মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে যেভাবে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালাতে চায় ব্রিটেন-ফ্রান্স-জার্মানি

ডলার ছাড়া অন্য মূদ্রায় ইরানের সঙ্গে লেন-দেন করবে ব্রিটেন-জার্মানি-ফ্রান্স। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ডলার ছাড়া অন্য মূদ্রায় ইরানের সঙ্গে লেন-দেন করবে ব্রিটেন-জার্মানি-ফ্রান্স।

মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যেতে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আর্থিক ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। ইউরোপীয়ান স্পেশ্যাল পারপাস ভেহিকেল (এসপিভি) নামের এই ব্যবস্থায় ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চলবে ডলার ছাড়া অন্য মূদ্রায় (নন-ডলার ট্রেড)।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেকদিন ধরেই এরকম একটি ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কারণ তারা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু ইউরোপের তিনটি বড় অর্থনীতির দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি এই চুক্তি মেনে চলবে বলে ঘোষণা দেয়। তখন থেকেই এই প্রশ্নে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরণের বিরোধ তৈরি হয়।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মানে হচ্ছে, মার্কিন ডলারে কেউ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে না। কাজেই ইউরোপের দেশগুলো তখন থেকেই একটা উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল, কিভাবে এই নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটানো যায়। স্পেশ্যাল পারপাস ভেহিকেল (এসপিভি) নামে যে কাঠামো এখন তিন দেশ মিলে দাঁড় করালো, সেটা এখন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ খুলে দেবে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

জার্মানির একটি সম্প্রচার সংস্থা এনডিআর খবর দিচ্ছে যে এই এসপিভির আনুষ্ঠানিক নাম হতে পারে "ইনস্ট্রুমেন্ট ইন সাপোর্ট অব ট্রেড এক্সচেঞ্জেস" বা ইন্সটেক্স।

যুক্তরাষ্ট্র ক্ষুব্ধ হতে পারে জেনেও তাদের মিত্র ইউরোপীয় দেশগুলো কেন ইরানের সঙ্গে এই ধরণের বিকল্প বাণিজ্যের পথ তৈরি করছে?

আরও পড়ুন:

ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচাতে পাঁচ দেশের চেষ্টা

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কি টিকে থাকতে পারবে?

ইরানের বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

এর কারণ, ইরানের সঙ্গে যখন ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তি হয়, তখন শর্তই ছিল, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ খুলে দিতে হবে। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় দেশগুলো সেটাই করতে চাইছে এর মাধ্যমে। তারা দেখাতে চাইছে চুক্তির প্রতি তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। তারা চায় ইরান যেন চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবার তাদের পরমাণু কর্মসূচীতে ফিরে না যায়।

এই বিশেষ ব্যবস্থা মূলত ফ্রান্স আর জার্মানির দায়িত্বে পরিচালিত হবে। একজন জার্মান ব্যাংকার এর নেতৃত্ব দেবেন। ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি আশা করছে অন্যান্য দেশও এতে যোগ দেবে।