বিশ্ব ইজতেমা: তাবলীগ জামাতের তিনদিনের ইজতেমা শুরু ১৫ই ফেব্রুয়ারি, এবারে জমায়েত হবে একটি

ছবির কপিরাইট NURPHOTO
Image caption বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে প্রতিবছর লাখ-লাখ মানুষ সমবেত হয়

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কাছে টঙ্গীতে তাবলীগ জামাতের তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি।

সচিবালয়ে তাবলীগ জামাতের দু'পক্ষের মধ্যে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, "আগামী ১৫ থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাইকে নিয়ে বসে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি"।

আলাদা করে দুটি ইজতেমার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এবার আর কোনো বিষয়ে দুই থাকবে না। এবার কোনো দুই শব্দ আমরা রাখতে চাচ্ছিনা"।

বিশ্ব ইজতেমা একটাই হবে, সাদ কান্দালভী আসছেন না

এর আগে বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সাথে তাবলীগের দু'পক্ষের বৈঠকে তাদের মধ্যকার বিরোধের আপাতঃ অবসান হয়।

বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী যৌথভাবে জানিয়েছিলেন যে, চলতি বছর ইজতেমা একটাই হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আব্দুল্লাহ ওই সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেছিলেন, "আজকের সভার পর ইজতেমা একটাই হবে। কোনো বিভক্তি হবে না। তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপের সাথে এটা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়েছে"।

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছিলেন যে যাকে নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিলো ভারতের সেই মাওলানা সাদ কান্দালভী এবারের ইজতেমায় আসছেন না।

এতোদিন ধরে তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষ সরকারের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শর্ত দিয়েছিলেন আজকের বৈঠকটিতে দু'পক্ষেই থাকতে হবে।

সেই শর্ত মেনেই তাবলীগ জামাতের দু'পক্ষের নেতারাই আজ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

তাবলীগ জামাতে দু'গ্রুপের দ্বন্দ্বের মূল কারণ কী?

মাওলানা সাদকে ঘিরে তাবলীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মুসলিম কেন দেওবন্দের অনুসারী?

দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের কারণ

বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের ভেতরে দু'টি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলছে বেশ কিছুদিন ধরে - যা সহিংস চেহারা পায় গত ডিসেম্বরে সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে ।

এই দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছেন তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ভারতের মোহাম্মদ সাদ কান্দালভী।

এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই মূলত ঢাকার টঙ্গীতে এবার এখন পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা হতে পারেনি।

তাবলীগ জামাতের একটি গ্রুপ ১১ই জানুয়ারি থেকে ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত নভেম্বরেই তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করেন - যেখানে ওই তারিখে ইজতেমা না করার সিদ্ধান্ত হয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই মওলানা কান্দালভী তাবলীগ জামাতে এমন কিছু সংস্কারের কথা বলছেন, যা এই আন্দোলনে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সাদ কান্দালভী বলেন, 'ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়" - যার মধ্যে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পড়ে বলে মনে করা হয়।

কিন্তু তাঁর বিরোধীরা বলছেন, সাদ কান্দালভী যা বলছেন, তা তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ইজতেমায় অংশ নিতে সাদ কান্দালভী ঢাকায় এলেও বাৎসরিক এই জমায়েতে অংশ নিতে পারেননি। তিনি কাকরাইল মসজিদে অবরুদ্ধ ছিলেন।

সাদ কান্দলভীর অনুসারীরা বলছেন, কওমী মাদ্রাসা-ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতারা সাদ কান্দালভীর বিরুদ্ধে সক্রিয় রয়েছেন। তবে হেফাজতের নেতারা এ অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেন না।

সম্পর্কিত বিষয়