সংসদ নির্বাচন: সহিংসতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, বিতর্ক এড়াতে পারছে না নির্বাচন কমিশন

প্রশ্ন উঠছে যে নির্বাচন কমিশন সহিংসতার ব্যাপারে কঠোর হতে পারছে না কেন? ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রশ্ন উঠছে যে নির্বাচন কমিশন সহিংসতার ব্যাপারে কঠোর হতে পারছে না কেন?

বাংলাদেশে নির্বাচনের মুখে এসেও নির্বাচন কমিশন বিতর্ক এড়াতে পারছে না। প্রশ্ন উঠছে- প্রচারাভিযানের সময় একের পর এক সহিংস হামলার ঘটনাগুলোর ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কতটা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে?

সহিংসতা নিয়ে অভিযোগ অব্যাহত রেখে নির্বাচন কমিশনকে চাপের মধ্যে রেখেছে বিরোধীদল বিএনপি এবং তাদের জোট । তাদের অভিযোগকে 'গুরুত্ব না দেবার' অভিযোগে তারা কমিশনের সাথে বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগও দাবি করেন।

তবে সিইসি কে এম নূরুল হুদা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, আইন অনুযায়ী অভিযোগগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে এই অভিযোগের আগুনে ঘি ঢেলেছেন একজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি 'নির্বাচন আর সহিংসতা একসাথে চলতে পারে না' - এমন বক্তব্য দেয়ার ফলে নির্বাচন কমিশন এক ধরণের অস্বস্তিতে পড়েছে।

শেষ মুহূর্তেও কেন এসব প্রশ্ন বা অভিযোগ থেকে রেহাই মিলছে না নির্বাচন কমিশনের?

বিএনপি এবং তাদের নির্বাচনী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সর্বশেষ অভিযোগ করে যে তাদের প্রার্থী বা সমর্থকদের ওপর প্রায় দুইশ সহিংস হামলার অভিযোগ বা উদ্বেগকে নির্বাচন কমিশন গুরুত্বই দেয়নি, কোন ব্যবস্থাও নিতে পারে নি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও বিএনপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা অভিযোগ করছে যে ৫১টি জেলার ৮৮টি আসনে তাদের নেতাকর্মীদের ওপরই হামলা হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

সিইসির পদত্যাগ দাবি করলেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

'নিরাপত্তা হুমকি'র মুখে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন

'নির্বাচন প্রার্থীদের জন্য একটি উচ্চমানের ব্যবসা'

সেনাবাহিনী নেমেছে, কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টেছে কি?

Image caption নির্বাচন কমিশনের সাথে বিএনপিসহ বিরোধীজোটের নেতাদের বৈঠক

তবে একজন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য সব ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।

তিনি বলছেন, তারা কোন চাপের মধ্যে নেই এবং তারা স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।

কিন্তু বিশ্লেষকদের অনেকে বলেছেন, জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের পর এবারই প্রথম একটি রাজনৈতিক দলের সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে - যাতে সবগুলো দল অংশ নিচ্ছে।

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে বলেই প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্বাচন কমিশনের চাইতে সরকারের প্রভাব বেশি থাকছে - বলছেন এই বিশ্লেষকরা। সেখানে কমিশন কঠোর ভূমিকা রাখতে পারছে না এবং নানা বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

অন্যদিকে একজন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার নির্বাচনের তিন দিন আগে এক বিবৃতি দিয়ে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, "নির্বাচন ও সন্ত্রাস একসঙ্গে চলতে পারে না। এবারের নির্বাচনকে সব পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে না পারলে জাতির আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে।"

এর আগেও এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে বিভিন্ন সময় কমিশনার মাহবুব তালুকদার বিভিন্ন ইস্যুতে ভিন্নমত তুলে ধরেছেন এবং সংবাদমাধ্যমের কাছেও সেই বক্তব্য দিয়েছেন।

ছবির কপিরাইট নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট
Image caption নির্বাচন কমিশনের একটি অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

তাঁর এবারের বক্তব্য নিয়েও অন্য কমিশনাররা কিছু বলতে রাজি নন। তারা মনে করেন,এটি ব্যক্তিগত মতামত।

তবে নির্বাচনের তিনদিন আগে মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য কমিশনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে বলে কমিশনের সূত্রগুলো বলছে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেছেন, কমিশন শুরু থেকেই আচরণবিধি নিয়ে প্রার্থীদের চাপের মধ্যে রাখতে পারে নি। সেজন্য প্রার্থীরাই অভিযোগ দিয়ে কমিশনকে চাপের মধ্যে ফেলেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে, বিএনপি নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত এবং প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়তে পারেন:

সংসদ নির্বাচন: দেখে নিন কার ইশতেহারে কী আছে?

'মুসলিমরা সপ্তাহে একদিন নামাজ পড়লেই শান্তি নষ্ট?'

জাপানে চাকরির লোভে অর্থ লেনদেন না করতে পরামর্শ