বেকারদের বোঝা কমবে।

একই ব্যাপারে আমাদের আরেক শ্রোতা মো. তারেকুল ইসলাম লিখেছেন: নির্বাচনের ইশতেহারে যুক্ত হোক: ১. সরকারি চাকরিতে বয়স-সীমা ৩৫ করার অঙ্গীকার। সবার টাইমলাইনে তরুণদের চাহিদা তুলে ধরা। ২. শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব হ্রাস করার অঙ্গীকার। ৩. দেশের যে কোন চাকরিতে আবেদন ফ্রি করা এবং ইন্টারভিউ নিজ উপজেলায় রেখে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে করা। ৪. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর শিক্ষা ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, এবং সম্পূর্ণ খরচ রাষ্ট্রের বহন করা। ৫. শিক্ষিত তরুণদের রাষ্ট্র চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে তাদের জন্য বেকারভাতার ব্যবস্থা করা।

মি. রহমান এবং মি. ইসলাম, আমাদের জানামতে নির্বাচনী প্রচার শুরুর সময়টিতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ইশতেহার প্রকাশ করবে। আপনি হয়তো জানেন যে এবার প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজারের মতো নতুন ভোটার ভোটদান করবেন, এবং এরা সবাই বয়সে তরুণ ও প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। সুতরাং, তরুণ ভোটারদের মন জয় করা এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। আপনাদের চিঠির জন্য ধন্যবাদ।

এবারের নির্বাচনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কী হতে পারে তা নিয়ে আপনারা মতামত পাঠিয়েছেন। এ সম্পর্কে সোহেল খান লিখেছেন: আসন্ন নির্বাচনে মিডিয়ার একঘেয়েমি প্রচার আর ভালো লাগে না। তারা যেটা করতে পারে যেমন সারা পৃথিবীর গণতান্ত্রিক দেশের একাধিকবার নির্বাচিত ভালো ও গ্রহণীয় নেতাদের বা এম. পিদের জীবনী তুলে ধরা, যাতে মানুষ সহজে বুঝতে পারে যে কাদের ভোট দিলে তার উপকার হবে, নেতার চলন-বলন, আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত, সম্পদের প্রতি লোভ থাকা উচিত কি না, দেশের প্রতি কিভাবে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাতে পারেন ইত্যাদি।

নির্বাচনে দলের ভেতরে বিদ্রোহ নিয়ে বিবিসি প্রবাহ টিভিতে প্রচারিত রিপোর্ট।

মি. খান। আইডিয়াটা ভাল। কিন্তু এসব বিষয় তো বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের সারা বছর ধরে প্রচার করা উচিত। শুধুমাত্র নির্বাচনের আগে-ভাগে এসব প্রচার করলে কী তাতে ভাল ফল পাওয়া যাবে?

নির্বাচনের সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির প্রসঙ্গে লিখেছেন মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি। তিনি মনিজা রহমান গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক: বিবিসি বাংলা আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ রেডিও, প্রবাহ টেলিভিশন ও ওয়েবসাইট -- এই তিন মাধ্যমেই প্রচার করছে যা আমরা শ্রোতা, দর্শক ও পাঠকরা উপভোগ করছি। অনেকে বলছেন, সরকারের সাজানো প্রশাসনের ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছে বিরোধী জোট। বিবিসির কাছে আমার প্রশ্ন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা কতটা সম্ভব?

মিজ ফেরদৌসী, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতা তৈরির চ্যালেঞ্জ যে রয়েই গেছে সে সম্পর্কে আমরা সরেজমিন রিপোর্টে প্রকাশ করেছি। প্রবাহ টিভিতে সেটা হয়তো আপনারা দেখেছেন। তবে বিরোধী দলগুলো এখনও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা ধরে রেখেছে বলেই মনে হচ্ছে। ফলে আপনি যে ফাঁদের কথা বলছেন, সেটা আদৌ সত্যি হবে কি না, তা জানা যাবে ভবিষ্যতে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ঢাকার ধানমন্ডী থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামলের এই চিঠি: বেশ কয়েক সপ্তাহ থেকে বিবিসি নিউজ বাংলার টিভি অনুষ্ঠানে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা, প্রতিবেদন পাচ্ছি। যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের চিত্র সরাসরি তুলে ধরা হচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে মাঠ পর্যায়ে কোন দল নির্বাচন নিয়ে কতটা ব্যস্ত তাও জানতে পারছি। অপরদিকে রেডিওতেও প্রতিদিন পাচ্ছি নির্বাচন নিয়ে গরম গরম খবর এবং বিশ্লেষণ। বসে নেই আপনাদের ওয়েবসাইট পাতাও। টিভি প্রবাহ অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং চৌকস সাংবাদিক কাদির কল্লোল-এর বিশ্লেষণ খুবই ভাল লাগছে। সব মিলিয়ে আমরা নির্বাচন বলয়ের ভেতরে আছি এবং সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন চমক-পূর্ণ আর আগ্রহপূর্ণ।

ছবির কপিরাইট REHMAN ASAD
Image caption টেলিভিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নুরুল হুদার ভাষণ

সংসদ নির্বাচন: সব দল সমান সুযোগ পাচ্ছে কি?

আমাদেরও তাই মনে হচ্ছে, মি. শামীম উদ্দিন। এবারে নির্বাচনটিকে বিবিসি কিভাবে কভার করবে সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এমদাদুল হক বাদশা, ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী থেকে: বিবিসির বিভিন্ন বিশেষ প্রতিবেদনে আমি মুগ্ধ তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন কিভাবে স্বচ্ছ হতে পারে তার জন্য বিবিসির কি কি পরিকল্পনা রয়েছে জানতে পারলে আমরা কিছু সংযোজন-সমৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা করতে পারি।

মি. হক, নির্বাচনী কভারজের ওপর আমাদের পরিকল্পনার কিছু কাজ এখনও চলছে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হচ্ছে স্বচ্ছতা। তাই এবারের নির্বাচনে আমাদের যেসব সাংবাদিক দায়িত্ব পালন করবেন, তারা প্রত্যেকেই স্বচ্ছতার সাথে কাজ করবেন। তারা কোথায় যাচ্ছেন, কী দেখছেন, সেগুলো সরাসরি আপনাদের সামনে হাজির করবেন। পুরো পরিকল্পনাটি আমি এখনেই ফাঁস করতে চাইছি না। শুধু আপাতত এটুকুই জানিয়ে রাখতে চাই আমাদের অতীত যে কোন নির্বাচনী কভারেজ থেকে এবারের কভারেজ হবে অনেকখানি আলাদা। রেডিও, টিভি, অনলাইন এবং সোশাল মিডিয়াতে আপনারা নানা ধরনের, নানা স্বাদের খবরাখবর পাবেন। আশা করি সেগুলো আপনারা উপভোগ করবেন।

একই বিষয়ে এই পরামর্শ দিয়েছেন সুমন, রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে: নির্বাচনের দিনে নির্বাচন পরিস্থিতি ও ফলাফল কিছুক্ষণ পর পর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে আপডেট দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি। নির্বাচন পরিস্থিতির কিছু ভিডিও খবর আপলোড করলে ভালো হত। এই প্রথম সব দলের অংশগ্রহণে ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচন, তাই এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মি. সুমন, নির্বাচনকে সামনে রেখে শুধু ভোটের দিনেই নয়, তার অনেক আগে থেকে আমরা অনেকগুলো ফেসবুক লাইভের পরিকল্পনা করছি। আর আপনি যেমনটি বলছেন, ওয়েবসাইটে লাইভ পেজও চালানো হবে অনেকবার। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

ফেক নিউজের পাশাপাশি ফেক ওয়েবসাইটের সমস্যা নিয়ে বাংলাদেশে এখন বেশ কথাবার্তা চলছে। যেমনটা বলছেন ফাইজুল হক নোমান: আমি বিবিসি বাংলার একজন নিয়মিত শ্রোতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী। আমি অনেক দিন ধরে বিবিসি বাংলা নামের সাথে মিল রয়েছে এমন একটি পেজ দেখছি। আর অনেক মানুষই বিভ্রান্ত হয়ে পেজটিতে লাইকও দিয়েছে। এমনকি আমার অনেক বন্ধুও পেজটিতে লাইক দিয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক ভুয়া খবর ছড়ানোর সম্ভাবনা আছে। যা মানুষ সহজেই বিবিসি বাংলার প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে। আমি বিষয়টিতে খুবই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। আশা করি যদি সম্ভব হয় বিবিসি বাংলার কর্তৃপক্ষ এসব ভুয়া পেজ বন্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

Image caption ফেক নিউজ নিয়ে বিবিসির সেমিনার।

ফেক নিউজ: ভুয়া ওয়েবসাইট কীভাবে চিনবেন

ধন্যবাদ মি. হক, ফেসবুকের ঐ পেজটি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। নির্বাচনের সামনে এই সমস্যাটি ইদানীং প্রকট হয়ে উঠছে। বিবিসি বাংলা নামধারী বেশ কিছু ভুয়া সাইট আমরা বন্ধ করেছি। এধরনের ফেক সাইট চালানোর জন্য বাংলাদেশের পুলিশ বেশ কিছু লোককে গ্রেফতারও করেছে। শ্রোতাবন্ধুরা, বিবিসি বাংলার নামে এধরনের ফেক ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুকের কোন পেজ চোখে পড়লে, আমাদের দ্রুত জানিয়ে দিন। ফেক নিউজের বিরুদ্ধে বিবিসির অবস্থান বেশ কঠোর।

নির্বাচনের সময় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার নিয়ে পর পর দুটি চিঠি। প্রথমে আহসান কবির: বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন কয়েকটি সংসদীয় আসনে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট নেয়ার কথা বলছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে অনেক সময় ভোট পুনর্গণনা প্রয়োজন পরে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করলে কি ভোট পুনর্গণনা কোন সুযোগ আছে? এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন আশা করছি।

এরপর মো.আসাদুজ্জামান সুজন, খুলনার খালিশপুর থেকে: জাতীয় নির্বাচনের বিভিন্ন নিয়ম কানুন ও ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে একটি প্রতিবেদন আমাদের সবার উপকারের জন্য প্রচার করার জন্য অনুরোধ করছি। স্বল্প সময় যেহেতু এখন আপনাদের, তাই অনুষ্ঠানে না পারলেও আপনাদের ওয়েবসাইটে এবিষয়ে একটি পোস্ট দিলে আমরা সেটা পড়ে নিতে পারবো।

মি. আসাদুজ্জামান, ইভিএম-এর ব্যবহার সম্পর্কে ধোঁয়াশা রয়েছে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যেই। সেই বিভ্রান্তি কেটে গেলেই আমরা এনিয়ে খবরাখবর প্রচার করতে পারবো বলে আশা করছি। আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।

নির্বাচনের সময় সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার সম্পর্কে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দেব প্রসাদ রায়, রংপুরের অভিরাম বাবুপাড়া থেকে: আসন্ন সংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ঠেকাতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জোরালো পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি ভাল উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তবে যেটা দেখা যায়, বাংলাদেশে অতীতে গুজব ঠেকানো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। তাই আমি মনে করি, নির্বাচনের আগে সাত দিন এবং নির্বাচনের পরে সাত দিন অন্তত ফেসবুক একেবারেই বন্ধ রাখা হোক।

মি. রায় ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার পরামর্শ নির্বাচন কমিশন কতটুকু মেনে নেবে তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। ফেসবুক তো বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি না। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কেন এধরনের দাবি মেনে নেবে বলুন? তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে, তা কি শুধু ফেসবুক বন্ধ করে সামাল দেয়া যাবে? সোশাল মিডিয়ায় আরও কত পথ রয়েছে!

একই বিষয়ে লালমনিরহাটের বড়কমলবাড়ি থেকে লিখেছেন মো. আব্দুল হক: বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঘোষণা করেছেন নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ থাকবে । আমি বিবিসির মাধ্যমে জানতে চাই নির্বাচনের ২৪ আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া কি ঠিক হবে?

মি. হক এই খবরটি আপনি কোথা থেকে পেয়েছেন তা আমার জানা নেই। যতটুকু জানি এধরনের কোন কথা নির্বাচন কমিশনের তরফে বলা হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সাথে বৈঠক করেছে এবং সেখানে জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় আচরণবিধি ভঙ্গ করা হচ্ছে কি না, কিংবা কোন ধরনের মিথ্যে খবর, গুজব ইত্যাদি প্রচার করা হচ্ছে কিনা, সে সম্পর্কে নজরদারী করা হবে। আপনি যে খবরটা শুনেছেন সেটা নিশ্চয়ই ফেক নিউজ।

এবার একটি ইমেইল আলফা সানির কাছ থেকে: ২০১০ সালে BBC World Service প্রযোজিত বিশ্বাস নামে একটি বাংলা টিভি সিরিজ BTV তে সম্প্রচার করা হত। বিশ্বাস টিভি সিরিজটি যদি আপনাদের আর্কাইভে থাকে তাহলে তা পূনপ্রচার কিংবা Youtube এ আপলোড করার অনুরোধ করছি। বর্তমানে সোশাল মিডিয়ায় এই টিভি সিরিজটির প্রতি অনেককেই আগ্রহ প্রকাশ করতে ও খুঁজতে দেখা গেছে।

আপনার পরামর্শ আমরা অবশ্যই বিবেচনা করবো। ইউটিউবে আজকাল বাংলা নাটক দেখা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই বিশ্বাসকে সেখানে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। আপনার এই অনুরোধ আমরা বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সহকর্মীদের জানিয়ে দেব। ধারাবাহিকটি তারাই বানিয়েছিলেন। ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট হান্নান তারেক
Image caption বাড়ি ফিরে আসার পর জারিফকে মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন মা।

সন্দ্বীপের শিশু জারিফ অপহরণ: যেভাবে নাটকের সফল সমাপ্তি হলো

বছর শেষ হয়ে আসছে সে কথাই মনে করিয়ে দিলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের হাসান আল সাইফ: আমি সেই ২০১১ সাল থেকে বিবিসি বাংলা শুনি। বিগত কয়েক বছরের বর্ষ-পরিক্রমার বিশেষ প্রতিবেদনগুলো খুব ভাল লেগেছে। বিবিসির কাছে জানতে চাই এ বছর কি বিবিসি বাংলা বর্ষ-পরিক্রমা প্রচার করবে? নাকি বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের তলায় তা চাপা পড়বে‌‌? জানালে খুশি হবো।

আমার ধারণা আপনার আশঙ্কাই সত্যি হতে যাচ্ছে মি.সাইফ। সাধারণত ঐ বর্ষ-পরিক্রমাগুলো প্রচারিত হয় ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে। কিন্তু ভোট গ্রহণ হবে ৩০শে ডিসেম্বর। তার জন্য ঐ সময়টাতে আমাদের সবাই খুবই ব্যস্ত থাকবেন। আপনারাও ঐ সময়টাতে আমাদের কাছ থেকে নির্বাচনের খবরই বেশি আশা করবেন, তাই নয় কি?

প্রীতিভাজনেষু সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন নিয়মিত পত্রলেখক মুকুল সরদার, খুলনার দাকোপ থেকে: শ্রোতাদের কাছে বিবিসি বাংলার জবাবদিহিতার অনুষ্ঠান প্রীতিভাজনেষু, যাকে ওয়েবসাইটে আমরা এডিটর্স মেইলবক্স নামে পাচ্ছি। আমি আগেই জানিয়েছি, অনলাইনে মেইল নির্ভর চিঠি-পত্রের অনুষ্ঠানের জন্য এডিটর্স মেইলবক্স নামটি যথার্থ হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, রেডিওতে প্রীতিভাজনেষুর জন্য যেমন নির্দিষ্ট একটি সিগনেচার টিউন আছে তেমনি ওয়েবসাইটে এডিটর্স মেইলবক্সের জন্য নির্দিষ্ট একটি প্রচ্ছদ কেন নয়?

নয় এই কারণে, মি সরদার, যে রেডিওতে যেটা খাটে সেটা অনলাইনে নাও খাটতে পারে। রেডিওতে সিগনেচার টিউন শুধুমাত্র সঙ্গীত না, এর মাধ্যমে একটি অনুষ্ঠানের শুরু ও শেষ বোঝানো হয়। অনুষ্ঠানটি কখন শুরু হবে, তাও বোঝানো হয়। অনলাইনে তো এই সমস্যা নেই। তাছাড়া একই ছবি বছরের পর বছর দেখানো হলে আপনার কাছেই বিরক্তিকর হয়ে উঠবে না? কী মনে হয় আপনার? ধন্যবাদ।

আমাদের একটি খবরের প্রশংসা করেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান: আপনাদের ওয়েবসাইটে সন্দ্বীপের শিশু জারিফের শ্বাসরুদ্ধকর অপহরণ নাটকের অবসান নিয়ে প্রতিবেদনটি পড়লাম। এলাকার একদল উদ্যমী তরুণদের একান্ত সহযোগিতায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন শিশু জারিফকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বলতেই হবে এটি তরুণদের এক ধরণের সাহসী উদ্যোগ এবং অন্যান্য সমাজের তরুণদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তরুণ সমাজ যেখানে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধে জড়িত, সেখানে এধরণের অপরাধ অবসানে তরুণদের সামাজিক উদ্যোগ এক কথায় অসাধারণ ও চমৎকার। তাছাড়া, এক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতামূলক মনোভাবও সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আসলে পুলিশের স্বদিচ্ছাই প্রমাণ করে পুলিশের কাছে অসম্ভব বলতে কিছু নেই।

মি. রহমান, রিপোর্টটি ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগছে। আপনাদের এসব প্রশংসা আমাদের অনেক উৎসাহ যোগায়। ধন্যবাদ আপনাকে।

তবে একটি অভিযোগ ঢাকার ছাত্র ধীমান বিশ্বাসের কাছ থেকে: বিবিসি বাংলার সংবাদ আমার খুবই প্রিয়। এটি আমাকে প্রতিদিনের সর্বশেষ সংবাদ জানতে খুবই সহায়তা করে। আমার একটি অভিযোগ আছে। বিবিসি বাংলাতে প্রায়ই শুনি যখন কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাক্ষাকার নেয়া হয় বা যে কোন বিষয়ে মতামত দিতে বলা হয় তখন তিনি প্রায়ই বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে কথা বলেন। তারা কেন এটি করেন? বাংলাতে বললে কি সবাই বুঝতে পারবে না? এটি শুনতে খারাপ লাগে। মনে হয় এই বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে কথা বলা আমার মাতৃভাষা বাংলাকে ছোট করার সমান।

আপনি ঠিকই বলেছেন মি. বিশ্বাস। যতটা সম্ভব বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে কথা না বলাই উচিত। তবে কি, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা এত বিদেশি শব্দ ব্যবহার করি যে সেগুলো এখন আমদের ভাষার অংশ হয়ে গিয়েছে। ধরুন, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ইত্যাদি শব্দ বাদ দিয়ে কী চলা সম্ভব? তবুও চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/