নিরাপদ সড়ক থেকে দুর্নীতি, আবার 'হিন্দু-বিদ্বেষী' বলে অভিযোগ

নিরাপদ সড়কের দাবীতে ঢাকার রাজপথে স্কুল ছাত্রীদের বিক্ষোভ, ০৪-০৮-২০১৮। ছবির কপিরাইট MUNIR UZ ZAMAN
Image caption নিরাপদ সড়কের দাবীতে ঢাকার রাজপথে স্কুল ছাত্রীদের বিক্ষোভ।

বাংলাদেশে নিরাপদ সড়কের দাবীতে স্কুল ছাত্রদের যে আন্দোলন সম্প্রতি হয়ে গেল, তার ছয় মাস পূর্ণ হয়েছিল সপ্তাহ খানেক আগে। কিন্তু সেদিন জানা গেল কুমিল্লায় ট্রাকের নিচে ১২জন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর।

আজ শুরু করছি সে বিষয়ে একটি চিঠি দিয়ে, লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিদিন অনেক মানুষ নিহত হয়। কিন্তু কিছু কিছু দুর্ঘটনা সাধারণ মানুষের মনকে আহত করে। অতি সম্প্রতি কুমিল্লা জেলায় ইট ভাটায় ঘুমন্ত শ্রমিকদের উপর কয়লা বোঝাই ট্রাক উল্টে গেলে ১২ জন শ্রমিক নিহত হয়। হত দরিদ্র এই শ্রমিকরা দূরের জেলা থেকে জীবিকার প্রয়োজনে ইট ভাটায় কাজ করতে এসেছিল। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করে রাতের বেলায় তাদের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কে? যারা দায়ী, তাদের কী ধরনের শাস্তির বিধান আছে ?''

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ইলিয়াস কাঞ্চনের নি:সঙ্গ লড়াই

ঘটনাটি যে অত্যন্ত মর্মান্তিক, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মি: বিল্লাল। ঘটনার বিবরণ পড়ে মনে হয় ট্রাক চালক এখানে দায়ী ছিলেন। যদি অতিরিক্ত মাল তোলার জন্য বা যান্ত্রিক কোন ত্রুটির জন্য ট্রাক উল্টে থাকে তাহলে তো আমার মনে হয় ট্রাকের মালিক বা পরিবহন কোম্পানিকেও দায়ী করা যাবে। পুলিশ কীভাবে মামলাটি করে তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে। যদি হত্যা মামলা করা হয় তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। তবে অভিযোগ যদি শুধু বেপরোয়া গাড়ি চালানো হয়, তাহলে সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড। আপনাকে ধন্যবাদ।

(ইলিয়াস কাঞ্চনের গল্প পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)।

নিরাপদ সড়ক থেকে চা-চপ বিতর্ক। পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টাকায় সিঙ্গারা-সমুচা-চপ-চা শীর্ষক আলোচিত সংবাদটি নিয়ে করা ছোট ভিডিওটি দেখছিলাম। মজা পাইলাম বটে! আসলেই ১০ টাকায় এসব পাওয়া যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিবিসির শাহনেওয়াজ রকি ঢাকার বিভিন্ন জায়গার দোকানে গিয়েছেন। ছোট একটা সংবাদ কিন্তু আলোচিত, তাই বিবিসি বাংলা এত গুরুত্ব দিল। আসলেই কি এত গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল এই বিষয়টি? সংবাদটি বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েব সাইটে দেখে অবাক হয়েছি, মজা পেয়েছি কিন্তু খারাপ লাগেনি।''

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
এককাপ চা, একটি সমুচা, একটি সিঙ্গারা, একটি চপ- ১০ টাকায় যেভাবে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ভাষণের ছোট একটি অংশ দেখে অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিলেন। আমরা ভাবলাম তাঁর দাবী, যে এত অল্প দামে এরকম নাস্তা আর কোথাও পাওয়া যাবে না, সেটা বাস্তব কি না, তা খতিয়ে দেখলে হয়। ভিডিওটি প্রমাণ করেছে তিনি সঠিক কথাই বলেছিলেন। তবে বিষয়টি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের অংশ হতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। আপনাকে ধন্যবাদ।

ডিসেম্বরের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে শ্রোতারা চিঠি লেখা অব্যাহত রেখেছেন, যেমন লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে তানাকা রহমান:

''একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার একপেশে খবর দেখতে দেখতে আমরা সত্যিই বীতশ্রদ্ধ। আমার মতো অনেকেই টেলিভিশনের খবর ও টক শো দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। আবার অনেকে পত্রিকা পড়াও বন্ধ করে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে বিবিসি বাংলা আশার আলো দেখাচ্ছে। বিবিসি বাংলাই আমাদের নির্বাচনের আগে ব্যালট ভর্তি বাক্সের ছবি দেখিয়ে দ্বিধাহীনভাবে সত্য প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতেও আমরা বিবিসি বাংলাকে অবিচল আস্থার প্রতীক হিসাবে দেখতে চাই।''

বিবিসি বাংলার ওপর আস্থা রাখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মি: রহমান। তবে বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সম্পর্কে একটা কথা বলা উচিত, এবং তা হলো, এই স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোই কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনে কারচুপি ফাঁস করেছিল। কিন্তু এবার রিপোর্টারদের কাজের ক্ষেত্রে নানা রকম বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

Image caption ঢাকা-৭ আসনের এই কেন্দ্রে দুপুরে বিবিসির সংবাদদাতা দেখেন গেট বন্ধ, ভোটাররা বাইরে দাঁড়ানো।

অন্যদিকে, নির্বাচনে বিবিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে শ্রোতাদের প্রশংসায় অবাক হয়েছেন রংপুর সদরের দেব প্রসাদ রায়:

''বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্বাচন দিয়ে প্রমাণ করল বিবিসি নিরপেক্ষ! কথাটি এজন্যই বলছি যে, বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর অনেক পাঠক-শ্রোতাই বিবিসিকে নিরপেক্ষতার সার্টিফিকেট দিয়েছে। নির্বাচনের সংবাদ নিরপেক্ষভাবে প্রচার করার জন্য। তাহলে কি বিবিসি কোন কোন সময় পক্ষপাতমূলক সংবাদ প্রচার করে? বিষয়টি আমার কাছে অবাক লেগেছে। আমি যতদিন থেকে বিবিসি'র সংবাদ শুনি বা পড়ি আমার কাছে তো বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষই মনে হয়েছে এবং হচ্ছে।''

আপনাকে ধন্যবাদ মি: রায়, বিবিসির ওপর আস্থা রাখার জন্য। আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, এই নির্বাচনে অনেক কিছু হয়েছে যা মানুষ উপলব্ধি করতে পেরেছে কিন্তু স্থানীয় গণমাধ্যম কোন কারণে প্রকাশ করতে পারেনি। তাই তারা বিবিসির দিকে তাকিয়েছে নিরপেক্ষ সংবাদের আশায়। তবে আমি আপনার সাথে একমত, নিরপেক্ষ থাকাই বিবিসির নীতি এবং সঠিক তথ্য পরিবেশনই আমাদের কাজ, এবং সেজন্য আমাদের অভিনন্দন বা ধন্যবাদ দেবার কোন প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের কাজ করেছি মাত্র।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption কেবল কুম্ভমেলার সময়েই অঘোরি সাধুদের দেখা মিলে।

তবে বিবিসি বাংলার নিরপেক্ষতা নিয়ে সবাই নিশ্চিত নন, যেমন অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম থেকে ছোটন নাথ:

''বিবিসি বাংলা বিভাগের প্রধান কে জানতে পারি?''

অবশ্যই জানতে পারেন মি: নাথ। আমিই বিবিসি বাংলার সম্পাদক, যে কারণে আমি আপনাদের চিঠি-পত্রের জবাব দেই। তবে আমি কাজে না থাকলে আমার মনোনীত একজন সিনিয়র সাংবাদিক উত্তর দেন। মি: নাথ যে অভিযোগ এনেছেন তা নিম্নরূপ:

''ইদানীং বাংলা বিভাগ দেখছি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। ভারতে মুসলিমদের কি হলো না হলো,এমনকি কে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলো,কোন হিন্দু সাধুরা শ্মশানে থাকে, মৃত ব্যক্তির সাথে সংগম করে ইত্যাদি প্রতিবেদন আসে। এক কথায় হিন্দু বিদ্বেষী আর মুসলিম তোষামোদকারী খবর দেখি। আর বাংলাদেশের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গরুর মাংস খাইয়ে হিন্দু ছাত্রদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে সেগুলা নিউজ হয়না। হয় কে খ্রিস্টান থেকে মুসলিম হলো, এইগুলা।

''এছাড়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘু ছাত্রী স্কুলের শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণ এই খবরগুলাও বিবিসি অনলাইন পত্রিকায় দেখিনা, যা বিবিসির মত নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যম-এর নিরপেক্ষতা দিন দিন তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে।''

আপনি যে অভিযোগ এনেছেন সেটা আমি একেবারেই মানতে পারছি না মি: নাথ, কারণ আমাদের পরিবেশনায় কোন ধর্মকে তোষামোদ বা কোন ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রশ্নই ওঠেনা। সব গল্প আমাদের পক্ষে পরিবেশন করা সম্ভব না। কিন্তু যেগুলো আমরা পরিবেশন করি সেগুলো সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এবং তার সামাজিক-রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝেই করা হয়। আমাদের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপনি অবশ্যই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন, এবং আমরা সেটা শ্রদ্ধার সাথেই দেখবো। কিন্তু ধর্মীয় বিদ্বেষ বা তোষামোদের অভিযোগকে আমরা ভিত্তিহীন বলেই গণ্য করি। আপনাকে ধন্যবাদ।

(পড়ে দেখতে পারেন: মৃতদের সঙ্গে যৌনমিলন করেন যে হিন্দু সাধুরা )

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভিজিট শুরু করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান। সত্যি কথা বলতে কী, শিক্ষকরা দুর্নীতিবাজ হলে সে জাতি কখনোই সুশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে না। শিক্ষাখাত থেকে যে কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে তার সংগে শিক্ষকরা যতটা জড়িত তার চেয়ে বেশি জড়িত এই খাতের কর্মকর্তারাই। ''তারা যে শিক্ষা খাতের কোটি কোটি টাকাই কেবল লোপাট করছেন তাই নয়, নানা অজুহাতে শিক্ষকদের নিকট থেকেও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

''এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিক্ষকদের একটা অংশ নামমাত্র শিক্ষকতা করছেন। সঙ্গত কারণেই আমার মনে হয়, শিক্ষাখাত থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হলে প্রথমে কর্মকর্তাদেরই নজরদারতে আনতে হবে। বিবিসি বাংলাকে অনুরোধ করব, সম্ভব হলে এ বিষয়টিতে কিছু রিপোর্ট প্রচার করবার জন্য।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মি: সরদার, শিক্ষাখাত দুর্নীতিমুক্ত না হলে যে কোন দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়। এ'কথাও ঠিক, শিক্ষা খাত থেকে অর্থ লুটপাটের জন্য শিক্ষকদের চেয়ে কর্মকর্তারাই বেশি দায়ী। তবে শিক্ষকরাও কতটা নিষ্ঠার সাথে তাদের কাজ করেন সেটাও ভেবে দেখার বিষয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption দুর্নীতি দমন কমিশন: চুনোপুঁটি না ধরে রাঘব-বোয়ালদের দিকে কবে নজর দেবে?

দুর্নীতির বিষয়েই যখন আছি, তখন দুদক সম্পর্কে একটি চিঠি নেয়া যাক, লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:

''দুর্নীতির ধারণা সূচক নিয়ে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টের জবাবে, দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বিবিসিকে বলেছেন, বাংলাদেশে দুর্নীতি আছে কিন্তু মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এখন রাজনৈতিক কমিটমেন্টেরও কোন কমতি নেই এবং দুদক পুরো স্বাধীনভাবে কাজ করছে। তার বক্তব্যের সাথে আমি পুরোটা একমত নই। কারণ আমরা জানি দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্রকে কেন্দ্র করে।

''বিগত বছরগুলোতে আমরা দুদককে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমনের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হতে দেখেছি যা চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ বলে মনে হয়। আর মাঝে মধ্যে কিছু চুনোপুঁটি লোককে ধরতে দেখেছি। উল্লেখযোগ্য কোন সরকারী নেতা, আমলা বা এ'ধরণের কাউকে পাকড়াও করতে দেখিনি।''

আপনি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলেছেন মিস ফেরদৌসি। দুদকের দৃষ্টি যতদিন অপেক্ষাকৃত কম ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের দিকে থাকবে, ততদিন তারা পাবলিকের আস্থা অর্জন করতে পারবে বলে মনে হয়না। চুনোপুঁটি না, মানুষ চায় দুদক রাঘব-বোয়ালদের দিকে দৃষ্টি দিক। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট PRAKASH MATHEMA
Image caption কার দোষ?: কাঠমান্ডু বিমান বন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান

আরেকটি বিষয় মানুষের মনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করেছে, সেটা হচ্ছে গত বছর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনার ওপর তদন্ত রিপোর্ট। সেটা নিয়ে লিখেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''ইউএস বাংলা বিমান দুর্ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট সম্পর্কে ২৮ জানুয়ারি আপনাদের প্রবাহ অনুষ্ঠানে তিনটি প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ শুনলাম। তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্যে বিমানের পাইলটের মানসিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নেপালে কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুল এবং ব্যর্থতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে মর্মে বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সমালোচনা করেছে।

''সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে তদন্ত প্রতিবেদনটি পক্ষপাত দুষ্ট এবং অনেকটা এক পাক্ষিক। কিন্তু এ সম্পর্কে নেপালি সরকার বা কর্তৃপক্ষের কোন ভাষ্য আপনাদের প্রতিবেদনে লক্ষ্য করা যায়নি। বিবিসি নেপালি সার্ভিসের মাধ্যমে কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য নেয়া সম্ভব ছিল না?''

আপনি কেন রিপোর্টটিকে 'এক পাক্ষিক' বলছেন তা আমি বুঝতে পারছি না মি: রহমান। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে দুর্ঘটনা পাইলটের দোষে হয়েছে, তাহলে রিপোর্টে সেটাই থাকবে। নিরপেক্ষতার খাতিরে দ্বিতীয় কোন পক্ষকে কেন দোষারোপ করা হবে? দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করাই ছিল তদন্তের উদ্দেশ্য, এবং তাদের রিপোর্টে সেটাই আছে। তবে তদন্তকারী সংস্থার ওপর যদি আপনার কোন আস্থা না থাকে, তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয়। আর নেপাল সরকারের কোন ভাষ্য নেয়ার প্রয়োজন বোধ আমরা করি নাই, যেহেতু আমাদের প্রতিবেদন তদন্ত সংস্থার রিপোর্টের বরাত দিয়েই করা হয়েছিল। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট ফারহানা পারভীন
Image caption বেওয়ারিশ লাশ দাফনের দাতব্য সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম

আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে ছোট একটি চিঠি, লিখেছেন পটুয়াখালীর মৌকরন থেকে মোহাম্মদ শাহিন তালুকদার:

''গত ২৫ জানুয়ারি রাতের খবরে আঞ্জুমান মফিদুলের বেওয়ারিশ লাশের প্রতিবেদনটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। অনেক সুন্দর ও অজানা তথ্য জানলাম। ধন্যবাদ বিবিসি বাংলাকে।''

আপনাকেও ধন্যবাদ মি: তালুকদার। আপনার অভিনন্দন প্রতিবেদক ফারহানা পারভিনকে পৌঁছে দেবো।

পরের চিঠি সাতক্ষীরার মুনশিপাড়া থেকে রাজিব হুসাইন রাজু:

''আসন্ন এস এস সি পরীক্ষা উপলক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার সব ধরনের কোচিং সেন্টার একমাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এখন প্রশ্ন হলো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কি কোচিং সেন্টারগুলো করে? যদি তা না হয়, তবে কোচিং সেন্টার সাময়িক ভাবে বন্ধ কেন? ইন্টারনেট ও প্রযুক্তির এ যুগে শুধু কোচিং-এ তালা লাগিয়ে কি সমস্যাটা সমাধান সম্ভব?''

সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে যে বিতর্ক আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই মি: হুসাইন। তবে এটাও অনস্বীকার্য যে, কোচিং সেন্টারগুলো নিয়েও প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। এখন কথা হচ্ছে, প্রশ্ন পত্র কি কোচিং সেন্টারগুলোর মাধ্যমে ফাঁস হয় কি না? সরকার মনে করছে হয়, যার জন্য এই পদক্ষেপ। এখন দেখা যাক এই পদক্ষেপের ফলে সমস্যার সমাধান হয় কি না। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট NurPhoto
Image caption শৃঙ্খলার চেষ্টা: ঢাকায় একজন স্বেচ্ছাসেবক পথচারীদের সঠিকভাবে রাস্তা পার হতে সাহায্য করছেন।

আবার ফিরে যাচ্ছি নিরাপদ সড়ক প্রসঙ্গে, লিখেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-আইন সিটি থেকে ওবায়েদুল ইসলাম বাচ্চু মিয়া:

''বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আইন কেউই মানে না, কারণ আইন লঙ্ঘনের বিচার দৃশ্যমান নয়। খুব সহজে পরিবহনগুলো নিয়ম না মেনেই সড়কে অবৈধ ভাবে গাড়ি চালায়। যেমন, বয়স হয়নি বা লাইসেন্স নেই কিন্তু গাড়ী চালাচ্ছে। তারা গতিবিধি মেনে চলে না, আইন না মেনে ওভারটেক করে, এক গাড়ি আরেক গাড়ির সাথে প্রতিযোগিতা করে, ফলে নিয়ন্ত্রণ হাড়িয়ে এ্যাক্সিডেন্ট করছে।''

আপনি সঠিক কথা বলেছেন মি: ইসলাম। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চললে বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই এড়ানো যেত। আর আইন লঙ্ঘনের বিচার হলে নিয়ম মেনে চলার প্রবণতাও বাড়ত। এখানে ট্রাফিক পুলিশ এবং গাড়ি চালক দু'জনকেই দায়িত্বশীল হতে হবে। আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন চাঁদপুর থেকে দেলোয়ার হোসেন:

''মফস্বলের একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিয়মিত একজন বিবিসির পাঠক আমি। কাদির কল্লোলের রিপোর্ট এবং বিবিসি ক্লিকের ভিডিওগুলো মিস করলে মনে একটি পিপাসা থেকে যায়। দেরিতে হলেও সেগুলো দেখি। আমার একটি পরামর্শ - বাংলাদেশ ইস্যুতে বিবিসির ইংরেজি ভার্সনে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে সেটা যেন বিবিসি বাংলার ফেসবুক ও বাংলা সাইটে আরএসএস ফিড করে দেখানো হয়। কারণ বাংলাভাষীদের সর্বদা বিবিসির ইংরেজি পেজে যাওয়া হয়না।''

বাংলায় বিবিসি ক্লিক ভাল লাগছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো মি: হোসেন। তবে বিবিসির ইংরেজি সাইট থেকে বাংলাদেশ নিয়ে কোন খবর আরএসএস ফিড দিয়ে আমাদের সাইটে প্রকাশ করার কোন পরিকল্পনা এই মুহূর্তে নেই। এ'ধরণের সেবার যথেষ্ট চাহিদা আছে বলে আমার মনে হয় না। আমরা যতদূর জানি বিবিসি ইংরেজিতে বাংলাদেশ নিয়ে কিছু পড়তে চাইলে পাঠক ইংরেজি সাইটেই যাবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

পরের চিঠি লিখেছেন বাগেরহাট থেকে তপন মজুমদার:

''গত মাসের ২৫ তারিখের প্রবাহ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠানোর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন নিয়ে রিপোর্ট শুনলাম । আমরা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলাম কিন্তু আমার মনে হয় জাতিসংঘ এবং কিছু উন্নত দেশ বাংলাদেশের উপর খবরদারি করছে। আমাদের সমস্যাগুলি তারা কেউ দেখতে পাচ্ছে না। সৌদি ও ভারত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে কিন্তু ওই মোড়লরা তখন কিছু বলছেনা। যত দায় যেন বাংলাদেশের?''

আমার মনে হয় আপনার কথায় বাংলাদেশের অনেকের মনের কথাই প্রতিফলিত হয়েছে মি: মজুমদার। ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করে বাংলাদেশ নিজের কাঁধে বিরাট একটি দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু সেজন্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশংসিত হয়েছেন এবং এই ভার বাংলাদেশকে একা বহন করতে হচ্ছে না। তবে আমি যতদূর জানি, সৌদি আরবে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে গেছে, সেজন্য তাদেরকে বাংলাদেশেই পাঠানো হয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

সব শেষে, চট্টগ্রাম থেকে মোহাম্মদ হাবিব-উল্লাহ :

''আপনাদের প্রচারিত সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠান 'প্রবাহ' আমি নিয়মিত শুনি। বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে ৮৮.৮ এফএমে প্রচারিত অনুষ্ঠানটাই আমি মূলত শুনে থাকি। অতিশয় দুঃখের সঙ্গে একটা কথা জানাতে হচ্ছে, এখানে প্রায়শই আপনাদের অনুষ্ঠান টিউন করতে দেরি করে ফেলে। সংবাদের শুরুর কটা মিনিট তাই পেরিয়ে যায়।

''ইদানীং তার উপর যোগ হয়েছে, ভুলবশত: বিবিসির ইংরেজির একটা চ্যানেল টিউন করিয়ে দেওয়া। দিন চারেক আগে এভাবে ভুল টিউনের কারণে আপনাদের পুরো অনুষ্ঠানটাই মিস করেছি। প্রচণ্ড বিরক্তি লেগেছে। এসব আঞ্চলিক স্টেশনগুলোতে আপনাদের কোন ধরনের নজরদারির ব্যাপার নেই কি?''

আমাদের সরাসরি কোন নজরদারী নেই মি: হাবিব-উল্লাহ। বাংলাদেশ বেতারের প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে আমরা কাজ করি। আপনার অভিযোগটা আমরা বেতার কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়ে দিয়েছি। তবে আপনি নিশ্চয় জানেন রাত সাড়ে দশটার খবর গত বছর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে? তাই সেসময় যদি চট্টগ্রাম এফ এম ৮৮.৮ এ টিউন করেন তাহলে বিবিসির ইংরেজি অনুষ্ঠানই শুনতে পাবেন। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবার কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মোহাম্মদ আব্দুল হক, বড়কমলাবাড়ি, লালমনিরহাট

সিদ্দিকুর রহমান সোহাগ, নাসির নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

মোহাম্মদ ফিরোজুল ইসলাম, বড়গ্রাম, ঠাকুরগাঁও।

রহিদুল ইসলাম, বীরগন্জ, দিনাজপুর|

খন্দকার আবু বকর সিদ্দিক, রাজশাহী।

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা, খুলনা।

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, টাঙ্গাইল ।

হাবিব সারোয়ার আজাদ, সিলেট।

সাইফুল ইসলাম, বরপেটা, আসাম।

এস এম এ হান্নান, চাটমোহর, পাবনা।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/