ভারতের শবরীমালা মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস গড়া নারী বাড়ি থেকে বিতাড়িত

শ্বাশুড়ির কাছে মার খাওয়ার পরে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কনকদুর্গাকে ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption শ্বাশুড়ির কাছে মার খাওয়ার পরে পুলিশ পাহারায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কনকদুর্গাকে।

দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করে ইতিহাস গড়েছিলেন যে দুই নারী, তাদেরই একজনকে বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না পরিবার।

কনকদুর্গা নামের বছর চল্লিশের ওই নারী এ মাসের গোঁড়ায় শবরীমালা মন্দির থেকে বাড়ি ফেরার পরে তার শাশুড়ি কাঠ দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন।

১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী নারীদের শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ না করতে দেওয়ার যে শতাব্দী প্রাচীন প্রথা রয়েছে, সেই প্রথা বাড়ির বউ হয়ে কেন তিনি ভেঙ্গেছেন - এটাই ছিল কনকদুর্গার শাশুড়ির রাগের কারণ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে মিজ কনকদুর্গা বাড়ি ফিরে দেখেন স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির কেউ সেখানে নেই। বাড়ি তালাবন্ধ।

সমাজ কর্মী থাঙ্কাচান ভিথায়াতিল বিবিসিকে বলছিলেন, "তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন যে সেখানে কেউ নেই। স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তার সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলতে চায় নি।"

"কনকদুর্গার সঙ্গে পুলিশও গিয়েছিল। বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না দেখে পুলিশই নারীদের জন্য তৈরি আশ্রয় শিবিরে নিয়ে যায়।"

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ইজতেমা একটাই হবে, সাদ কান্দালভী আসছেন না

বিমান নিখোঁজ: কে এই হারিয়ে যাওয়া ফুটবলার

অস্ট্রেলিয়া কেন মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক?

চীনের যে অস্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র

থানায় গিয়ে কনকদুর্গা জানতে পারেন যে, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চান না যে তিনি বাড়িতে ফিরুন।

মালাপ্পুরাম জেলার পুলিশ সুপারিন্টেনডেন্ট প্রতীশ কুমার জানিয়েছেন, "তার স্বামী থানায় এসেছিলেন, কিন্তু কনকদুর্গাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে তিনি রাজি হন নি।"

"তবে ওই নারী বারবার বলতে থাকেন যে তার স্বামী যেখানে থাকবেন, সেখানেই তিনি যেতে চান। তখন স্বামী বলেন যে তিনি থানাতেই থেকে যাবেন। আমরা দুজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম।"

পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, এখন বিষয়টি পারিবারিক সহিংসতার পর্যায় চলে গিয়েছে কারণ কনকদুর্গা থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন। এখন বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াবে।

ছবির কপিরাইট AFP/Getty Images
Image caption ৩৯ বছর বয়সী কনকদুর্গা পাহাড়ি পথ বেয়ে শবরীমালা মন্দিরে গিয়েছিলেন।

২রা জানুয়ারিতে ৩৯ বছর বয়সী কনকদুর্গা এবং ৪০ বছরের বিন্দু আম্মিনী পাহাড়ি পথ বেয়ে শবরীমালা মন্দিরে পৌঁছন।

সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়ে সব বয়সের নারীদের ভগবান আয়াপ্পার মন্দিরে প্রবেশ করার অনুমতি দিয়েছিল - সেই রায় কার্যকর করাটাই ওই দুই নারীর উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা গিয়েছে।

তাদের আগে বেশ কয়েকজন নারী ওই রায়কে হাতিয়ার করে মন্দিরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রাচীন প্রথা ভাঙ্গার বিরোধী হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভে আগের সেই সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু মিজ কনকদুর্গা আর মিজ আম্মিনী বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকের পুলিশ পাহারায় মন্দিরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।

সেখানে হাজির তথাকথিত ভক্তরা বুঝতেই পারেন নি যে দুজন নারী মন্দিরে ঢুকেছেন, তাই বাধাও দিতে পারে নি কেউ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুরুষ এই মন্দিরের পুজায় অংশ নেন।

তবে ঋতুমতী বয়সের দুই নারী মন্দিরে প্রবেশ করেছেন এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরেই কেরালা জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এবং প্রাচীন প্রথা টিকিয়ে রাখার পক্ষে হাজার হাজার মানুষ হরতাল পালন করেন।

কিন্তু এখন সেই ইতিহাস গড়া নারী নিজের বাড়িতেই এখন ঢুকতে পারছেন না, আর তাকে পর করে দিতে চাইছেন স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির মানুষ।

থাঙ্কাচান জানান, "বাড়িতে প্রবেশের অধিকার চেয়ে কনকদুর্গা বুধবারই ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কাছে আপিল জানাবেন।"

সম্পর্কিত বিষয়