দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী - গুরুত্ব পাচ্ছে যে বিষয়গুলো

বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ছবির কপিরাইট SAUL LOEB
Image caption বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতকে আরও সম্পৃক্ত করার বিষয়ে চেষ্টা করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

বাংলাদেশের নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য দিল্লিকেই বেছে নিলেন এ কে আব্দুল মোমেন।

এ সফরের আগে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ভারতের জোরদার সমর্থন আশা করেন তিনি।

দিল্লিতে দু'দেশের মধ্যকার যৌথ পরামর্শক কমিশন বা জেসিসির এই বৈঠকে যোগ দেবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড আব্দুল মোমেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হবার পর এটিই ড. মোমেনের প্রথম বিদেশ সফর এবং এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে তার বৈঠক হবে।

চীনের বেল্ট রোড নিয়ে ঢাকাকে যা বলতে চায় দিল্লি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: দেনা-পাওনার হিসেব

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
ভারতের কাছ থেকে কতটা লাভ পেল বাংলাদেশ?

জেসিসির এ বৈঠকে যোগাযোগ, পানিসম্পদ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, এবং বাণিজ্য সহ দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচন হয়ে যাবার পর দুদেশের প্রথম উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড দেলোয়ার হোসেন বলছেন এ বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন।

"দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে যোগাযোগ ও একই সাথে দু দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনার পূর্বনির্ধারিত বিষয় ছিলো। বাংলাদেশ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপি সরকারের মধ্যে বিশেষ কোনো পার্থক্য তৈরি হয়নি"।

মিস্টার হোসেন বলেন, জেসিসি বৈঠকে নিশ্চয়ই রোহিঙ্গা ইস্যু উঠবে এবং আঞ্চলিক ইস্যু হিসেবে এটিতে ভারতের সহযোগিতা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাইবেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

"ভারত যেনো আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। এটির নিষ্পত্তি না হলে পুরো অঞ্চলের জন্যই এক ধরনের সমস্যা হবে। এটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেখছেন। অর্থাৎ ভারতকে আরও সম্পৃক্ত করা"।

এছাড়া সংস্কৃতিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে দু'দেশের মধ্যে।

বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ চাইছে ও বড় প্রকল্পে জড়িত হচ্ছে চীনের সাথে সে বিষয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে মিস্টার হোসেন বলেন, এটি ভারত জানে কারণ চীনের সাথে বাংলাদেশের এ সম্পর্ক অনেক পুরনো।

"ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড বা সাবমেরিন কেনার বিষয় ভারত যেভাবে দেখছে তার সাথে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য আছে।"

তিনি বলেন, "ভারতের যেমন চীন নিয়ে ভিন্ন অবস্থান কিন্তু আবার চীনের সাথেও তাদের বাণিজ্য আছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পুরো বিষয়টি আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা উচিত,"।

সম্পর্কিত বিষয়