ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট সম্পর্কে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ: 'কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুল এবং ব্যর্থতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে'

ছবির কপিরাইট PRAKASH MATHEMA
Image caption দুর্ঘটনায় ৫১ জন নিহত হয়।

কাঠমান্ডুতে গত বছরে বাংলাদেশী একটি বিমানের দুর্ঘটনার ব্যাপারে নেপালের তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে তার সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন।

ঢাকায় কর্তৃপক্ষ বলছে, নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুল এবং ব্যর্থতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে নেপালের তদন্ত প্রতিবেদনে।

২০১৮ সালের ১২ই মার্চ নেপালের কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলার একটি বিমান। দুর্ঘটনায় মোট ৫১ জন যাত্রী এবং ক্রু নিহত হন। ২০ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকের আঘাত ছিল গুরুতর।

ইউএস বাংলাও বলেছে, বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের ব্যর্থতা এড়িয়ে যাওয়ার কারণে এই তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ হয়নি।

তবে নেপালের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান বা নাকচ কোনটাই করছে না বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

তারা বলেছে, বিমানটিকে রক্ষায় কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তথ্য প্রমাণেও উঠে এসেছে। এই পদক্ষেপ নিতে না পারার বিষয়কে তারা ত্রিভুবন বিমানবন্দরে সে সময় কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
নেপালে বিমান দুর্ঘটনা

বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে কিছু প্রস্তাব নেপালের তদন্ত কমিটিকে দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদনে সেসব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।

তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম হাসান বলেছেন, কন্ট্রোল টাওয়ারের সিদ্ধান্তের ওপরই পাইলটকে নির্ভরশীল থাকতে হয়, সেকারণেই তারা এই বিষয়টিকে সামনে আনছেন।

"একটা বিমানে পাইলট অনেক ভুল করতেই পারে। এটা সারা দুনিয়ায় আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হতে পারে। কিন্তু একজন কন্ট্রোলারের কোনভাবেই মিসটেক করা উচিত নয়।"

"যত বড় বিমান বা পাইলট হোক না কেন, প্রত্যেকে গ্রাউন্ড কন্ট্রোলারের নিয়ন্ত্রণে। তাদের কথা শুনতে সে বাধ্য। সে রানওয়ে মিস করেছে। তখন কিন্তু কন্ট্রোলারের দায়িত্ব। এটা কন্ট্রোলারের ব্যর্থতা।"

ছবির কপিরাইট PRAKASH MATHEMA
Image caption কাঠমান্ডু বিমান বন্দরে ইউ-এস বাংলার বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধারকৃত লাগেজ।

আরো পড়তে পারেন:

নেপালের রিপোর্টে দায়ী ইউএস বাংলার পাইলট

ধানের শীষে জিতলেও কেন শপথ নেবেন সুলতান মনসুর

সরকারি ইমেইল কেন ব্যবহার করছেন না কর্মকর্তারা

যে ভুলের কারণে জন্ম নিলো ১২০ কোটি ডলারের ব্যবসা

বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাদের বক্তব্য নেপাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ আশা করছে, তাদের বক্তব্যকে এখনও প্রকাশ করার সুযোগ আছে। সেটা না করলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হতে পারে।

বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস বাংলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান আসিফ বলেছেন, বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারের সমস্যাগুলো সেভাবে না আসায় এই তদন্ত প্রতিবেদনকে তারা সম্পূর্ণ প্রতিবেদন বলতে রাজি নন।

"এই দুর্ঘটনার পিছনে ইউএস বাংলার এয়ারক্রাফটের কোন ত্রুটি ছিল না। সেটা প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়েছে। পাইলটদের দক্ষতা বা যোগ্যতা এবং তাদের ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন এসব নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদনে কোন প্রশ্ন নেই। যেটা খুব হতাশার, সেটা হচ্ছে, কন্ট্রোল টাওয়ারের যেসব ত্রুটি ছিল, সেগুলো ছোট করে দেখানো হয়েছে।"

তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্যে বিমানের পাইলটকেই দায়ী করা হয়েছে। এটাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক তদন্ত প্রতিবেদন বলে মনে করছে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
নেপাল বিমান দুর্ঘটনা: চলছে স্বজনদের শোকের মাতম

নেপালের এই তদন্ত কমিটিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছিলেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এম রহমতউল্লাহ । তিনি বলেছেন, বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত কখনও ব্যক্তির চরিত্র হননের জন্য হয় না।

"চরিত্র হনন বা দোষারোপ করা, মানে সরাসরি কাউকে দোষী করা, এটা কিন্তু বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে করা হয় না। রিপোর্টে পারসোনালাইজড কিছু না করার জন্য আমরা বলেছিলাম। আমাদের কথা কিছু মানা হয়েছে, কিছু হয়নি" - বলেন তিনি।

পাইলটের মানসিক অস্থিরতা এবং কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নেপালের তদন্তে প্রাধান্য পেয়েছে।

এবিষয়ে ইউএস বাংলার ইমরান আসিফ বলেছেন, "ক্যাপ্টেন আবিদের লাইসেন্স এবং প্রশিক্ষণও আপডেট ছিল। কিন্তু কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোম্পানির কিছু করার নাই এবং সেটা করা উচিতও নয়। আমাদের পক্ষেও সেটা করা হয়নি।"