ঢাকায় ছেলের মৃতদেহ নিয়ে বাবা আত্মসমর্পণ করলো - যা জানা যাচ্ছে

বাংলামটর এলাকায় একটি বাসা ঘিরে রেখেছে পুলিশ ছবির কপিরাইট Google Maps
Image caption বাংলামটর এলাকায় একটি বাসা ঘিরে রেখেছে পুলিশ

বাংলাদেশের ঢাকার বাংলামোটরের একটি বাড়ি ঘিরে কয়েক ঘণ্টা 'জিম্মি' পরিস্থিতির পর অবশেষে সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বাবা।

দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে কাফনে মোড়ানো সন্তানের মৃতদেহ নিয়ে দোতলা থেকে নীচে নেমে আসেন বাবা নুরুজ্জামান কাজল।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বিবিসি নিউজ বাংলাকে জানিয়েছেন, বাবা এবং জীবিত শিশুটিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মৃত শিশুটি ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে - সেটা জানার পরে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বাসার ভেতরে একজন ব্যক্তি তার দুই সন্তানকে নিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন।

পুলিশ বারবার অনুরোধ করার পরেও তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

বিশ্বে প্রথমবার মৃত নারীর জরায়ু থেকে শিশুর জন্ম

বিএনপির তৃণমূল নেতা কর্মীরা ভোটের মাঠে নিরুদ্যম কেন

ইরানি নারীদের কিভাবে ফুটবল মাঠে আনবে ফিফা?

যে কারণে আপনার এলার্জি বাড়তে পারে

পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, তখন অন্য ছেলে গলায় ছুরি ধরে নুরুজ্জামান কাজল বলেছিলেন, তাকে ধরার চেষ্টা করা হলে ক্ষতি হয়ে যাবে।

স্থানীয় একটি মাদ্রাসার একজন খাদেমও তার সঙ্গে আটকা পড়েন।

তিনি বলেছেন, "আপনাদের কারো সাহায্য লাগবে না, আপনারা কেন এসেছেন? আপনারা চলে যান।"

সেই সময় থেকে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাড়িটি ঘিরে রাখে।

এরপর পুলিশের কর্মকর্তারা বাইরে থেকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও, তিনি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখেন।

এ সময় বাংলামোটর এলাকায় অসংখ্য উৎসুক মানুষ ভিড় করে।

তবে দুপুরের পর তিনি নিজে থেকেই বের হয়ে আসেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় মসজিদের একজন মৌলভীকে দোয়া করানোর জন্য ওই ব্যক্তিতে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি সেখানে একটি শিশুকে অচেতন এবং সাদা কাপড় জড়ানো অবস্থায় দেখতে পান।

পরে তিনি বেরিয়ে এসে শাহবাগ পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি।

পুলিশ বলছে, দোতলা এই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দুই সন্তানকে নিয়ে বাস করেন নুরুজ্জামান কাজল। শিশু দুটির একজনের বয়স পাঁচ, আরেকজনের বয়স প্রায় তিন বছর বলে জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মারুফ হোসাইন সরদার বিবিসিকে বলছেন, ''এই ব্যক্তি মানসিকভাবে খানিকটা অসুস্থ বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই কারণে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। তবে দুই সন্তান তার সঙ্গেই বসবাস করতো।''

নুরুজ্জামান কাজল এর আগে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।