এডিটার'স মেইলবক্স: জলবায়ু পরিবর্তন থেকে বিশ্ব বেতার দিবস

নদী ভাঙনের কারণে বাংলাদেশে জনগোষ্ঠীর জীবন ও কৃষি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে ছবির কপিরাইট Getty Images

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বিজ্ঞানীরা বলছেন বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে বিপদজনক হারে।

আজকের প্রথম চিঠি বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে। উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

"মাঘের শীতে বাঘ পালায় কথাটা এখন কেবল প্রবাদ। ছয় ঋতুর বাংলাদেশ, কিন্ত জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে শীত গরম আর বর্ষা-এই তিনটি ঋতু এখন বাংলাদেশে অনুভূত হয়। মাঘ মাসে শীতের প্রকোপ যখন তীব্র থাকার কথা তখন গরমের ঝাপটা আসতে শুরু করেছে। বিগত কয়েক বছর শীত যেমন কম পড়ছে আবার বর্ষার সময় বর্ষা না হয়ে গরম পড়ছে । আমরা বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের এলাকার মানুষের উপর তীব্র প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে স্বাস্হ্য ঝুঁকিতে আছে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা। নতুন পরিবর্তিত জলবায়ুতে কিভাবে সাধারন মানুষ বসবাস করতে পারে সে বিষয়ে স্কুল কলেজে ছাত্রদের শিক্ষা প্রদান করা যায় কিনা?"

মি: বিল্লাল- আপনি অবশ্যই জানেন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গত ডিসেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন হয়ে গেছে। জলবায়ু পরির্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি প্যানেল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে অবিলম্বে পদক্ষেপ না নিলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী জুড়ে বহু মানুষের জীবন-জীবিকার উপর প্রভাব পড়বে। এই প্যানেল আইপিসিসি - যারা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে গবেষণায় পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় সংস্থা - তারা সতর্ক করেছে যে সমাজের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে অতিসত্বর, ব্যাপক আকারে এবং নজিরবিহীন পরিবর্তন না আনলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে, যেটা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনবে। তারা গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন। আসলে পরিবর্তিত জলবায়ুতে বসবাসের বিষয়টা সম্পর্কে সব মানুষের যেমন জানা উচিত, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন রুখতে আমাদের কী করা উচিত সেটাও ছেলেমেয়েদের সবারই জানা জরুরি বলে আমি মনে করি। যেমন বিজ্ঞানীরা বলছেন ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নি:সরণ ৪৫% কমিয়ে আনা উচিত এবং কয়লার ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা জরুরি। আপনাকে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

(বাংলাদেশের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন।)

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption বিশ্ব বেতার দিবস ১৩ই ফেব্রুয়ারি

১৩ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব বেতার দিবস। পরের চিঠি লিখেছেন সরকারী ম্যাটস, টাঙ্গাইল থেকে বিলকিস আক্তার:

"আমার প্রশ্ন -বিবিসি বাংলা বিশ্ব বেতার দিবসকে কোন দৃষ্টিতে দেখে? একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে বিশ্ব বেতার দিবস বিবিসি'র কাছে কতটা গুরুত্ব পায়? তাই আমার প্রস্তাব হলো বিশ্ব বেতার দিবস নিয়ে সেইদিন বিবিসি বাংলা'য় একটা তথ্যবহুল প্রতিবেদন চাই কিংবা বিবিসি প্রবাহের আসছে অনুষ্ঠানের মূল প্রতিবেদনটিতে যেন বিশ্ব বেতার দিবসের আদ্যপান্ত বিশ্লেষণ করা হয়। বিবিসি বাংলাকে বিশ্ব বেতার দিবসের আগাম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালাম।"

আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সব বেতার শ্রোতাকেও এই সুযোগে আগাম শুভেচ্ছা আমাদের সবার পক্ষ থেকে। বিশ্ব বেতার দিবসের আদ্যোপান্ত বিশ্লেষণ বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চাইছেন জানিনা, তবে বেতার দিবসে তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রচারের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আশা করি শুনবেন।

১৩ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব বিতার দিবস উপলক্ষ্যে অনেক শ্রোতাই লিখেছেন। বিশ্ব বেতার দিবস ২০১৯ উপলক্ষে বেতারের সকল বন্ধুকে আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চাটমোহর,পাবনার পাছশুয়াইল রেডিও শ্রোতা ক্লাব থেকে ডা.এস.এম.. হান্নান। সুন্দর একটি শুভেচ্ছা কার্ডও আপনি পাঠিয়েছেন। ধন্যবাদ আপনাকে।

"দেশ ও মাটির টানে- বেতার বাজুক সবার প্রাণে"- এই শিরোনাম দিয়ে দীর্ঘ চিঠি লিখেছেন নাংগলকোট, কুমিল্লা থেকে মোঃ সোহাগ বেপারী। তার চিঠির অংশবিশেষ:

"হঠাৎ একদিন ছুটির দিন, তার পরও ঘুম ভেঙে গেল ভোরবেলায়। মাথার পেছনে আরেকটি বালিশ জুড়ে দিয়ে উঁচু হয়ে শুয়ে তারবিহীন দূর-শ্রবণযন্ত্রটি কানে লাগিয়ে রেডিও অন করে দিলাম-ভেসে এল চমৎকার স্মৃতিজাগানিয়া গান- দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায়। হারিয়ে গিয়েছিলাম অতীতের সেই দিনগুলোতে। সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছু বদলে গেছে। কিন্তু বদলায়নি তার বিহীন যন্ত্রনামের রেডিওটি। হয়তো এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে অনেক স্যাটেলাইট চ্যানেল এসেছে। এখন আর আগের মত রেডিও সবার ঘরে বাজেনা। কিন্তু সে তার গতিতে চলছে অবিরাম, অবিরত। বেতার আছে, থাকবে ইথারে ইথারে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে। বিশ্ব বেতার দিবসে সবার জন্য শুভ কামনা।"

ধন্যবাদ আপনাকে মি: বেপারী।

টাঙ্গাইলের বিলকিস আক্তার আরও লিখেছেন:

"বর্তমান অনলাইন রেডিও এবং এফএম রেডিওর ভিড়ে শর্টওয়েভ রেডিওর কথা সবাই বোধহয় ভুলতে বসেছে! বিবিসিও দেখি আর আগের মত শর্টওয়েভের মিটারব্যান্ডগুলো প্রচার করে না! কিন্তু বিবিসি কি জানে? অনলাইন যাদের হাতের নাগালে নেই ও এফএম শোনা যেখানে অনেক কষ্টসাধ্য সেখানেও অতি সহজেই শর্টওয়েভ রেডিওতে খবর শোনা যায়। যেমন আমার নিজেরই এখন শর্টওয়েভ রেডিওর উপরই নির্ভর করতে হয়! তাই বিবিসি বাংলা কর্তৃপক্ষের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, আপনারা প্রত্যুষা ও প্রবাহ দুটি অধিবেশনেই আপনাদের শর্টওয়েভ রেডিওর মিটারব্যান্ডগুলো অতি গুরুত্ব সহকারে প্রচার করবেন বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।"

শর্টওয়েভ ব্যাণ্ডে রেডিও এখন আগের তুলনায় কম লোকই শোনেন- তবু আপনি যেমনটা বলেছেন অনেকেই এখনও শর্টওয়েভ রেডিওর ওপর নির্ভরশীল। আমরাও তাই এফএম আর অনলাইনের পাশাপাশি শর্টওয়েভে সম্প্রচার এখনও চালু রেখেছি। তবে যেহেতু অধিবেশনের সময় ও সংখ্যা এখন সীমিত, তাই দুটি অধিবেশনে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে মিটারব্যাণ্ডগুলো প্রচার করলে অনেকখানি সময় ব্যয় করতে হবে। যারা শর্টওয়েভে শোনেন, তারা মিটারব্যাণ্ডগুলো জানেন এবং মিটারব্যাণ্ড বদলালে তা আমরা অবশ্যই জানিয়ে দিই এবং ভবিষ্যতেও দেব।

Image caption ঢাকায় বিবিসি বাংলার কর্মী

বিবিসিতে কর্মী নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

"বিবিসি বাংলা তার শ্রোতা, দর্শক এবং পাঠকদের কাছে তরতাজা সংবাদ পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে গত কয়েক বছরে ঢাকা অফিসের জনবল যথেষ্ট বৃদ্ধি করেছে। বিবিসির কোন সার্ভিসে অর্থাৎ ভাষা বিভাগে ঠিক কি পরিমাণ জনবল থাকবে সেটি কে ঠিক করে? কোনো সার্ভিস ইচ্ছা করলেই কি তাদের প্রয়োজনমতো জনবল বাড়িয়ে নিতে পারে? আর বিবিসিতে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা বিবিসি বাংলা কেন তার রেডিও শ্রোতাদের জন্য প্রচার করে না?"

প্রত্যেক ভাষা বিভাগের তার কাজের জন্য কতটা জনবল প্রয়োজন সেটা বিভাগের সম্পাদকই ঠিক করেন। তবে সব প্রতিষ্ঠানের মত বিবিসিতেও যারা ব্যয়বরাদ্দের এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন তাদের সঙ্গে আলোচনাক্রমেই বিষয়টা নির্ধারিত হয়। জনবল বাড়ানোর বিষয়টা অবশ্যই করা হয় প্রয়োজনের খাতিরে। আর বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের ঘোষণা নিয়মমাফিকভাবে দেয়ার সেরকম রেওয়াজ নেই। তবে নতুন কোন কর্মী কাজ শুরু করলে শ্রোতারা সেটা অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই সাধারণত জানতে পেরে যান। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

ইন্টারনেট ব্যবহার প্রসঙ্গে মৌকরন,পটুয়াখালী থেকে লিখেছেন শাহিন তালুকদার:

"শিশুরা নেট ব্যবহার করে, এই নিয়ে বিবিসির খবর। এটা তো পারিবারিক ব্যপার। এর চেয়ে পথ শিশু ও শিক্ষায় ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে খবর বা প্রতিবেদন করা যায় কি?''

পথশিশু ও শিক্ষায় ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে প্রতিবেদন আমরা বিভিন্ন সময়ে করেছি- ভবিষ্যতেও নিশ্চয়ই করব। কিন্তু এখন শিশুদের মধ্যে নেট ব্যবহারের প্রবণতা যেভাবে বাড়ছে তাতে বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এটি পারিবারিক দায়িত্বের ব্যাপার হলেও, অতিরিক্ত নেট ব্যবহার শিশুদের বেড়ে ওঠায়, তাদের মানসিক বিকাশের ওপর কীধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, নেট তাদের জন্য কীধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে, তা নিয়ে নানাধরনের গবেষণা হচ্ছে, নানা তথ্য আসছে। এসব খবর শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেয়ার একটা দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। মতামতের জন্য অপনাকে ধন্যবাদ।

Image caption শিশুদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে

(অনলাইন ব্যবহারে শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে বলছে ইউনিসেফ রিপোর্ট। প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন।)

(আরও পড়তে পারেন বাংলাদেশের শিশুরা অনলাইনে কীধরনের বিপদের মুখে আছে। এখানে ক্লিক করুন)

অভিযোগের একটি চিঠি লিখেছেন ধানমণ্ডি, ঢাকা থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

"বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে শাহনেওয়াজ রকির করা প্রতিবেদনটি পড়ছিলাম। পড়তে পড়তে দেখলাম প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলির কথা। এবং মধ্যেখানে লেখা হয়েছে "রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আজ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী" । ব্যাপারটা বুঝলাম না। অপরদিকে, প্রতিবেদনের নিচে বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে কি হলিউড থেকে বলিউডের প্রিয়াঙ্গা চোপড়ার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে? যদিও ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তবে হলিউড আর বলিউডের ভুলটিতে একটু খটকাই লাগলো। এরকম বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।"

আপনি ঠিকই লিখেছেন মি: শামীম উদ্দিন শ্যামল। লেখায় এধরনের ভুল মোটেই বাঞ্ছনীয় নয় এবং লেখকের আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি অবশ্যই হলিউড অভিনেত্রী- বলিউড অভিনেত্রী নন। (ভুলটি সংশোধন করে দেয়া হয়েছে।) তিনি রোহিঙ্গা শিবির দেখতে গিয়েছিলেন জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হিসাবে। তবে প্রতিবেদনটি শাহনেওয়াজ রকি লেখেননি। তার বরাত দিয়ে এটি লেখা হয়েছিল। আর প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ভিডিওটিও প্রাসঙ্গিক কারণেই দেয়া হয়েছিল। তিনিও জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত হিসাবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন গত মে মাসে। সেসময় তার সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন ক্যাম্পগুলোয় শিশুদের কী অবস্থা তিনি দেখেছেন। তবে এই ভিডিওটির প্রাসঙ্গিকতা উল্লেখ করা হয়ত আমাদের উচিত ছিল। আপনাকে ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption অ্যাঞ্জেলিনা জোলি- জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূত

হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ক্যাম্পে গিয়ে যা বললেন - বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।)

ফিচার অনুষ্ঠানগুলোর অভাব বোধ করছেন দৌলতপুর,কুষ্টিয়ার হাসান আল সাইফ:

"এখন বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান শুনে আগের মত আর তৃপ্তি পাইনা । আগে বিবিসি বাংলা থেকে খবরের পাশাপাশি ইতিহাসের সাক্ষী, মাঠে ময়দানে, গান গল্প, বিজ্ঞানের আসর, সাক্ষাতকারের মত সাপ্তাহিক ফিচার অনুষ্ঠান গুলো থেকে বিনোদন‌ও পেতাম। এখন বিবিসি বাংলা যুগের সাথে তাল মেলানোর বরাত দিয়ে রেডি‌ও থেকে দিনে ২টি অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে অনলাইনে অনেক খবর প্রকাশ করছে এবং টেলিভিশনে সপ্তাহে ২টি অনুষ্ঠান প্রচার করছে, যা এই ফিচার অনুষ্ঠান গুলোর অভাব পূরনে একেবারেই অক্ষম। সুতরাং, এই ফিচার অনুষ্ঠানগুলো যে কোন মাধ্যমে কি আবার প্রচার করা যায় না?"

মি: হাসান আল সাইফ আপনার অতৃপ্তির কারণ বুঝতে পারছি। কিন্তু এই অনুষ্ঠানে বিবিসি বাংলার সম্পাদক একাধিকবার বলেছেন কেন রেডিও থেকে দুটি অধিবেশন আমাদের বাদ দিতে হয়েছে, যার কারণে আপনাদের অনেকের কাছে জনপ্রিয় এই ফিচারগুলো বেতার সম্প্রচার থেকে বাদ পড়েছে। ফিচার অনুষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে কোন মাধ্যমে প্রচার করার সুযোগ আপাতত নেই। তবে অনিয়মিতভাবে ইতিহাসের সাক্ষী এবং সাক্ষাৎকার আমরা মাঝেমধ্যে আমাদের ওয়েবসাইটের ফিচার সেকশনে প্রচার করি। যেমন এই মুহূর্তে আমাদের ওয়েবসাইটে ইতিহাসের সাক্ষীতে লিখিত কাহিনিতে পাবেন বিশ্বের শেষ গুটি বসন্তের মহামারিতে ১৯৭৪ সালে ভারতে কীভাবে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছিল এবং কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল সেই মহামারি। সাক্ষাৎকারও আছে একটি তবে তা কিছুটা পুরনো। আপনাকে নিরাশ করতে হচ্ছে বলে দু:খিত। লেখার জন্য ধন্যবাদ। বাবুপাড়া, দক্ষিণ পানাপুকুর, রংপুর থেকে লিখেছেন দেব প্রসাদ রায়।

অনুষ্ঠান সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি :

''৪ঠা ফেব্রুয়ারি প্রবাহ অনুষ্ঠান ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর ক্যান্সার যুদ্ধের গল্পঃ 'দ্বিগুন মনোবল নিয়ে লড়াই করতে হবে' শীর্ষক প্রতিবেদনটি পড়লাম ও ভিডিও সাক্ষাৎকারটিও শুনলাম। তার অদম্য সাহস ও দৃঢ় মনোবলের কথা শুনে বেশ ভাল লাগলো। সত্যিই সে অত্যন্ত সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ক্যান্সারের কথা শুনে অনেকেই খুব ভয় পায়, ক্যান্সার মানেই মৃত্যু এবং মনোবল হারিয়ে ফেলে, সেক্ষেত্রে সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী সত্যিই ব্যতিক্রম। বিবিসি বাংলাকে এ ধরণের একটি অনুপ্রেরণা ও সচেতনতামূলক প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।''

বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্যান্সার নিরাময়ে চিকিৎসা এবং ওষুধের পাশাপাশি সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর মতো প্রবল ইচ্ছেশক্তি ও উঁচু মনোবল থাকাটা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। সাক্ষাৎকারটি আপনার ভাল লেগেছে জেনে ভাল লাগল। আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য নিয়ে আরেকটি চিঠি। লিখেছেন নূর আহমদ তার লম্বা চিঠির অংশবিশেষ:

''হার্ট অ্যাটাক নিয়ে দীর্ঘদিনের ভাবনা, পর্যবেক্ষণ এবং হার্ট অ্যাটাকের ব্যাপক প্রচারিত কারণটি বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দেখার পর কারণটি সম্পর্কে আমার আশৈশবের বিশ্বাসটি পাল্টে গেছে। অসংখ্য শক্তিশালী গবেষণা, অসংখ্য ডাক্তারের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্য এবং সাধারণ মানুষের খুব কমন ধারণার বিপরীতে চলে গেছে আমার বিশ্বাস। আমি এ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে বাধ্য হয়েছি, হার্ট অ্যাটাকের জন্য টেনশনও অনেক সময় দায়ী হতে পারে, তবে টেনশন বা মানসিক অস্থিরতা রোগটির মূল বা প্রত্যক্ষ কারণ নয়। রোগটির মূল কারণ হচ্ছে, কায়িক শ্রম থেকে দূরে থাকা বা কায়িক শ্রম কম করা, আলস্য বা আরামপ্রিয় জীবনযাপন, মুটিয়ে যাওয়া, বেশি বেশি খাওয়া বা ক্ষুধা না লাগতেই খাওয়া ইত্যাদি উপায়ে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ার সুযোগ দেয়া। যেসব লোক দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পর্যাপ্ত কায়িক শ্রম বা ব্যায়াম করা, শরীর হালকা রাখা, পরিমিত খাওয়া ইত্যাদি উপায়ে শরীরে কোলেস্টেরল বাড়তে দেয় না, তারা যত টেনশন করুক, হৃদরোগে আক্রান্ত হয় না।''

চিকিৎসক ও গবেষকরা বেশ কিছুদিন থেকেই বলছেন হার্ট অ্যাটাকের কারণ একটা নয়। শুধু টেনশন বা মানসিক উদ্বেগ নয়, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপনের ধারা এমনকী বংশগত কারণেও মানুষ হৃদরোগের শিকার হতে পারে। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

(হৃদরোগ ঠেকাতে দরকার সপ্তাহে অন্তত চারদিন ব্যায়াম- বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন পড়তে এখানে ক্লিক করুন।)

ফেসবুকে প্রশ্ন করেছেন মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ্ সুজন:

''আচ্ছা, আপনারা কি বিবিসি অ্যারাবিক, বিবিসি পার্সিয়ান-এর মত বিবিসি বাংলা নামে আলাদা একটা চ্যানেল খুলতে পারেন না ? আমরা ৩০ কোটি বাংলাভাষী কি আপনাদের কাছে মূল্যহীন ?''

মি: সুজন- এটা মূল্যায়নের প্রশ্ন নয়- পুরোপুরি আর্থিক সঙ্গতির প্রশ্ন। বিবিসি বাংলার নিজস্ব টিভি চ্যানেল চালু করতে যে পরিমাণ অর্থবল প্রয়োজন তা বিবিসি বাংলার নেই। আর একটা আলাদা টিভি চ্যানেল চালু করার পেছনে যে প্রাতিষ্ঠানিক যৌক্তিকতা দরকার সেটাও এই মুহূর্তে যথেষ্ট জোরালো নয়। আপনাকে ধন্যবাদ।

টিভি নয় ফেসবুক নিয়ে কপোতাক্ষ থেকে লিখেছেন বিবিসির একজন শ্রোতা শিমুল:

''ফেসবুক হতেই আপনাদের কাছে চিঠি লেখার ঠিকানা সংগ্রহ করেছিলাম। আবার এই ফেসবুক থেকেই আমার-১ম পত্রখানা যে গুরুত্বসহকারে পড়েছেন ; সেটাও নজরে এসেছে। আপনারা বিভিন্ন সময় ফেসবুকে পাঠকের করা মন্তব্যকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেন। যেটা সত্যই খুবই যুগোপযোগী উদ্যোগ। আর, যারা আপনাদের সমালোচনা করে লিখেন; তাদের মতামতও প্রকাশ করে থাকেন কখনো কখনো। যেটা শুধু আমি কেনো, সবাই স্বীকার করবে বিবিসির প্রধান শক্তি। এই জন্য আপনারা ব্যতিক্রম অন্যদের থেকে! বেশী করে পাঠককে ধরে রাখতে হলে, মাঝে মধ্যে ফেসবুকে করা মন্তব্যগুলোর কিছু সংখ্যক উত্তর দিতে হবে।''

আসলে ফেসবুকে সব শ্রোতার মন্তব্যের জবাব দেবার জন্য যে পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন সেটা আমাদের নেই। আমাদের খবরাখবর আমরা ফেসবুকে দেবার পর আপনারা মতামত দেন। আমরা সেগুলো পড়ি। বিদ্বেষপূর্ণ, অবাঞ্ছিত ও অন্যকে আঘাত করে দেয়া মন্তব্য আমরা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করি। আমরা চাই খবরটি আপনারা পড়বেন, মতবিনিময় করবেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন, খবরটি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন, খবরটি ভাল লাগলে লাইক দেবেন । আর চিঠি লিখতে চাইলে অবশ্যই Bengali@bbc.co.uk এই ঠিকানায় লিখবেন।

ছবির কপিরাইট .
Image caption পরিবেশের ভারসাম্য বজায় না রাখা গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে

শুরু করেছিলাম জলবায়ু পরিবর্তন দিয়ে। শেষ চিঠিও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে। লিখেছেন পাইকগাছা, খুলনা থেকে আরিফুল ইসলাম:

"আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে বিবিসি বাংলা ২০১৮ সালে ব্যাপক প্রচার করেছে, যা আমাদের সতর্ক করেছে পরিবেশের ভারসম্য বজায় রাখার জন্য । যেহেতু দিন দিন মানুষের কর্মকান্ডের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে যার ফলে আগামি দিনে খাদ্য উৎপাদন ও জীবনযাত্রার মান খুবই সমস্যার মুখে পড়বে । তাই এই রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন সামনের দিন গুলোতে প্রচার করে আমাদের আরওসতর্ক করবেন আশা করি।"

আবহাওয়া ও জলবায়ু গোটা মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এবং এ বিষয়ে খবরাখবর প্রচার আমরা অবশ্যই অব্যাহত রাখব। চিঠি লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার:

সাইফুল ইসলাম, বরপেটা, আসাম।

মাহামুদুর রহমান রিসাত, হাতিয়া, নোয়াখালী।

মোঃ ফিরোজুল ইসলাম, বড়গ্রাম,ঠাকুরগাঁও।

মোঃ আব্দুল হক, বড়কমলাবাড়ি, লালমনিরহাট।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

মোঃ মিজানুর রহমান, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

মোসাম্মত সাবিনা ইয়াসমিন, ভাকুর্তা, সাভার।

তানভীর মোস্তাফা, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, বি এ এফ শাহীন কলেজ।

দিপক চক্রবর্তী, পঞ্চগড় ।

দেব প্রসাদ রায়, বাবুপাড়া, দক্ষিণ পানাপুকুর, রংপুর।

তাজ, পীরগাছা, রংপুর।

মোঃ নুর আলম ছিদ্দিক, রামচন্দ্রপুর গরদিঘী,গাইবান্ধা।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/