গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কাঠামো নিয়ে সমঝোতা: শ্রমিকরা মানবেন?

Image caption সমঝোতার পর যৌথ বিবৃতি

বাংলাদেশ মজুরি কাঠামো নিয়ে সংকট নিরসনে সরকারের একটি পর্যালোচনা কমিটি সব পক্ষের সাথে জরুরি বৈঠকের পর জানিয়েছেন মজুরি কাঠামো সংশোধন করা হয়েছে ও তাতে একমত হয়েছে সব পক্ষই।

যদিও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এর সভাপতি বাবুল আক্তার বলেছেন, তারা একমত হয়েছেন সত্যি কিন্তু তারা এতে সন্তুষ্ট কিনা তা নিয়ে কিছু বলতে রাজী হননি তিনি।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "খুশি মনে কিনা জানিনা। কিন্তু যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে শ্রমিকদের গ্রেডগুলো পুনরায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে যুতটুকু বাড়ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট কিছুই বলবো না। আমরা সবাই একমত হয়েছি।"

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আমরা তা মেনে নিয়েছি। শ্রমিকরা রাস্তায় না নেমে যেনো মালিকদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেয়"।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

'খুশিতে,ঠ্যালায়,ঘোরতে': এনিয়ে কেন এতো মাতামাতি

মোবাইল ‍সেটও নিবন্ধন করতে হবে: যা জানা দরকার

ভারতের নরমাংসভুক হিন্দু সাধুদের বিচিত্র জীবন

বিমানে মাতাল যাত্রীকে নিয়ে আসলে কী হয়েছিলো

শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রমিকদের বিক্ষোভ

এর আগে মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ শ্রমিকদের আগামীকাল থেকেই কাজে ফেরার আল্টিমেটাম দিয়েছিলো।

সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন কাল থেকে যারা কাজে আসবেনা তারা কোনো বেতন বা মজুরি পাবেনা।

তবে রোববারও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যেই বিকেলে সব পক্ষের বৈঠক শেষে বাংলাদেশের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজ খান জানিয়েছেন যে মজুরী সংশোধনের তালিকা সম্বলিত একটি কাগজে শ্রমিক নেতারা সহ সব পক্ষই আজ সই করেছেন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেছেন, "কয়েকটি গ্রেডে মূল বেতন আগের থেকে কমে গিয়েছিলো। সেই জায়গাতে তাদের আপত্তি ছিল। আমরা সেই আপত্তির ব্যাপারে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে ভালো করে বসে সমস্যাগুলোকে সমাধান করার চেষ্টা করলাম"।

গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছে ছবির কপিরাইট NURPHOTO
Image caption গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছে

কোন গ্রেডে কেমন পরিবর্তন?

ওই বৈঠকের পর সবাই যে মজুরি কাঠামোতে যৌথ স্বাক্ষর করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১৩ সালের পর গত সেপ্টেম্বরে যে বেতনটি কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিলো সেটির সমন্বয় করা হয়েছে।

যে গ্রেডটির শ্রমিকদের বেতন নিয়ে সবচাইতে আপত্তি উঠেছিলো সেই তৃতীয় গ্রেডের সর্বমোট বেতন ২০১৩ সালে ছিল ৬৮০৫ ছিল।

২০১৮ সালে ঘোষিত কাঠামোতে ঠিক হয়েছিলো ৯,৮৪৫ টাকা। এখন তার সাথে আড়াইশ টাকার মতো যুক্ত হবে। সিনিয়র গ্রেডে যারা আছেন তাদের ৭৮৬ টাকা সংশোধন হচ্ছে। সবচাইতে সিনিয়র যারা অর্থাৎ প্রথম গ্রেডে সাড়ে সাতশোর টাকার মতো যুক্ত হবে।

সাত নম্বর গ্রেড ছাড়া বাকি সবার মোট বেতন কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে। সর্বনিম্ন গ্রেডে সবমিলিয়ে বেতন হল ৮,০০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ গ্রেডে ১৮, ২৫৭ টাকা।

২০১৩ সালের পর নতুন মজুরি কাঠামোতে বিভিন্ন গ্রেডে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা মতো বেতন বেড়েছে।