ফেসবুকের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পুলিশ কর্মকর্তা

১৫টি একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ১৫টি একাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক

বাংলাদেশে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজনই ফেসবুক এবং টুইটারের বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু অ্যাকাউন্টের পেছনে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, দেশটির পুলিশ বাহিনীর সাইবার তদন্ত বিভাগের একজন কর্মকর্তা তা নাকচ করে দিয়েছেন।

গতকালই ফেসবুক এবং টুইটার উভয়েই জানিয়েছিল, তারা বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হয় এমন ১৫টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

ফেসবুক এক বিবৃতিতে বলেছিল, এগুলোতে বাংলাদেশের সরকারের সমর্থনে বিভিন্ন কনটেন্ট পোস্ট করা হচ্ছিল এবং এর সাথে সরকার-সংশ্লিষ্ট কিছু লোকের সম্পর্ক আছে বলে তাদের মনে হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি'র সাইবার তদন্ত বিভাগের প্রধান মোল্লা নজরুল ইসলাম ফেসবুকের এই বক্তব্যের সত্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, "এইটা ভাববার বিষয় আছে যে এটা কতটা সত্য। বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের আগে ফেসবুক ব্যবহার করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়। তো এখন দেখতে হবে ফেসবুকের অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে কীনা। যেমন গতকালই আমরা পত্রিকায় দেখলাম, যে আমেরিকান সরকার ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা করছে। তো এই বিষয়গুলো তো খতিয়ে দেখার বিষয় আছে, ফেসবুক কি সব নির্বাচনে নাক গলায় কিনা। পার্টিজান (দলীয়) হয়ে কাজ করছে কিনা।"

ফেসবুক নিউজরুমের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে , একটি তদন্তের পর ''সমন্বিতভাবে ভুয়া কার্যক্রমে লিপ্ত থাকার'' দায়ে এই পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Newsroom.fb.com
Image caption বিবিসি বাংলার মতো করে বানানো ভুয়া খবরের পোস্ট

অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে বিবিসি বাংলার মতো দেখতে একটি নকল একাউন্টও রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এ বছরের সেপ্টেম্বরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করে। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম্যে যেকোন ধরণের ভুয়া খবরের ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে।

আরও পড়ুন:

ভুয়া ওয়েবসাইট কীভাবে চিনবেন?

কীভাবে চেনা যাবে 'ফেক-নিউজ', ঠেকানোর উপায় কী

বিবিসি জরিপ: কেন মানুষ ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে

তাহলে যেসব পেজ এবং অ্যাকাউন্ট বন্ধ করলো ফেসবুক এবং টুইটার - সেগুলোর ব্যাপারে বাংলাদেশের তদন্ত সংস্থা কেন ব্যবস্থা নেয়নি?

বিবিসির এই প্রশ্নের উত্তরে সাইবার তদন্ত বিভাগের প্রধান মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, "ফেসবুকের সাথে আমাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যোগাযোগ হয়। তারা এধরনের কিছু পেলে যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করতো তাহলে আমরা অনুসন্ধান করতে পারতাম। কিন্তু সেটা না করে তারা তাদের মত করে একটা বিবৃতি দিয়েছে। আমাদের কিন্তু কিছু জানায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যদি জানাতো আমরা সেইভাবে ব্যবস্থা নিতে পারতাম।"

মি. ইসলাম বলছিলেন যেহেতু প্রতিষ্ঠান দুটি ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছে তাই এখন তাদের কিছু করার নেই। তবে ভবিষ্যতে তারা আরো সতর্ক থাকবেন।