কেন বসবাস জীবন্ত আগ্নেয়গিরির ঠিক নিচেই ?

কেপ ভার্দের আগ্নেয়গিরি - স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি ছবির কপিরাইট Gallo Images
Image caption কেপ ভার্দের আগ্নেয়গিরি - স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি

আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমে আটলান্টিকের বুকে একটি দ্বীপপুঞ্জের নাম কেপ ভার্দে। অসংখ্য সক্রিয় আগ্নেয়গিরিতে ঘেরা এই দেশের দ্বীপগুলো, আর তা থেকে অগ্ন্যুৎপাতও হয়ে থাকে নিয়মিত।

সম্প্রতি কেপ ভার্দেতে একটি আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা নি:সরণের পর তা নিচের গ্রামগুলোকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

লাভার স্রোত ঢুকে পড়েছে বহু লোকের বসার ঘরে পর্যন্ত, কিন্তু তারপরও তারা সেই বাড়িঘর ছেড়ে যেতে চাইছেন না।

সাবেক ব্রিটিশ প্যারাঅলিম্পিয়ান অ্যাথলিট এড অ্যাডেপশিয়ান দেখা করতে গিয়েছিলেন কেপ ভার্দের এমনই একজন বাসিন্দার সঙ্গে।

ছবির কপিরাইট বিবিসি
Image caption রামিরোর বাড়ির ভেতর তার সঙ্গে প্যারা-অ্যাথলিট অ্যাডেপশিয়ান (বাঁয়ে)

আসলে আমি বা আপনি কি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির পাদদেশে থাকতে রাজি হব? উত্তরটা নিশ্চয়ই হবে না।

অথচ কেপ ভার্দের অনেক লোকজন কিন্তু ঠিক সেটাই করছেন - আর তাদেরই একজনের বাড়িতে গিয়ে একেবারে তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন সাবেক প্যারা-অ্যাথলিট এড অ্যাডেপশিয়ান।

রামিরোর বাড়িতে ঢুকেই তিনি দেখেন, ড্রয়িং রুমের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়েছে জমাট লাভাস্রোত।

বিস্ময় চাপতে না-পেরে তিনি বলে ওঠেন, "এটা কী করে সম্ভব? এ তো অবিশ্বাস্য! দেওয়ালে পর্যন্ত ফাটল ধরে গেছে লাভার চাপে।"

ছবির কপিরাইট Arterra
Image caption আগ্নেয়গিরির পাদদেশে কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ

ওই বাড়ির মালিক, ব্যবসায়ী রামিরো কিন্তু বলছিলেন, "যখন অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয় আমরা একেবারেই ভাবিনি যে সেটা এত ভয়ঙ্কর হবে।"

"তবুও আমাদের সৌভাগ্য বলতে হবে ও আমি ও আমার ছেলে মিলে বাড়িতে যা সব দামী জিনিসপত্র ছিল তার প্রায় সবই বের করে নিতে পেরেছিলাম।"

জমাট লাভা থেকে একটা পাথরের টুকরো হাতে তুলে নিয়ে অ্যাডেপশিয়ান বলতে থাকেন, "বিশ্বাস করা যায় এটা একটা আগ্নেয় শিলা?"

"ভাবুন তো, নিজের ড্রয়িং রুমে বসে আপনি টিভিতে ইস্টএন্ডার দেখছেন আর রিল্যাক্স করছেন - এমন সময় হঠাৎ গরম লাভার স্রোত হুড়মুড় করে আপনার ঘরের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়ল!"

"আমি তো ভেবেই স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছি - বিশ্বাসই করতে পারছি না এমন কিছু কখনও ঘটতে পারে।"

ছবির কপিরাইট oneworld picture
Image caption আগ্নেয়গিরির পাদদেশে এই সেই ফোগো আইল্যান্ড

কেপ ভার্দের ফোগো আইল্যান্ডে 'পিকো দো ফোগো' আসলে একটি খুবই সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, আর এই সাঙ্ঘাতিক কান্ডটি সেই ঘটিয়েছে।

সেটির অগ্ন্যুৎপাতে আচমকা ভেসে গেছে নিচের দুটি গ্রাম - কিন্তু তার পরও রামিরো ও তার বন্ধুরা কিছুতেই সেই গ্রাম থেকে সরতে রাজি নন।

ওই গ্রামের লাভাবিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে অ্যাডেপশিয়ান তাকে জিজ্ঞেস না-করে পারেন না, "মাথার ওপর এত বিশাল একটা আগ্নেয়গিরি থেকে যে কোনও সময় উদ্গীরণের ভয় - সেই আতঙ্ক মাথায় নিয়ে এই গ্রামে কীভাবে পড়ে থাকতে পারেন?"

রামিরো নির্বিকারভাবে জবাব দেন, "আমি আসলে জীবনে দু-দুবার সাঙ্ঘাতিক অগ্ন্যুৎপাত দেখেছি - দেখেছি কীভাবে গরম ফুটন্ত লাভার স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"

"কিন্তু বিশ্বাস করুন কখনও দেখিনি সেই অগ্ন্যুৎপাতে কাউকে মারা যেতে - আর সেটাই আমাকে এখনও এই গ্রামে রয়ে যাওয়ার ভরসা জুগিয়েছে, আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।"

সম্পর্কিত বিষয়