সংসদ নির্বাচন: জামায়াতের ২৫ নেতার প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে রুল হাইকোর্টের

জামায়াতের ২৫ প্রার্থীর নির্বাচন করতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে আদালত। ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption জামায়াতের ২৫ প্রার্থীর নির্বাচন করতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে আদালত।

জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেটা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, জামায়াতের ২৫ প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ রুল জারি করেন।

রিটের পক্ষে এই আবেদনটি উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর। তাদের দাবি, ওই নেতারা এখনও জামায়াতের বিভিন্ন পদে বহাল আছেন।

এর আগে, সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ২৫ প্রার্থীর নির্বাচন করতে আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছিল আদালত।

ওই প্রার্থীরা যখন তাদের মনোনয়ন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেন তখন এর বিরুদ্ধে কেউ কোন আপিল না করায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করার এখন আর কোন সুযোগ নেই বলে জানান নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী মোঃ ইয়াসিন খান।

আজ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা ওই রিট আবেদনের শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ওই ২৫জন প্রার্থীর মনোনয়নের বিরুদ্ধে কেউ আপিল না করায় নির্বাচন কমিশন তাদের মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করে প্রতীক বরাদ্দ করেছেন।"

"এ কারণে তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত রূপলাভ করেছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করার আইনগত আর কোন সুযোগ নেই।"

ওই ২৫ জামায়াত নেতার মধ্যে ২২ জন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এবং বাকি তিনজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান।

আরো পড়ুন:

নিবন্ধন নেই, তবু কেন প্রার্থী ঘোষণা জামায়াতের

জামায়াত নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের ভাবনা কী?

'ভোটে লড়তে পারবেন জামায়াতের নেতারা'

প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে রিট

এর আগে ১৭ই ডিসেম্বর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ওই ২৫ নেতার প্রার্থীতা বাতিল চেয়ে রিট আবেদন করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপূরী, দলটির সমাজ কল্যাণ সচিব মো. আলী হোসেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এর সভাপতি হুমায়ুন কবির ও সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মো. এমদাদুল হক।

তাদের দাবি ওই ২৫ প্রার্থী মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এই কারণে নির্বাচনে তাদের প্রার্থিতা বাতিলের জন্য তারা এই আবেদন করেন।

এরপর আদালত তিন কার্য দিবসের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেন।

গত ২৩শে ডিসেম্বর জামায়াতের ওই ২৫ নেতার প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোন সুযোগ নেই বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

Image caption জামায়াত-ই-ইসলামীর লোগো

ইসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট:

নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপূরীর পক্ষে গতকাল রিট আবেদন করেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর।

তিনি রিটের পক্ষে শুনানি করেন। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন যে আদেশ দিয়েছে সেটা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এ কারণে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল জামায়াতের ওই নেতাদের প্রার্থীতা বাতিল করা।

পরে আদালত আজ সেই শুনানি নিষ্পত্তির তারিখ ঘোষণা করে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সংশোধন:

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হলেও এবার তাদের ২৫জন নেতাকে প্রার্থীতা দেয় ইসি।

আগের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে দলীয় প্রার্থী হতে হলে তিন বছর সংশ্লিষ্ট দলের সদস্য পদে থাকার যে বিধান ছিল সেটি সংশোধিত আদেশে বিলুপ্ত করা হয়।

এ কারণে এখন যে কোন ব্যক্তি যেকোন দল থেকেই সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। জামায়াত নেতারা মূলত সেই সুযোগটি নিয়েছে।