বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্স - কর্মচারীদের বিক্ষোভ কী নিয়ে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছবির কপিরাইট বিএসএমএমইউ
Image caption বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

স্টাফ নার্স ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে বিক্ষোভ ও পাল্টা বিক্ষোভের জের ধরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো ঢাকার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বা বিএসএমএমইউ'তে।

কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের জন্য নার্সদের একটি অংশ কাজ ছেড়ে বিক্ষোভ করলে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

জবাবে কর্মচারীরাও কাজ ছেড়ে পরিচালকের অফিসের সামনে বিক্ষোভ করে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতাদের কয়েকজন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে এ সমস্যার কারণে ঘণ্টা দুয়েক চরম বিশৃঙ্খল অবস্থার তৈরি হয়েছিলো।

শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শাও নোটিশ দিয়েছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের একজন নেতা ফারুক হোসেন।

নার্স সুপারিটেন্ডেন্ট সান্ত্বনা রাণী দাস বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, দুপুরের মধ্যেই অচলাবস্থা কেটে গেছে ও তারা কোনো কাজ বন্ধ করেননি বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত হলো কীভাবে

নার্স সুপারিটেন্ডেন্ট সান্ত্বনা রাণী দাসের অভিযোগ, বুধবার সকালে একজন নার্সের স্বামীকে মারধর করেছে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।

" ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ আখ্যায়িত করে একজন নার্সের স্বামীর গায়ে হাত দেয়া হয়েছে। তিনি কোনো ভুল করলেও তো এভাবে গায়ে হাত দিতে পারেনা"।

কর্মচারী নেতা ফারুক হোসেন বলেন, বুধবার কর্মচারীদের কয়েকজনের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই ঘটনা ঘটে।

তবে পরিচয় পাওয়ার পরপরই জড়িত কর্মচারীরা ক্ষমা চায় বলে জানান তিনি।

"আমরা ভুল করেছি ও সেজন্য ক্ষমাও চেয়েছি। পরিচালক বলেছেন ব্যবস্থা নেবেন সেটিও মেনে নিয়েছি।"

তিনি জানান, "তারপরেও আজ আমাদের লক্ষ্য করে আজে বাজে কথা বলা হয়েছে। সেজন্য আমরা প্রতিবাদ করেছি।"

তবে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে বেলা একটা পর্যন্ত ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভেতরে প্রবেশ নিষেধ আছে।

একজন নার্সের স্বামীকে ভেতরে দেখে আনসার ও কর্মচারীদের কয়েকজন তাকে কোম্পানির প্রতিনিধি মনে করে চ্যালেঞ্জ করেন।

এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কর্মচারীরা মারধর শুরু করলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ওই নার্স নিজেই।

তিনি পরিচয় দিলে কর্মচারীরা ভুল বুঝতে পারেন কিন্তু এ ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নার্সরা।

বিক্ষোভ প্রতিবাদের এক পর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালক নিজেই দু'পক্ষের সাথে কথা বলে জড়িত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া ও কর্মচারীদের নার্সদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন।

ফারুক হোসেন জানান, নির্দেশ মেনে ভুল স্বীকার করে তারা ক্ষমা চেয়েছেন।

"আমরা ভুল করেছি, ওনাদের পা ধরে ক্ষমা চেয়েছি," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

নার্স সান্ত্বনা রাণী দাস অবশ্য বলেন, "হাসপাতালের মধ্যে নার্সের স্বামীকে এভাবে লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে, তার গায়ে হাত দেয়া হবে- এটার শাস্তি চাওয়ার অধিকার তো আমাদের আছে।"

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড: ভারত ও চীনকে কিভাবে সামলাবেন হাসিনা

ভারত-বিরোধী অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে বিএনপি?

মোবাইল ফোনের বিবর্তনে ভাঁজ করা স্মার্টফোন

Image caption ঢাকার একটি অন্যতম বড় হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

আজ আবার বিক্ষোভ, ধর্মঘটের হুমকি ও আলোচনা

সান্ত্বনা রাণী দাস জানিয়েছেন, তারা আজ কোনো ধর্মঘট করেননি ও কাজও করেছেন।

দুপুরে বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, "নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো। সেটির সমাধান হয়েছে। আমরা কোনো কর্মবিরতিতে যাইনি। সবাই কাজেই আছেন।"

কিন্তু বাস্তবতা হলো সকালে একদল নার্স রাস্তায় নেমে আউটডোর বিভাগের কাছে বিক্ষোভ করেছেন এবং এসময় প্রায় দু ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা।

তবে বেলা সাড়ে এগারটা দিকে তারা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান বলে জানিয়েছে শাহবাগ থানা পুলিশ।

এদিকে নার্সদের বিক্ষোভের খবর শুনে পাল্টা বিক্ষোভ শুরু করেন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরাও।

এ নিয়ে অচলাবস্থার তৈরি হয় ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৎপর হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও।

তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নার্স ও তার স্বামীকে হেনস্থার ঘটনা তদন্ত করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

একই সাথে তিন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে শোকজ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এরপর হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে নিশ্চিত করেছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।