সংসদ নির্বাচন ও সংবাদ নিরপেক্ষতা

ঢাকায় একজন দেয়ালে লাগানো পত্রিকায় নির্বাচেনর খবর দেখছেন, ৩১-১২-২০১৮। ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption দেয়ালে খবর: নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের পরিবেশনায় অনেকেই সন্তুষ্ট নন।

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের সময় তিন-চার সপ্তাহ এডিটার'স মেইলবক্স বন্ধ থাকায় বেশ কিছু চিঠির জবাব দেয়া সম্ভব হয়নি। তারই কয়েকটি এ'সপ্তাহে নেবার চেষ্টা করছি।

প্রথমে, খুলনার দাকোপ থেকে পাঠানো একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন মোহাম্মদ নুর জামাল ঢালী:

''একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘটে যাওয়া অতি বাস্তব সংবাদ গুলো নিরপেক্ষ ভাবে একমাত্র বিবিসি বাংলা প্রচার করেছে। নির্বাচনের খবর অন্য কোন বেতার এতটা নিরপেক্ষ ভাবে প্রচার করেনি। নিরপেক্ষ সংবাদ প্রচার করে বলে বিবিসি বাংলা আমার কাছে এতটাই প্রিয়। ধন্যবাদ জানাই বিবিসি বাংলাকে।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি: ঢালী, বিবিসি বাংলার ওপর আস্থা রাখার জন্য।

এবারে ছোট একটি প্রশ্ন, করেছেন কুমিল্লা থেকে মহসীন রেজা:

''ভোটের আগে ব্যালট বাক্স ভর্তি দেখেছে বিবিসির সংবাদদাতা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পরের দিন বললেন এটা পুরনো ছবি। দুইজনের মধ্যে কার কথা ঠিক?''

মজার ব্যাপার হলো মি: রেজা, দুজনই ঠিক। ভোটের দিন অর্থাৎ ৩০শে ডিসেম্বর সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম-১০ আসনের শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কেন্দ্রে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা ব্যালট পেপার ভর্তি ব্যালট বাক্স দেখতে পান এবং সেই দৃশ্য তিনি তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। সেদিন সকালেই আমরা সেই ভিডিও আমাদের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করেছিলাম।

কিন্তু পরের দিন বিবিসির অন্য এক সংবাদদাতা যখন কারচুপির ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন করেন, তখন প্রধানমন্ত্রী মনে করেছিলেন তিনি পুরনো ভিডিও দেখেছেন। এর কারণ হলো, খুলনা সিটি কর্পোরেশন এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপির ভিডিও সেদিন কিছু কিছু লোক শেয়ার করেছিল। প্রধানমন্ত্রী সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তিরিশ তারিখ চট্টগ্রামে তোলা বিবিসির ভিডিও সম্পর্কে হয়তো তাঁকে জানানো হয়নি। তবে বিবিসির সংবাদদাতা যখন প্রশ্নটি পুনরায় করে চট্টগ্রামের কথা বলেন তখন শেখ হাসিনা বলেন চট্টগ্রাম ছিল একটি মাত্র ঘটনা। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption শেখ হাসিনা: নতুন এবং পুরাতন কারচুপির তথ্য প্রমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি।

(বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা কীভাবে ব্যালট ভর্তি বাক্স দেখতে পেলেন তার বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন)

(সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন প্রশ্নের জবাবে কী বলেছিলেন, তা জানতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।)

নির্বাচন নিয়ে আরেকটি চিঠি, লিখেছেন খুলনার পশ্চিম টুট পাড়া থেকে মোহাম্মদ এনামুল:

''নির্বাচনে সাহসী, নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিবিসি বাংলা পরিবারকে জানাই অভিনন্দন । বিবিসি বাংলা না থাকলে হয়ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আমরা জানতে পারতাম না । আশা করছি আগামী দিনগুলোতেও বিবিসি বাংলা তার স্বকীয়তা, সাহসিকতা, নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে ।''

আপনি সে ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন মি: এনামুল। ঝড়-ঝাপটা যাই আসুক না কেন, বিবিসি বাংলা তার নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা থেকে কখনোই বিচ্যুত হবে না। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি। অনেক দিন পর লিখেছেন বিলকিস আক্তার, যিনি রংপুরের কাউনিয়া থেকে এখন টাঙ্গাইলের সরকারী ম্যাটস-এ আছেন:

''এতদিন কাউনিয়া উপজেলা হতে নিয়মিতই ৮৮.৮ এফএম-এ স্পষ্ট বিবিসি বাংলা'র খবর শুনতে পেতাম। কিন্তু পড়ালেখার সুবাদে টাঙ্গাইল ম্যাটস-এ এসে ভর্তি হওয়াতে আর বিবিসি শোনা হচ্ছে না আমার। এর প্রধান কারণ দুটি। একটি হচ্ছে, টাঙ্গাইলে ১০০ এফএম-এ বিবিসি ধরে না। আর দ্বিতীয় কারণ পড়ালেখার চাপ একটু তো আছেই। একেই তো নতুন পরিবেশ, তার উপর বিবিসি'র খবরটা নিয়মিত শুনতে না পেরে বড়ই একঘেয়েমি সময় কাটছে আমার।

''তাই আমি জানতে চাই, টাঙ্গাইল ঢাকা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হয়েও এখানে না বাজে ঢাকার এফএম, না আছে বিকল্প কোন ব্যবস্থা। এটা বিবিসি কর্তৃপক্ষ জানে কি?''

আপনাকে পুনরায় স্বাগতম মিস আক্তার। টাঙ্গাইলে বিবিসি বাংলা শুনতে পারছেন না জেনে দু:খ পেলাম। কিন্তু এ'ব্যাপারে আমরা একবারেই অসহায়। টাঙ্গাইলে এফ এম সম্প্রচারের জন্য বাংলাদেশ বেতারের সাথে আমাদের কোন চুক্তি হয়নি। সেখানে বেতারের এফ এম অবকাঠামো আছে কি না, তাও আমি জানি না। তবে আপনি আমাদের ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে আমাদের অনুষ্ঠান শুনতে পারেন। আশা করি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption পশ্চিম আফ্রিকায় বাচ্চাদের সাথে বিশ্ব ভ্রমণকারী বাংলাদেশী নারী নাজমুন নাহার।

এবারে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়ে লিখেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''এ'মাসের ২২ তারিখ আপনাদের ওয়েবসাইটে সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশী নারী নাজমুন নাহারের আফ্রিকার আরও ১৫টি দেশ ভ্রমণের প্রতিবেদনটি পড়লাম। এর আগে তার ১১০টি দেশ ভ্রমণের কাহিনী পড়েছিলাম। আফ্রিকা ভ্রমণে বন জঙ্গল, পাহাড়ি পথ ইত্যাদি কোন কিছুই তাকে দমাতে পারেনি। বাংলাদেশের কোন পুরুষও যেখানে ১২৫ টি দেশ স্ব-উদ্যোগে ভ্রমণ করতে পারেনি, তাও আবার নিজ দেশের লাল সবুজের জাতীয় পতাকা নিয়ে। তার এ ভ্রমণ অবশ্যই অনুকরণীয় ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: রহমান। আপনি ঠিকই বলেছেন, একজন বাংলাদেশী নারী একক প্রচেষ্টায় এবং একাকী ১২৫টি দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং আরো ১০০টির মত দেশে যাবেন, এটা সত্যিকার অর্থে একটি অসাধারণ কাজ। ভ্রমণের সাথে সাথে তিনি অনেক অমূল্য অভিজ্ঞতাও অর্জন করছেন। আপনার শুভেচ্ছা নাজমুন নাহারকে পৌঁছে দেব।

Image caption নির্বাচনের সময় রেডিওর জন্য বিশেষ স্টুডিওতে অনুষ্ঠান উপস্থাপন করছেন মিজান খান এবং ফারহানা পারভিন।

আবার ফিরছি ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে হয়ে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের কাভারেজ প্রসঙ্গে, লিখেছেন গাইবান্ধার দারিয়াপুর থেকে মাহবুব রহমান মামুন:

''এবারের নির্বাচনে বিবিসি বাংলার কাভারেজ চোখে পরার মত ছিল। তবে নির্বাচন উপলক্ষে বাড়তি বিশেষ অধিবেশন অন্তত এক সপ্তাহ প্রচার করা খুবই প্রয়োজন ছিল। আর তাতে নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন থাকত।

অনেকদিন পর প্রিয় মাহফুজ সাদিককে শুনতে পেয়ে খুব ভাল লাগল। তিনি এখন কি করেন, কোথায় থাকেন দয়া করে জানাবেন।''

গোটা সপ্তাহ জুড়ে বাড়তি অধিবেশন একটু বেশি হয়ে যেত মি: রহমান। অতীতেও আমরা নির্বাচনের সময় বড় জোর দু'দিন বিশেষ অধিবেশন রেখেছিলাম। তবে আমরা চেষ্টা করেছি অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যম উপস্থিতি বাড়াতে। আপনি নিশ্চয় সেটা লক্ষ করেছেন। আর মাহফুজ সাদিক এখন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ইংরেজি নিউজ রুমে কাজ করেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption হাল্কা মুহূর্ত: নির্বাচনের দিন ফেসবুক লাইভের মাঝে সাবির মুস্তাফার ক্যামেরায় মীর সাব্বির (বাঁ দিকে) এবং ফয়সাল তিতুমীর (ডান দিকে)।

এবার লিখেছেন রংপুর সদর থেকে এস.এম.মোহাম্মদ লিয়াকত আলী:

''আমি বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে নিরপেক্ষভাবে সংবাদ উপস্থাপন করার জন্য। তাইতো আমার প্রিয় মাধ্যম হচ্ছে বিবিসি এবং বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা বিবিসি। আমি জানতে চাই, আপনারা যখন নিরপেক্ষভাবে খবর প্রচার করেন তখন কি আপনাদেরকে কোন চাপের মুখে বা বিধি নিষেধের মুখে পড়তে হয়?''

সেভাবে চাপের মধ্যে পড়তে হয় নি মি: আলী। নির্বাচন কমিশন আমাদের সাথে সহযোগিতা করেছে। তবে আমাদের সাংবাদিকরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নানা রকমের বাঁধার মুখে পরেছিলেন। অনেক কেন্দ্র থেকে আমাদের সাংবাদিকদের চলে যেতে বলা হয়েছে, যদিও আমরা নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলী আক্ষরিক অর্থে পালন করেই কেন্দ্রগুলোতে গিয়েছিলাম। সেসব বাঁধার মধ্য দিয়েই আমাদের খবর সংগ্রহ করতে হয়েছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গ, লিখেছেন ঢাকার সাভার থেকে মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন মাষ্টার:

''এ'মাসের ২২ তারিখে সন্ধ্যার প্রবাহ অনুষ্ঠানের সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল-এর স্মরণে ২০১৪ সালের পুরানো সাক্ষাৎকারটি প্রচার করার জন্য বিবিসি বাংলাকে অজস্র ধন্যবাদ। এতো জনপ্রিয় গীতিকার বাংলাদেশে নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের সকল গানের শিল্পী তাঁর গানের হাত ধরেই জনপ্রিয় হয়েছে।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি: সিরাজউদ্দিন, আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য এবং চিঠি লেখার জন্য।

Image caption আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

এ'মাসের ২২ তারিখে আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশী নারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদনের ওপর মন্তব্য করে লিখেছেন চট্টগ্রামের বাসিন্দা জসীম:

''আমি সৌদিতে আছি। বাংলাদেশে আমরা যতটুকু বিচার পাই না, সৌদিতে পাই। কেউ যদি মিথ্যা না বলে, তাহলে বলতে হবে সৌদিতে এখনো আমাদের দেশের চাইতে পুলিশ বলেন, আদালত বলেন, মানুষ বলেন, অনেকগুণ বেশি ভাল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ ওদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ দেয় তা মিথ্যা।

''যেমন ধরুন, অসংখ্য রোহিঙ্গার কাছে বাংলাদেশী পাসপোর্ট । তাহলে কোন কারণ বা দোষের জন্য তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো কি অন্যায়? ভারতের মত তো আর বলছেন যে, রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে পাঠিয়ে দেবে।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: জসীম। রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আপনি যা বলছেন, সেটা আমরা অন্যান্য সূত্র থেকেও শুনতে পাই। কিন্তু নারী শ্রমিক, বিশেষ করে গৃহকর্মীরা যে অভিযোগ করেন, সেগুলো অবিশ্বাস করার কোন কারণ আমরা এ'পর্যন্ত দেখি নাই। কোন নারী যখন তাদের বিরুদ্ধে এরকম অত্যাচারের অভিযোগ আনেন, তখন আমরা খোঁজ-খবর নিয়েই প্রতিবেদন তৈরি করে থাকি। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption সুবর্ণ জয়ন্তী: বিবিসি বাংলার ৫০তম বার্ষিকীতে ঈশ্বরদীর বিবিসি বাজারে সিরাজুর রহমান, বিবিসি টি স্টলের প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাশেম মোল্লা, দীপঙ্কর ঘোষ ও আতাউস সামাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে ডঃ নাহরিন আই খান:

''যে বিবিসি আমি ৮০ বা ৯০-এর দশকে কানে শুনতাম, তার শিরোনামই বলে দিতো, কি বলবে বাকি সাড়ে তিন মিনিট। অথচ, যে বিবিসি আজ আমি শব্দ দিয়ে পড়ি ফেসবুক পেইজে, তার শিরোনাম কেন খবরটির প্রতি আমার অনাগ্রহ তৈরি করে? যেমন : "মিশরে ওষুধের দোকানে মিলছে 'মেয়েদের ভায়াগ্রা'- পড়েই মনে হলো এটা আমার খবর নয়, কারণ অবৈধভাবে তো কত কিছুই বাজারে লেনদেন হয়। কিন্তু একজন সমাজ-বিজ্ঞানের গবেষক হয়ে আমি যদি শিরোনামে দেখতাম "মিসরের মতো মুসলিম রক্ষণশীল দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিক্রি হচ্ছে ভায়াগ্রা", তবে আমি পড়তাম , আগ্রহ নিয়েই পড়তাম।

''এমন শিরোনাম কি গড়পড়তা কাটতি বাড়ানো পত্রিকার মতো নয়, যার শিরোনাম হয় 'একি করলেন মৌসুমি! নায়িকা মৌসুমির ১৭৭ টি বিয়ে', যা কিনা তার ১৭৭ টি সিনেমার চরিত্র। গত কয়েক মাসে এমন হাজারটা শিরোনাম দেখে আমি বিবিসি লোগোর দিকে তাকিয়েছি , ঠিক দেখছি কিনা তা যাচাই করেছি । আর কষ্ট বেড়েছে।''

এখানে একটু ব্যাখ্যা করা দরকার। আশি বা নব্বই দশকের রেডিওতে যেভাবে একটি প্রতিবেদনের ভূমিকা দেয়া হত, ফেসবুকে সেভাবে শিরোনাম করা সম্ভব না। কারণ, এখানে জায়গার সীমাবদ্ধতা আছে আর সামাজিক মাধ্যমের একটি নিজস্ব চরিত্র আছে যেটা দেখে অনেক সময় কাটতি বাড়ানোর ফন্দিই মনে হতে পারে। তবে আমাদের রেডিওে অনুষ্ঠানে যদি মিশরের ভায়াগ্রা গল্পটি থাকতো, তাহলে তার ভূমিকা কিন্তু আপনি যেভাবে চেয়েছেন, সেভাবেই থাকতো। কারণ সেটা রেডিও।

আমরা পছন্দ করি বা না করি, সামাজিক মাধ্যমে খুবই কম বাক্য ব্যয়ে পাঠককে আকৃষ্ট করতে হবে কারণ সেই পাঠক চঞ্চল, তার হাতে সময় কম কিন্তু চয়েস অনেক।

Image caption সত্তর-আশির দশকের জনপ্রিয় উপস্থাপক শ্যামল লোধ ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাতকার নিচ্ছেন।

তবে নাহরিন খান তার দীর্ঘ চিঠিতে আরেকটি বিষয়ের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন:

''বাংলা খবর বলতেই যাদের কাছে বিবিসি তাদের অনেকেই হয়তো একটু অস্বস্তিতে থাকেন, এই "ফেসবুকে লেখা আর দেখা" বিবিসিকে নিয়ে। আপনারা যন্ত্রে আধুনিক হন, প্রযুক্তিতে আধুনিক হন, কিন্তু এই আধুনিকতা যাতে বিবিসির বহুকালের স্বকীয়তাকে আমূল বদলে না দেয়। আমার বাবার শোনা যে খবরে আমার ঘুম ভাঙতো, সকালটা শুরু হতো তোমাকে দিয়ে, আজ হয়তো অক্ষাংশ - দ্রাঘিমাংশের হিসেবে তা দুপুরে শুনি , কিন্তু আগ্রহ এখনো তেমনি আছে।

''বিবিসি বাংলা যেন তেমনি থাকে- "প্রমিত বাংলায়, সেরা শব্দসম্ভার, সেরা কণ্ঠস্বর আর সব সেরা কিছুতে"। পরিবর্তনের যে হাওয়া বইছে তা যদি উল্টো স্রোতের হয়, তবে কেন গা ভাসাতে হবে? আর সবাই গা ভাসালে উল্টো পথকে শুধরে দেবে কে?''

আপনি একটি কথা ঠিক বলেছেন মিস খান, সব স্রোতে গা ভাসালে আমাদের স্বকীয়তা বিপন্ন হতে পারে। এখানে একটা ভারসাম্য রাখতে হবে - সমাজে যে পরিবর্তন আসছে, সেটার সাথে তাল মিলিয়েই বিবিসির বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে হবে। পরিবর্তনের সাথে নিজে না বদলালে ডাইনোসরদের মত বিলুপ্ত হয়ে যাবার সম্ভাবনাটাও রয়ে যায়! আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption নতুন সরকারের ৫টি চ্যালেঞ্জ নিয়ে টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহ'র ধারাবাহিক শেষ হয়েছে।

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জগুলি নিয়ে বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান বিবিসি প্রবাহে পাঁচ পর্বের বিশেষ ধারাবাহিক প্রচার করা জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি । আমার মনে হয়, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতি মোকাবেলা করা। দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা সহজ হবে বলে মনে হয় না। সরকারি কোন দপ্তরে ঘুষ ছাড়া কোন কাজই করা যায় না, সেটি সকলেই জানে। বিবিসি বাংলাকে আমি অনুরোধ করবো সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে কিছু প্রতিবেদন প্রচার করবার জন্য।''

দুর্নীতির বিষয়টি এক দিক থেকে অবাক করার মত। আপনিই বলছেন, সবাই জানে দুর্নীতির কথা। আবার ট্রান্সপ্যারেন্সির মত প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর অনুসন্ধান করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির ঘটান প্রকাশ করছে। কিন্তু তারপরও সবাই যে তিমিরে সে তিমিরেই রয়ে যাচ্ছে। দেখা যাক নতুন সরকার কী পদক্ষেপ নিতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে হাসান আল সাইফ:

''বাংলাদেশের জন্য ২০১৮ সালটা বেশ ঘটনাবহুল ছিল। নেপালে ইউ এস বাংলার বিমান দুর্ঘটনা, ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, রোহিঙ্গা সংকট, সংসদ নির্বাচন। ভেবেছিলাম বিবিসি বাংলার বর্ষ পরিক্রমার বিশেষ প্রতিবেদনে সব উঠে আসবে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের কারণে তা আর হলো না। প্রতি মাসের আলোচ্য বিষয় গুলো নিয়ে প্রতি মাসের শেষে একটি মাসিক প্রতিবেদন বিবিসি বাংলা থেকে শোনা গেলে খারাপ হতো না।''

প্রস্তাবটা মন্দ না মি: আল সাইফ। এটা আমাদের বিবেচনায় থাকবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন কপোতাক্ষ থেকে শিমুল যিনি শুধু একটি নামই ব্যবহার করেছেন:

''বর্তমানে আমি অনিবার্য অসুবিধার কারণে বিবিসি রেডিও শুনতে পারছি না। তবে, আপনাদের ফেসবুক পাতায় নিয়মিতই অংশ গ্রহণ করি। যা আমার সত্যই খুব ভাল লাগে। আমার মতো অসংখ্য ভক্ত আছে যারা শুধু মাত্র ফেসবুকেই আপনাদের সংবাদ পাঠ করে। মন্তব্যও করে বিভিন্ন বিষয়ে উক্ত লেখার সূত্র ধরে।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: শিমুল। আশা করি আপনার রেডিও না শোনার পেছনে বিবিসির কোন ত্রুটি নেই। আর ফেসবুকে আমাদের পরিবেশনা আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য যদি আপনার কোন প্রস্তাব থাকে তাহলে সেটা লিখে জানালে খুশি হবো।

পরের চিঠি লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ২২ জানুয়ারি বিবিসি বাংলা'র ফেসবুক পেজের একটি খবর ছিল, 'জাতীয় পরিচয় পত্রের সার্ভার বিকল হলো কেন?' খবরটা পড়ে অনেকটা হাসতে ইচ্ছে করছে। হায়রে নির্বাচন কমিশনারের লোক! জনগণ গোল্লায় যাক, তাতে তাদের কি? ভুলে ভরা এই তথ্য দিয়ে কি করবে দেশের মানুষ? অনেক ঘুরে টাকা পয়সা দিয়ে নিজ নামের বানানের ভুল শুদ্ধ করেও স্মার্ট কার্ডে সেই একই ভুল পাওয়া যায়।

''এতো বড় একটি তথ্যভাণ্ডারের কেন কোন ব্যাকআপ সার্ভার নেই? সত্যি বলতে কি, আমি নিজে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখেছি, অনেক অযোগ্যরা আজ যোগ্য জায়গায় বসে আছে, তাই আমাদের দেশের আজ এই অবস্থা।''

যে কোন প্রতিষ্ঠান, সেটা সরকারি হোক আর বেসরকারি, চালাতে যে দক্ষ লোকবল লাগে, সেটা তো কারো অজানা নয় মি: ইসলাম। তারপরও কীভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ লোক নিয়োগ করা হয় না, সেটাই একটি বড় রহস্য। অথবা, দক্ষ লোক নিয়োগ করা হয় ঠিকই, কিন্তু নানা দুর্নীতির কারণে তারা ঠিকমত কাজ করতে পারেনা বা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ক্রয় করা হয়না। কারণ যেটাই হোক, জাতীয় পরিচয়পত্রের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ'ধরণের গাফিলতি সত্যি বিস্ময়কর ব্যাপার। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

সাবিনা ইয়াসমিন,ভাকুর্তা, সাভার।

কামাল হোসাইন, মধুখালী, ফরিদপুর।

মোহাম্মদ মামুন কবীর, ঢাকা।

মোহাম্মদ শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

মোহাম্মদ চানু হোসেন, নীলফামারী।

এস,এম,এ,হান্নান, হরিপুর,চাটমোহর,পাবনা।

আবু সাঈদ,বাঘমারা,রাজশাহী।

শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।

প্রণব ঘোষ, নরসিংদী।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, কারমাইকেল কলেজ রংপুর

আল মামুন, যশোর।

মনির হোসেন, কারমাইকেল কলেজ রংপুর।

দুর্জয় দাস, কেন্ডু, নেত্রকোনা।

মোহাম্মদ আব্দুল মাতিন, সাতক্ষীরা সরকারী কলেজ।

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সুজন, খালিশপুর, খুলনা।

মুহাম্মদ শুয়াইবুল ইসলাম, চট্টগ্রাম কলেজ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/