ভারতে ফাঁস দিয়ে গর্ভবতী নারীর আত্মহত্যার পরও সন্তান প্রসব

নবজাতকের অবস্থাকে স্থিতিশীল বলে বর্ণনা করছেন ডাক্তাররা।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

নবজাতকের অবস্থাকে স্থিতিশীল বলে বর্ণনা করছেন ডাক্তাররা।

গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন গর্ভবতী এক নারী। গোয়াল ঘরে ঝুলছিল তাঁর লাশ। উদ্ধার করতে আসা আত্মীয় স্বজন দেখলেন, সেই অবস্থাতেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন তিনি। মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসে ঝুলছিল নবজাতক শিশুটি।

ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের কাটনী জেলায় ঘটেছে এই ঘটনা। সেখানকার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে নবজাতককে। ডাক্তাররা শিশুটির অবস্থাকে স্থিতিশীল বলে বর্ণনা করছেন।

যা ঘটেছিল:

কাটনী শহরের বাসিন্দা লক্ষ্মী সিং নামের ওই নারী বৃহস্পতিবার আত্মহত্যা করেন গলায় ফাঁস লাগিয়ে। আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন সেই অবস্থাতেই পেট থেকে বেরিয়ে এসে ঝুলছে নবজাতকটি।

মায়ের শরীরের সঙ্গে প্লাসেন্টা বা নাড়ী দিয়ে নবজাতকের শরীর তখনও জুড়ে ছিল।

পুলিশ আর হাসপাতালে খবর দেওয়া হয়, তারপরে মৃত নারীকে হাসপাতালে নিয়ে এসে বাচ্চাটিকে মায়ের শরীর থেকে আলাদা করা হয়।

ইমারজেন্সি এম্বুলেন্স সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা ডাক্তার মাখনলাল সেন বলছেন, "আমাদের কাছে মেসেজ আসে যে এক নারী গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছেন আর তার শরীর থেকে একটি বাচ্চা বেরিয়ে এসেছে। ওখানে গিয়ে দেখি মায়ের শরীরের সঙ্গে নাড়ী দিয়ে জুড়ে থাকা অবস্থায় ঝুলছে শিশুটি। ওই অবস্থাতেই তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি আমরা।"

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়েছিল শিশুটির জীবন রক্ষার জন্য।

কাটনী সিভিল হাসপাতালের সার্জেন, ডাক্তার যশবন্ত ভার্মার কথায়, "ওই নারী নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন। তিনি যখন ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়েছেন, তখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণেই প্রায় দু কেজি ওজনের বাচ্চাটি মায়ের পেট থেকে বেরিয়ে এসেছে। জীবিত অবস্থায় মানুষ অনেক কিছুর ওপরেই নিজের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে, কিন্তু মারা যাওয়ার পরে তো সেই নিয়ন্ত্রণটা থাকে না। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।"

শিশুটির অবস্থা

হাসপাতালে মৃত মায়ের শরীর থেকে বেরিয়ে আসা বাচ্চাটির শারীরিক অবস্থা গোড়ায় বেশ বিপজ্জনক ছিল। কিন্তু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করে চিকিৎসা শুরু করার পরে আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল।

মৃত নারী লক্ষ্মী সিংয়ের স্বামী সন্তোষ সিং বলছেন, পরিবারে সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল। তবুও যে কেন স্ত্রী আত্মহত্যা করল, সেটাই কেউ বুঝে উঠতে পারছে না।

আরও পড়ুন:

সন্তোষ এবং লক্ষ্মীর আগেই চারটি সন্তান রয়েছে - দুটি কন্যা এবং দুই পুত্র।

তিনি জানান,"রোজকার মতো পুরো পরিবারের সকলে খাওয়া দাওয়া করে রাতে শুয়ে পড়েছিলাম। সকালে ছটার দিকে আমার ঘুম ভাঙ্গে, তখনই স্ত্রীকে দেখতে পাই নি। অন্য বাচ্চাগুলো বিছানাতেই ছিল। স্ত্রীকে খুঁজতে গরুর গোয়ালে গিয়ে দেখি সেখানেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে আর বাচ্চাটা পেট থেকে বেরিয়ে এসেছে।"

পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ এবং মৃত নারীর পরিবার - কেউই এখনও বুঝে উঠতে পারে নি যে লক্ষ্মী সিং কেন আত্মহত্যা করলেন।