চোখ মারার ভিডিও খ্যাত প্রিয়া ওয়ারিয়ারকে নিয়ে আবারও আলোচনা ভারতে

ইন্টারনেটে ঝড় তোলা সেই দৃশ্যে প্রিয়া প্রকাশ ওয়ারিয়ার ছবির কপিরাইট Google
Image caption ইন্টারনেটে ঝড় তোলা সেই দৃশ্যে প্রিয়া প্রকাশ ওয়ারিয়ার

প্রিয়া প্রকাশ ওয়ারিয়ারকে মনে আছে? সেই যে 'ওরু আদার লাভ' নামের একটি মালয়লম সিনেমার দৃশ্য - যেখানে এক স্কুল ছাত্রী তার এক সহপাঠীকে চোখ মারছে?

মনে না থাকলেও ওপরের ছবিটা দেখে নিশ্চই মনে পড়ে গেছে?

মনে পড়ারই কথা, কারণ ২০১৮ সালে ওই একটি চোখ মারার দৃশ্যের দৌলতেই প্রিয়া প্রকাশ ওয়ারিয়ার রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশন হয়ে উঠেছিলেন।

যদিও তার অভিনীত ওই ছবিটির শুধু ট্রেলারটাই রিলিজ হয়েছিল, ছবিটি এখনও মুক্তি পায় নি নানা আইনী জটিলতায়, তবে আবারও তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এবার অন্য একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। 'শ্রীদেবী বাংলো' নামের একটি নতুন ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রিয়া। আর আলোচনা শুরু হয়েছে ওই ছবির নাম নিয়ে, ছবিটির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর।

অনেকেই মনে করছেন, প্রয়াত বলিউড নায়িকা শ্রীদেবীর মৃত্যু নিয়ে যত গুজব আর রটনা রয়েছে - ছবিটি তৈরি হয়েছে সেগুলির ওপরে ভিত্তি করেই।

যেভাবে বাথটাবে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছিল, এই ছবিটিতেও সেরকমই একটি দৃশ্য রয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

আলোচিত ভিডিওটি নিয়ে কী বলছেন 'চোখ মারার রানী'

হৃদরোগে নয়, 'পানিতে ডুবে' মারা গেছেন শ্রীদেবী

ছবির কপিরাইট Twitter screengrab
Image caption টুইটারে এবং অন্য সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে এ নিয়ে বিতর্ক

ট্রেলারে আরও নানা ইঙ্গিত রয়েছে, যা থেকে মনে হতে পারে যে প্রয়াত অভিনেত্রীর জীবনের শেষ সময়ের সঙ্গে এই ছবিটির মিল রয়েছে।

যদিও ছবিটির পরিচালক দাবী করেছেন যে ছবিটিতে নামের মিল ছাড়া অভিনেত্রী শ্রীদেবীর জীবনের সঙ্গে কোনও মিল নেই। একই দাবী করেছেন অভিনেত্রী প্রিয়া ওয়ারিয়ারও।

তবে প্রয়াত অভিনেত্রী শ্রীদেবীর স্বামী বনি কাপুর ছবির নির্মাতাদের আইনী নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিস পাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন পরিচালক প্রশান্ত মাম্বুলি। তিনি জানিয়েছেন, নোটিসের জবাব দেওয়া হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption শ্রীদেবী

কিন্তু তারপরেও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা থামছে না।

টুইট করে অনেকেই জানিয়েছেন যে প্রয়াত অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সিনেমা বানানোটা অতি নিম্নরুচির পরিচয়।

শ্বেতা রশমী নামের এক টুইট ব্যবহারকারী লিখেছেন, "ছবিটির নির্মাতাদের লজ্জা হওয়া উচিত।"

"অর্থহীন আর নিম্ন রুচির ট্রেলার। এক প্রয়াত ব্যক্তির প্রতি এত অসম্মান!" - মন্তব্য করেছেন কৃতিকা জৈন নামের আরেক টুইট ব্যবহারকারী।

ইতিমধ্যেই টুইটারে শ্রীদেবীবাংলো নামের হ্যাশট্যাগও তৈরি হয়েছে। নিজেদের মন্তব্য তারা ওই হ্যাশট্যাগের যুক্ত করছেন, অনেকে আবার পরিচালক মাম্মুলি এবং অভিনেত্রী প্রিয়াকেও ট্যাগ করছেন নিজেদের কমেন্টে।

যশদীপ পোকলের মন্তব্য বেশ কড়া। তিনি লিখেছেন, "একজন ভারতীয় আইকনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার নোংরা চেষ্টা হয়েছে। ছবিটা ব্যান করা হোক।"

শুধু ছবি নয়, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার শিকার হচ্ছেন প্রিয়া ওয়ারিয়ারও।

বীরেন্দ্র দুকালে নামের একজন প্রিয়া ওয়ারিয়ারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, "অকারণে খ্যাতি পেয়ে গেলে এটাই হয়।"

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
প্রিয়া প্রকাশের নজর কাড়া সেই চোখের ইশারা

মনিকা মালহোত্রা প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক আর অভিনেত্রীর জবাব নিয়েও।

তিনি লিখেছেন, "হতেই পারে ছবিতে তার নাম শ্রীদেবী আর সে একজন অভিনেত্রী। কিন্তু শ্রীদেবী নামের একজন অভিনেত্রী বাথটাবে দেখানো হচ্ছে আর তারপরেও বলা হচ্ছে যে শ্রীদেবীর জীবনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই?"

খ্যাতির বিড়ম্বনা

একদিকে যেমন রাতারাতি ইন্টারনেট সেনসেশান হয়ে উঠেছিলেন প্রিয়া ওয়ারিয়ার, তেমনই বিতর্কও তার পিছু ছাড়ে নি।

খ্যাতির বিড়ম্বনা বোধহয় একেই বলে!

তার অভিনীত ওই 'ওরু আদার লাভ' ছবিটির ক্ষেত্রে যা হয়েছিল - হায়দ্রাবাদের কয়েকজন মুসলমান পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার মতো কয়েকটি কথা রয়েছে ওই গানটিতে যার ওপরে চোখ মারার দৃশ্যটি দৃশ্যায়িত হয়েছিল।

সেই অভিযোগের মীমাংসা না হওয়ায় ছবিটির মুক্তি এখনও আটকে রয়েছে।

এবার প্রিয়ার নতুন ছবি বিরুদ্ধেও আইনী নোটিস জারী হলো।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

'যৌন হয়রানি বন্ধের নীতিমালা অধিকাংশ কর্তাব্যক্তির অজানা'

টেরিজা মে-র ব্রেক্সিট চুক্তি এভাবে হারলো কেন?

যে অ্যাপ দিয়ে বানানো হয়েছিল সেই ভাইরাল ভিডিও

শেখ দীন মাহোমেদ: কোটি মানুষ কেন খুঁজছে তাকে?

নির্বাচনের ফলকে কীভাবে দেখছেন ভারতীয় গবেষকরা?