সংসদ নির্বাচন: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।
Image caption প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের ওপর অব্যাহত সহিংস হামলার জন্য 'দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায়' প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট।

বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের এক জরুরি বৈঠকের পর এ দাবি জানানো হয়।

ফ্রন্টের নেতারা মঙ্গলবার নির্বাচনী সহিংসতার প্রতিকার চেয়ে নির্বাচন কমিশনের সাথে এক বৈঠক করেছিলেন, তবে 'আলোচনা সন্তোষজনক হয় নি' এ অভিযোগ তুলে তারা ওয়াক আউট করেন।

পরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথায় মনে হয় নি যে তিনি বিরোধীদলগুলোর অভিযোগকে কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিএনিপি ও বিরোধীদলগুলোর এসব অভিযোগকে 'ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ বলেছে, নির্বাচন ভন্ডুল করার পরিবেশ তৈরির জন্য নানা চেষ্টা হচ্ছে।

"আওয়ামী লীগ এবং আমাদের অন্য সহযোগী যারা আছেন বিশেষ করে জাতীয় পার্টির যারা - এদের ওপর যে পরিমাণ আক্রমণ হয়েছে, আমাদের এ পর্যন্ত ৫ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন ৩০০-র ওপর আহত হয়েছেন" - বিবিসি বাংলাকে এ কথা বলেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে পাল্টা অভিযোগ তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

তবে এর আগে থেকেই ব্যাপক সহিংসতার শিকার হবার অভিযোগ করে আসছে বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোর জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

Image caption সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুলসহ ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর

ইসির বৈঠক থেকে ওয়াকআউট ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের

হিন্দু ভোটারদের ঘিরেই নাসিরনগরে যত সমীকরণ

লম্বা চুলদাড়ি, নীল চোখ - এই কি যীশুর আসল চেহারা?

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ক্লিপ নিয়ে এখন যা বলছেন অঞ্জনা

নির্বাচনী সহিংসতার এক ঘটনায় মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র নেতা এবং ঢাকা - ৩ আসনের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক হামলায় আহত হন।

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রচারাভিযান চালানোর সময় লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা হয়। তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনা ঠিক কি হয়েছে এ ব্যাপারে তারা তদন্ত করছে।

নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "আমাদের প্রার্থীদের যেভাবে গ্রেফতার, আক্রমণ, হতাহত করা হচ্ছে, নির্বাচনের পরিবেশন যে সম্পূর্ণ বিনষ্ট করা হচ্ছে তা জানাতে এসেছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে আমরা এটাকে তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন এমন কোন আচরণ পাইনি।"

"সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে এই নির্বাচনকে বানচাল করার চেষ্টা করছে। নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ তারা সৃষ্টি করতে পারছে না।" বলেন তিনি। এই নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মি. আলমগীর।

কিন্তু এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, নির্বাচন ভন্ডুল করার লক্ষ্যে একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে।

"আমরা চাইছি যে বিএনপি নির্বাচনে থাকু্ক" বলেন মি. ইমাম - "সে জন্যই আমরা এত আক্রমণ সত্বেও সবকিছু সহ্য করে যাচ্ছি। তার পরেও এরা যা বলেন, তা যা ঘটছে তার চেয়ে বেশি - রঙচঙ লাগিয়ে অন্যভাবে এটা তুলে ধরছেন।"

"মোটামুটি মনে হয় তারা একটা উইন্ডো (জানালা) খোঁজার চেষ্টা করছেন যে কোনরকমে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায় কিনা।"

নানা অভিযোগ সত্বেও বিএনপির নেতারা অবশ্য বলছেন যে দলটি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে।

আরও পড়তে পারেন:

'আতঙ্কের মধ্যে আছি' - সহিংসতায় উদ্বিগ্ন ভোটাররা

খুলনা-২: তরুণ ভোটারদের চিন্তা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে

নির্বাচনী সহিংসতা ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে