গান্ধীর 'বর্ণবাদ' আর ঢাকায় রিকশাচালক পেটানো

দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে এক কারাগারে বর্ণবাদ-বিরোধী প্রদর্শনীতে মোহনদাস গান্ধীর আবক্ষ দেখছেন একজন তরুণী। ছবির কপিরাইট Jeff Greenberg
Image caption হুমকির মুখে: দক্ষিণ আফ্রিকায় এক কারাগারে বর্ণবাদ-বিরোধী প্রদর্শনীতে মোহনদাস গান্ধীর আবক্ষ।

যে মানুষকে সারা বিশ্বে অহিংস আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয় তিনি হচ্ছে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। কিন্তু সম্প্রতি আফ্রিকায় কয়েকটি দেশে তাঁর মূর্তি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। মি: গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের শাসনের সময় কৃঞ্চাঙ্গদের নিচু চোখে দেখতেন।

এ বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে তানাকা রহমান:

''শুক্রবার আপনাদের ওয়েবসাইটে 'বর্ণবাদী গান্ধীর মূর্তি উৎপাটন গানার বিশ্ববিদ্যালয়ে' শীর্ষক সংবাদটি পড়লাম। গান্ধীকে বলা হয় ভারতের জাতির পিতা। গান্ধী বর্ণবাদী ছিলেন শুনে অনেকে হয়তো অবাক হবে কিন্তু আমি অবাক হইনি। গান্ধীজী অহিংস নীতির মাধ্যমে বিখ্যাত হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু মার্টিন লুথার কিং কিংবা নেলসেন ম্যান্ডেলার মতো অন্তরের কালিমা দুর করতে পারেননি। গানার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যে কাজটি করেছে, আমি মনে করি তারা সঠিক কাজটিই করেছে, কারণ ইচ্ছের বিরুদ্ধে কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়।''

আপনাকে ধন্যবাদ তানাকা রহমান। মোহনদাস গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা কালে বর্ণবাদী মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন, তা নিয়ে অনেক তথ্য আছে। তবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় তিনি বর্ণবাদী মনোভাব ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে অনেকে মনে করেন। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে তাঁর বর্ণবাদ ভাবমূর্তি দূর হয়নি।

ছবির কপিরাইট Dan Kitwood
Image caption টেরেসা মে: ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বের হতে বিপাকে।

এবারে ব্রিটেনেরে রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি বড় ঘটনা নিয়ে একটি চিঠি। লিখেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''এ'মাসের ১৩ তারিখে 'ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে আস্থা ভোটে টিকে গেলেন' শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম। বেশ কিছুদিন যাবত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়া ব্রেক্সিট নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি তার দল ও এমপিদের কাছে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছেন । ব্রিটিশ নাগরিকরা যেখানে তাদের সরকারকে ব্রেক্সিট ইস্যু বাস্তবায়ন নিয়ে একটি ম্যান্ডেট দিয়েছে, আমার প্রশ্ন সেখানে তার এমপি ও মন্ত্রীসভার সদস্যদের মতানৈক্যের কারণ কী?''

এর কারণ অনেক জটিল মি: রহমান। ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্য থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে টেরেসা মে'র কনজারভেটিভ পার্টি বরাবরই দু'ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তির দফা-রফা করার জন্যই পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। কিন্তু গণভোটে ইইউ ছাড়ার পক্ষে মত আসলেও, তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ৫২ শতাংশ।

অনেকেই মনে করেন এরকম মৌলিক পরিবর্তনের জন্য এটা যথেষ্ট না। তখন থেকেই দলের ভেতরে এবং অন্যান্য দলের এমপিরাও দ্বিতীয় গণভোটের দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু টেরেসা মে ইইউ-র সাথে দর কষাকষি করে যে চুক্তি দাঁড় করিয়েছেন, সেটা কোন পক্ষেরই মন:পুত হয়নি। ফলে ব্রেক্সিটের পক্ষের এমপিরাও এখন মিস মে'কে আর প্রধানমন্ত্রীর পদে দেখতে চাননা। তবে ব্রেক্সিট বা টেরেসা মে'র ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি।

Image caption স্মৃতির পাতা থেকে: বুশ হাউসের এক স্টুডিওতে রবীন্দ্র নাথের কাব্যগ্রন্থ অনুবাদকারী উইলিয়াম র‍্যাডিচে, সাথে আছেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য (বামে) এবং সিরাজুর রহমান।

আমাদের ফোন-ইন নিয়ে একটি অভিযোগ করে লিখেছেন রংপুরের কারমাইকেল কলেজ থেকে হাসিব মাহমুদ মোশাররফ:

''গত ৪ তারিখের ফোন-ইন এ অধিক পরিমাণ যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে । ফোন ইন পরিচালনাকারীও ঠিক মত উপস্থাপন করতে পারেননি । এমনকি পাশ থেকে অনেক ব্যক্তির কথাও শুনা যাচ্ছিল । তাই আমি বলতে চাই ফোন-ইন এর মত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ ধরনে সমস্যা হওয়া উচিত না ।''

আমি আপনার সাথে একমত মি: মোশাররফ, গত সপ্তাহের ফোন-ইন ব্যবস্থাপনায় বেশ ত্রুটি ছিল। তবে এটাও ঠিক যে, অনেক সময় টেলিফোন লাইনে সমস্যা হলে আমাদের করার কিছু থাকেনা। অন্যান্য সব অনুষ্ঠানের মত ফোন-ইনকেও আমরা গুরুত্বের সাথেই নেই, এবং এর ব্যবস্থাপনা যাতে মানসম্পন্ন হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো। আপনাকে ধন্যবাদ।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে একজন নারী রিক্সা আরোহীকে দেখা যাচ্ছে রিক্সা চালককে পেটাতে। সেই নারীর সাক্ষাৎকার নিয়ে যে প্রতিবেদন বিবিসি বাংলায় প্রকাশ করা হয়, তা পড়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''আপনাদের প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার আগেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। একজন নারী হিসাবে ভিডিওটি দেখে আমি সত্যিই লজ্জাবোধ করছি। তার ভাবভঙ্গীতেই বোঝা যায় তিনি একজন ক্ষমতাধর নারী। ঐ নেত্রীর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে দুঃখ প্রকাশ করছেন। ভাইরাল না হলে হয়তো কেউ জানতো না এবং তিনি দুঃখবোধও প্রকাশ করতেন না। আমরা নারী অধিকার চাই, কিন্তু এর নামে কোন ক্রমেই এর অপব্যবহার চাই না''

এখানে বোঝা যাচ্ছে এটা নারী-পুরুষের ব্যাপার না, মিস ফেরদৌসি। । এখানে যিনি ক্ষমতাধর, তিনিই অত্যাচারী রূপে আবির্ভূত হয়েছেন। তার এই আচরণে নারী অধিকারের বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমার মনে হয় না। আপনাকে ধন্যবাদ। (বিবিসি বাংলার সাথে আলোচিত ব্যক্তি সুইটি আক্তার শিনুর সাক্ষাতকার শুনতে এখানে ক্লিক করুন )

ঘটনাটি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থেকে ফরিদুল হক:

''গত ১১ ই ডিসেম্বর ফেসবুকে এক রিকশাওয়ালাকে মারার ভিডিওটা দেখলাম। মহিলার কথা বার্তা কিংবা ফিজিক্যালি মুভমেন্ট ছিল অত্যন্ত নোংরা। এই ঘটনার মাধ্যমে কি প্রকাশ পায় না যে, শুধু নারীরাই নয় পুরুষেরাও নির্যাতিত হয়? এটা কি দেশের জন্য লজ্জাজনক নয়?''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি: হক, নির্যাতনের বিষয়টি শুধু পুরুষের মাঝে সীমাবদ্ধ না। ক্ষমতাধর নারীও অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাহীন পুরুষের ওপর অত্যাচার করতে পারে। তবে আমি বলবো না যে, ঘটনাটি দেশের জন্য লজ্জাকর। আমার মতে লজ্জা এখানে একজনেরই পাওয়া উচিত এবং সেটা হচ্ছে নির্যাতনকারী রিক্সা আরোহী। আপনাকে ধন্যবাদ।

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন নীলফামারীর জলঢাকা থেকে মোহাম্মদ মনির হোসেন:

''বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে দেখলাম মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকায় রিকশাচালককে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আওয়ামী লীগ থেকে অভিযুক্ত নারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু এখানে আমার কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না যে, অভিযুক্ত নারীকে কেন বহিষ্কার করা হয়েছে? তার অপরাধের জন্য সে শাস্তি পাবে, এজন্য আইন রয়েছে। দল থেকে তাকে সতর্ক করে দিতে পারতো কিন্তু বহিষ্কার কেন?''

আওয়ামী লীগ কেন মহিলাকে বহিষ্কার করলো, সে প্রশ্নের জবাব দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না মি: হোসেন। তবে ডিসেম্বর মাস নির্বাচনের মাস, সেকারণে হয়তো দল দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে হ্যাঁ, এখানে যেহেতু শারীরিক নির্যাতনের বিষয় আছে, মামলা অবশ্যই হওয়া উচিত । আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption লাইভ খবর: সব বাধা টপকে সংসদে যাবে কে?

আমাদের অন্য এক আয়োজনে সন্তুষ্ট হয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বুধবার আওয়ামী লীগ ও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট তথা বিএনপি জোট তাদের কিছু ঐতিহ্য মেইনটেইন করে নিজ নিজ প্রচারণা শুরু করে। যা বিবিসি তাদের ওয়েবসাইটে প্রচার করেছে লাইভ পাতা দিয়ে। সারা দিন ধরে ছিলো লাইভ সংবাদ। যখন যেখানে যা ঘটছে, তার সব কিছু জানতে পেরেছি তাৎক্ষনিক। যেটা আমাকে বেশ উচ্ছ্বসিত এবং আনন্দিত করেছে। আশা করি নির্বাচনের দিন এবং ভোট গণনার সময় কিংবা নির্বাচনের এরকম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পাবো এরকমই লাইভে তাৎক্ষণিক টাটকা টাটকা!''

অবশ্যই পাবেন মি: শামীম উদ্দিন। আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিন বেছে নিয়েছি যেদিন গুলোতে আমাদের ওয়েবসাইটে লাইভ পাতার মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট পাবেন। সেদিনগুলোর মধ্যে ভোটের দিন এবং তার পরের দিন অবশ্যই থাকবে।

ফেসবুকে Verified Page নিয়ে একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন বরগুনার উত্তর মনসাতলী থেকে রেদওয়ান উল্লাহ:

''বিবিসি বাংলাকে লেখা এটাই আমার প্রথম ইমেইল। গত ৮ই নভেম্বর প্রীতিভাজনেষু অনুষ্ঠানে শুনতে পেলাম বিবিসির আসল ফেসবুক পেইজের সামনে সবুজের মধ্যে সাদা টিক চিহ্ন থাকবে। আমি জানতে চাই সব আসল ফেসবুক পেইজের সামনে কি সবুজের মধ্যে সাদা টিক চিহ্ন থাকে? যদি থেকেই থাকে তাহলে বাংলাদেশ বেতার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর ফেসবুক পেইজে নেই কেন?''

আমি সবুজ বলি নি মি: রেদওয়ান উল্লাহ, আমি বলেছিলাম নীলের ভেতরে সাদা টিক চিহ্ন। তবে যাই হোক, আপনি ভাল প্রশ্ন করেছেন। ফেসবুকে এই টিক চিহ্ন দিয়ে Verified করার জন্য যাদের পেজ তাদেরই উদ্যোগ নিতে হয়। ফেসবুক নিজ থেকে এটা করে দেয় না। আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ বেতার বা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর তেমন কোন মাথা ব্যথা নেই এবং পাতা Verify করার কোন উদ্যোগ নেয়নি।

Image caption বিবিসি নিউজ বাংলা নামের পাশে নীল বৃত্তে সাদা টিক চিহ্ন।

মুখ ফসকে ভুল শব্দ বা নাম বেরিয়ে যাওয়া নতুন কিছু না আর আমাদের বেলায় সেটিই হয়েছে এগারো তারিখের প্রবাহ অনুষ্ঠানে। সে কথা মনে করিয়ে দিলেন কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আরমানুল হক:

শাকিল আনোয়ারের কণ্ঠে ভারতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপি'র ভরাডুবির খবর শুনছিলাম। এই তিনটি রাজ্যের বিস্তারিত বর্ণনা করতে গিয়ে শাকিল আনোয়ার বললেন "এই তিনটি রাজ্যেই ক্ষমতায় ছিল বিএনপি"। আমি যদি ভুল না শুনে থাকি, এটি ভুল ছিল।

আপনি ভুল শোনেননি মি: হক। আসলেই শাকিলের মুখ ফসকে বিজেপির জায়গায় বিএনপি বেরিয়ে গিয়েছিল। কোন ভুলকেই আমার তুচ্ছ করে দেখি না, তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের খবর নিয়ে কথা বলতে বলতে আমাদের সবার মাথায়ই শুধু বিএনপি আর আওয়ামী লীগই ঘুরছে। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা অবশ্যই দু:খিত। আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ভাষা ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তুলেছেন কুড়িগ্রামের পাংগা থেকে মোহাম্মদ মিনহাজুল ইসলাম:

বিবিসি বাংলার নিউজে ইসলাম নিয়ে মাঝে মাঝেই চুলকানিমূলক খবর প্রকাশ করে। 'পিরামিডে নগ্ন ভিডিও চিত্র' শিরোনামে প্রচারিত নিউজে বলেছে রক্ষণশীল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। প্রসঙ্গ এটা আসবে কেন? প্রতিটি দেশের নিজস্ব আইন ও সংবিধান আছে। কেউ তার ঊর্ধ্বে নয়।

মিশর একটি মুসলিম-প্রধান দেশ এবং বেশ রক্ষণশীল। সেখানে কোন অসত্য লেখা হয়নি। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মিশরের এই পরিচয় ঘটনার জন্য প্রাসঙ্গিক কি না। আমাদের মতে সেটা প্রাসঙ্গিক ছিল, যেহেতু পিরামিডের ওপর নগ্ন ছবি নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দেশটির রক্ষণশীলতার কারণে। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
মানবতার দেয়াল

পরের চিঠি লিখেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে হাসান আল সাইফ:

গত ৭ই ডিসেম্বর শুক্রবারে প্রবাহ অনুষ্ঠানে শাকিল আনোয়ারের বাংলাদেশে মি-টু আন্দোলনের পরিণতি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন টি শুনলাম। আসমা- উল হুসনা নামে একজন তার সাথে ঘটে যাওয়া যৌন হেনস্থা ৫ বছর পর প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ৫ বছর পর এই ধরনের অপরাধীদের কি বিচারের আওতায় আনা সম্ভব?

বিচার দায়ের করার ব্যাপারে কোন আইনগত বাধা আছে বলে আমার জানা নেই মি: আল-সাইফ। তবে সমস্যা হবে আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে অভিযোগ প্রমাণ করা। শুধু পাঁচ বছর যে অতিবাহিত হয়েছে তাই নয়, এ'ধরণের অপরাধে বেশির ভাগ সময় কোন সাক্ষী থাকে না। তবে হ্যাঁ, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি দুই, তিন চার, পাঁচজন নারী একই ধরণের অভিযোগ আনেন, তাহলে হয়তো অভিযুক্ত ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে আদালতের স্পষ্ট ধারণা হবে।

মি-টু আন্দোলনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে নারীদের ভয়-ভীতি ভেঙ্গে দেয়া, যাতে তারা অধিক সংখ্যায় এগিয়ে এসে তাদের ওপরে চালানো নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে। আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের নির্বাচন কভারেজ নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষিরার পাটকেলঘেটা থেকে মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন:

আমি অনেক দিন ধরে আশা করছি বিবিসি বাংলা এবার জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা নয়, প্রতিটা জেলা শহরে আপনাদের প্রতিনিধি পাঠাবে, কারণ সব কিছু ঢাকায় বসে ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। তা না পারলে হবে বিবিসির ব্যর্থতা।

আপনার আশা আমরা পূরণ করতে শুরু করেছি মি: মাতিন। আমাদের সংবাদদাতারা ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে রিপোর্টিং শুরু করেছেন। আর এক সপ্তাহ পরই আরো সংবাদদাতা বিভিন্ন এলাকা থেকে রেডিওতে লাইভ রিপোর্টিং এবং ফেসবুক লাইভ করবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাকামে মাহমুদ চৌধুরী:

একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে নয়, বিবিসির সাংবাদিক হিসেবে আপনারা নিজেকে ঠিক কতটা নিরাপদ বলে মনে করেন অথবা কখনো কি আপনারা সাংবাদিক হিসেবে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছেন? মাঝে মাঝে দেখা যায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক সরকারি বেসরকারি চ্যানেলের সাংবাদিকদের নানা ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয়। বিবিসির বাংলার কোনো সাংবাদিক কি কখনো এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন?

আপনি যে ধরণের নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছেন, বিবিসির সাংবাদিকদের বেলায় সেটা প্রযোজ্য না মি: চৌধুরী। বাংলাদেশের কোথাও আমাদের সাংবাদিকরা কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হননি। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবার কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

হাসান মীর, রাণিবাজার, রাজশাহী।

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, গোয়ালু ডি-এক্স, রংপুর ।

তানজিলুর রহমান, ঢাকা।

এস.এম মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, পার্বতীপুর দোলাপাড়া উপশহর, রংপুর।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ ।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

সম্পদ পোদ্দার বলরাম, শেরপুর, বগুড়া।

এস এম আব্দুস সামাদ, উলিপুর কুড়িগ্রাম।

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

মাসুম বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/