সাপ দেখিয়ে পুলিশের স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা ইন্দোনেশিয়ায়

পুলিশ অবশ্য সাপ ব্যবহারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে। ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption পুলিশ অবশ্য সাপ ব্যবহারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে।

কথায় বলে সাপ দেখলে কে না ভয় পায়! সন্দেহভাজন এক চোরকে আটকের পর তাকে ভয় দেখিয়ে কথা বের করার জন্যে তার গায়ে সাপ জড়িয়ে দেবার ঘটনা জানাজানি হবার পর এ নিয়ে হৈচৈ শুরু হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় এ ঘটনার জন্যে পুলিশ দুঃখ প্রকাশ করেছে।

হয়তো এই ঘটনাটি জানাজানিই হতো না। কিন্তু পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তির গায়ে সাপ পেঁচিয়ে দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়।

মানবাধিকার কর্মীরাও এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, পাপুয়া অঞ্চলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা ধৃত এক ব্যক্তির গায়ে একটি সাপ জড়িযে দিচ্ছেন, আর হাতকড়া পরা লোকটি ভয়ে চিৎকার করছে।

পুলিশ সন্দেহ করেছিল যে ওই লোকটি একটি মোবাইল ফোন চুরি করেছে।

স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর প্রধান জিজ্ঞাসাবাদের সময় সাপ ব্যবহারের কৌশলের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে বলেছেন, সাপটি ছিল পোষা এবং নির্বিষ। তবে এই ঘটনাকে তিনি অপেশাদার বলে মন্তব্য করেছেন।

"ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নিয়েছি," এক বিবৃতিতে একথা বলেছেন টন্নি আনন্দা সদায়া।

তবে তিনি দাবি করেছেন, পুলিশ ওই ব্যক্তিটিকে মারধর করেনি। স্বীকারোক্তি আদায়ের লক্ষ্যে তারা শুধু তাদের নিজেদের উদ্ভাবিত এক কৌশল কাজে লাগিয়েছেন।

আরো পড়তে পারেন:

বাবা মা যখন সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করেন

দেশে স্মার্টফোন ঝুঁকিতে - নিরাপদ থাকার উপায়

এক সপ্তাহেই যেভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল বিশাল এক নদী

এই ভিডিওটি টুইট করেছেন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ভেরোনিকা কোমন। তিনি দাবি করেছেন যে সম্প্রতি পুলিশ নাকি পাপুয়ার স্বাধীনতাপন্থী এক আন্দোলনকারীকে আটক করার পর তাকে সাপসহ একটি সেলের ভেতরে রেখেছিলেন।

ভিডিওতে একটি কণ্ঠ সন্দেহভাজন ওই চোরকে নানা ভাবে ভয় দেখাতে শোনা যায়। কখনও বলা হচ্ছিল যে তার মুখে বা প্যান্টের ভেতরে সাপ ঢুকিয়ে দেওয়া হবে ।

পাপুয়াতে যেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইন্দোনেশিয়া থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার জন্যে আন্দোলন করছে, তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর প্রায়শই শোনা যায়।

পাপুয়া নিউ গিনির সাথে সীমান্তের এই এলাকাটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ১৯৬৯ সালে এটি ইন্দোনেশিয়ার অংশ হয়ে যায়।