হাজার বছরের প্রথা ভেঙে শবরীমালা মন্দিরের ভেতরে পা রাখলেন দুই নারী

আদালতের রায়ের সমর্থন নিয়ে নারীরা গত ডিসেম্বর মাসেও মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করিছলেন। ছবির কপিরাইট Kaviyoor Santosh
Image caption আদালতের রায়ের সমর্থন নিয়ে নারীরা গত ডিসেম্বর মাসেও মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করিছলেন।

দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করে ৫০ বছরের কম বয়সী দুই নারী ইতিহাস গড়েছেন।

বুধবার খুব ভোরে পুলিশ পাহারা নিয়ে এই দুই নারী ভগবান আয়াপ্পার মন্দিরে প্রবেশ করেন।

এর আগেও অবশ্য এরা দুজন মন্দিরে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন।

কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই দুই নারীর মন্দিরে প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাদের দুজনকে যে পুলিশী নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল, সেটাও জানিয়েছেন তিনি।

জানা গেছে এই দুই নারীর একজন পেরিনথালমন্নার বাসিন্দা বিন্দু, অন্যজন কন্নুরের বাসিন্দা কণকদুর্গা।

গত মাসেও এই দুজন মন্দিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সমর্থকদের ব্যাপক বাধার মুখে তারা ফিরে আসেন।

গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সী নারীরাই প্রবেশ করতে পারবেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুরুষ এই মন্দিরের পুজায় অংশ নেন।

আরো পড়তে পারেন:

নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে বিএনপির তৃণমূলে হতাশা

মহাজোটে আছে, মহাজোটেই থাকতে চায় জাতীয় পার্টি

বিশ্বে কি নতুন আরেকটি স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা হলো?

কিন্তু এতদিন বেশ কয়েকজন সেই রায় অনুযায়ী মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন ভক্তদের বাধায়।

বহু মানুষ যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস করেন যে ভগবান আয়াপ্পা এক ব্রহ্মচারী দেবতা, তাই ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে যে সময়ে ঋতুমতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেই বয়সের নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।

বিজেপি এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকেই গোটা রাজ্য জুড়ে মন্দিরে নারীদের প্রবেশাধিকারের বিরুদ্ধে এবং পরম্পরা বজায় রাখার সমর্থনে জোরদার প্রচার - মিছিল - ধর্মঘট করেছে।

বুধবার ভোরে মন্দিরে দুই নারী প্রবেশ করার পরে প্রধান পুরোহিত মন্দির বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

প্রধান পুরোহিত পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে দুই নারী প্রবেশ করার কারণে মন্দির অপবিত্র হয়ে গেছে, তাই শুদ্ধিকরণ দরকার।

পরে অবশ্য মন্দিরের দরজা ফের খোলা হয়েছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption নারীর প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে কেরালার নারীরা প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার দীর্ঘ এক মানব বন্ধন তৈরি করেন।

সম্পর্কিত বিষয়