ভেনেজুয়েলায় সংকট কি এখন গৃহযুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে?

কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গোয়াইদোকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ছবির কপিরাইট EPA
Image caption নিকোলাস মাদুরো (বামে) ও হুয়ান গোয়াইদো

ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলতে থাকার মধ্যেই কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ একযোগে দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গোয়াইদোকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় পরিস্থিতি এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরো তার ভাষায় বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলছেন, দেশে গৃহযুদ্ধ দেখা দেবার সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

দেশটিতে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেবার জন্য ইউরোপিয়ান দেশগুলো প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে আট দিনের এক আলটিমেটাম দিয়েছিল। কিন্তু নিকোলাস মাদুরে এ আলটিমেটাম প্রত্যাখ্যান করেন।

সেই সময়সীমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে সোমবার। এর পরই ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি এবং ব্রিটেনের মতো প্রধান ইউরোপিয়ান দেশগুলো ঘোষণা করে যে তারা মি. গোয়াইদোকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং তিনিই এখন নতুন নির্বাচনের আয়োজন করতে পারেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলার গত নির্বাচনের মাধ্যমে মি. গোয়াইদো পার্লামেন্টের স্পিকার হয়েছেন, এবং সেই ভুমিকাই তাকে গণতান্ত্রিক বৈধতা দিয়েছে। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইম্মানুয়েল মাক্রোঁ এর পরপরই মি. গোয়াইদোর প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেন টুইটারে এক বার্তার মাধ্যমে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গোয়াইদোকে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য কয়েকটি ল্যাটিন আমেরিকান দেশও মি. গোয়াইদোকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন তিনি সামরিক হস্তক্ষেপ সহ সব বিকল্পই বিবেচনায় রাখছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইতিমধ্যে ভেনেজুয়েলায় জরুরি সাহায্য পাঠানোর প্রস্তুতি নেবার কথা বলেছেন।

কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাদুরো তার দেশে তার ভাষায় বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদের পাগলামি এবং আগ্রাসনের কারণে দেশটিতে এখন এক গৃহযুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না।

মি. মাদুরো এক টিভি সাক্ষাৎকারে বলেন, এই সংকটে যদি মি ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপ করেন তাহলে তাকে 'রক্তমাখা হাত নিয়ে' হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর সমর্থন এখনো মি. মাদুরোর পক্ষে

মি. মাদুরোর ওপর চাপ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তিনি মনে করেন তার একজন মিত্র এখনো আছেন যার ওপর তিনি নির্ভর করতে পারেন। তিনি হচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

ক্রেমলিন ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে 'বিদেশী হস্তক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছে।

বিরোধী নেতা মি. গোয়াইদোর বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অবৈধ চেষ্টার অভিযোগ এনে রাশিয়া বলেছে যে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে সহায়তা দিতে মস্কো প্রয়োজনীয় সবকিছুই করবে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption রাজধানী কারাকাসে গণবিক্ষোভ

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের রাস্তায় শনিবার মি মাদুরো পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ মিছিল হয়।

সেনাবাহিনীর দু-একজন অফিসার মি. গোয়াইদোর পক্ষে সমর্থন দিলেও বেশির ভাগ সেনা কর্মকর্তাই এখনো মি. মাদুরোর সমর্থক। কিন্তু মি গোয়াইদোও হাল ছাড়ছেন না। দু'পক্ষই নজর রাখছে - সেনাবাহিনী কার পক্ষ নেয়।

মি মাদুরো ইতিমধে্ আইনসভার নির্বাচন এগিয়ে আনার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তিনি বলছেন, বিরোধীদলের মার্কিন-সমর্থিত অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়েছে, এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কোন সম্ভাবনা নেই।