চীন কেন যুক্তরাষ্টের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করার চাপে রয়েছে

চীনে খুচরা বিক্রেতাদের উপর প্রভাব পড়ছে ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চীনে খুচরা বিক্রেতাদের উপর প্রভাব পড়ছে

চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেটা সাময়িক ভাবে বিরতিতে আছে।

কিন্তু এ সপ্তাহেই দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু বেইজিং কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটা বাণিজ্য চুক্তিতে আসতে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে?

ধীরগতির অর্থনীতি

বাণিজ্য যুদ্ধ চীনের অর্থনীতিকে হয়ত মন্দার দিকে নিয়ে নিয়ে যাবে না কিন্তু এটা অবশ্যই পরিস্থিতিকে খারাপের দিকে নিয়ে যাবে।

গ্রোথ ডাটা গত সপ্তাহে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে ১৯৯০ সালের পর এটাই চীনে সবচেয়ে কম গ্রোথ রেট।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চীন সরকার দেশটিকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে চেয়েছে

কিন্তু এটাও ততটা চিন্তার বিষয় না। যতটা না অন্য তথ্য গুলো দু:চিন্তার কারণ হচ্ছে।

ক্রেতা বা ভোক্তাদের অনুভূতি এবং খুচরা বিক্রয় খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ছোট এবং মাঝারি ধরণের কোম্পানি গুলো কম অর্ডার এবং মজুদের ব্যাপারে সেই ধাক্কাটা বুঝতে পারছে।

আর এই চাপটাই পড়ছে কমিউনিস্ট পার্টির উপর। প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং যে এই বিষয়ে খুব কম নজর দিয়েছেন সেটাই প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং এর বৈধতার ভিত্তি হল চীনকে শক্তিশালী রাখা।

আরো পড়ুন:

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: নেপথ্যে কী?

ভারত ও চীনের সাথে কিভাবে ভারসাম্য করছে সরকার

ভারতে আটকে পড়া চীনা সৈনিক দেশে ফিরলেন ৫৪ বছর পর

চীনে আমেরিকার প্রতিষ্ঠান গুলো একটা চুক্তি চায়

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চাপের মধ্যে রয়েছে একটা চুক্তি করার জন্য। চীনে যেসব মার্কিন কোম্পানি রয়েছে তারা ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ব্যবসার উপর যে শুল্ক আরোপ করেছে তার প্রভাব নিয়ে অভিযোগ করছে। কিন্তু তারা চাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেন একটা ভালো চুক্তি করে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption চীনে আমেরিকার প্রতিষ্ঠান গুলো একটা চুক্তি চায়

ওয়াশিংটন ডিসির আকিন গাম্প নামে একটি ল ফার্মের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড পার্টনার স্টেফেন খো, বলেছেন "এই প্রশাসন শুল্কের মাধ্যমে মার্কিন অর্থনীতির স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে রাজি আছে"।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে চুক্তি হলে সেটা সবার জন্য ভালো হবে।

যতদিন এই পরাশক্তি একে অপরের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করতে থাকবে ততই ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে। কোম্পানি গুলো কম লাভ করবে। আর বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাবে।

উভয় পক্ষই একটা চুক্তি করে সমাধানে আসতে এখন চাপের মধ্যে আছে।

অন্যান্য খবর:

সহিংস জিহাদের প্রতি আকর্ষণের পেছনে কী কাজ করে

সুন্দরবনে স্যাটেলাইটযুক্ত কচ্ছপগুলো কিভাবে এলো?