রাজকুমারী 'নিখোঁজ' না সংযুক্ত আরব আমিরাতেই আছেন?

ম্যারি রবিনসন, রাজকুমারী শেখ লতিফা ছবির কপিরাইট UNITED ARAB EMIRATES FOREIGN MINISTRY
Image caption জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক হাই কমিশনার ম্যারি রবিনসনের সঙ্গে রাজকুমারী শেখ লতিফা

নিখোঁজ হয়েছেন বা হারিয়ে গেছেন বলে ভাবা হয় এমন একজন আরব রাজকুমারীর ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেখ লতিফার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দূতকে জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, রাজকুমারীর নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত 'মিথ্যা' প্রচারণার জবাব দেয়া হয়েছে তাতে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রাজকুমারী শেখ লতিফা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সাবেক হাই কমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ম্যারি রবিনসনের সঙ্গে বসে আছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "সন্ধ্যায় তার দুজন একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন এমন একটি মূহুর্তের ছবি সেটি, আর তাদের দুইজনের সম্মতির ভিত্তিতে সেটি প্রকাশ করা হয়েছে।"

"রাজকুমারী শেখ লতিফা নিজ দেশে প্রয়োজনীয় সেবা ও সমর্থন পাচ্ছেন বলে ম্যারি রবিনসনের দুবাই সফরের সময় তাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।" তবে, এই বিবৃতির ব্যপারে জাতিসংঘ এখনো কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ছবির কপিরাইট ইউটিউব ভিডিও থেকে
Image caption পালানোর আগে ইউটিউবে ভিডিও ছেড়েছিলেন শেখ লতিফা

কী হয়েছিল রাজকুমারীর?

দুবাই'র শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের কন্যা শেখ লতিফা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম গত মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

৩৩ বছর বয়সী রাজকুমারী মার্চে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

ফরাসী গোয়েন্দা হার্ভি হুবার্টের সহায়তায় তিনি পালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে শোনা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজকুমারীকে ভারতের কাছে এক ইয়ট থেকে ধরে জোর করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আরও পড়তে পারেন:

খুন করে প্রেমিকের মাংস রান্না করলেন এক মহিলা

যে ভারতীয় নারী আমিরাতের প্রথম মহিলা ডাক্তার

তুরস্কের রাস্তার নাম নিয়ে আমিরাতের কেন আপত্তি

মিঃ হুবার্ট ওই ইয়টের মালিক, তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজকুমারী অন্য দেশে অ্যাসাইলাম বা আশ্রয় চাইবার পরেও তাকে জোর করে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

তবে নিখোঁজ হবার পর শেখ লতিফা ইউটিউবে এক ভিডিও পোস্টে জানিয়েছিলেন, তিনি দুবাই থেকে পালাচ্ছেন, কারণ সেখানে তিনি পরিবারের হাতে নানা দুর্ব্যবহারের শিকার এবং তার ওপর নানা ধরণের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ঐ ভিডিও পোস্টে শেখ লতিফা জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা হচ্ছেন দুবাইর শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম এবং মা আলজিরিয়ান হুরিয়া আহমেদ।

ছবির কপিরাইট FRANCOIS NEL/GETTY IMAGES
Image caption দুবাইর শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুম

তিনি এর আগেও দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরের মাসেই দুবাই সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছিল এই পালিয়ে যাওয়া 'রাজকুমারী' দুবাইতে ফিরে এসেছেন।

তবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সে রিপোর্ট নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, তিনি তার পরিবারের সঙ্গেই বসবাস করছেন।

তবে রাজকুমারীর নিখোঁজ থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ কয়েকটি সংস্থা তার হদিস চেয়ে দুবাই এর শাসক বরাবর চিঠিও লিখেছেন।

এ মাসের শুরুতে, দেশটির সরকার প্রথম রাজকুমারীর ব্যপারে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, শেখ লতিফাকে নিয়ে চলা 'গণ মাধ্যমের ধারাবাহিক অনুমান' এর বিষয়টি নিয়ে তারা ব্যথিত।

ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পরিবারের সঙ্গে তিনি ভালো আছেন এবং পরিবার তার জন্মদিন পালনের পরিকল্পনা করছে।