পঞ্চগড়ে আহমদীয়াদের জলসা স্থগিত করেছে প্রশাসন

মঙ্গলবার রাতে আহমদনগর গ্রামে হামলার পর ছবির কপিরাইট Amed Tafsir Chowdhury
Image caption মঙ্গলবার রাতে আহমদনগর গ্রামে হামলার পর

বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের কাছে লেখা এক চিঠিতে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে তাদের ধর্মীয় জলসার সরকারি অনুমতি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

আহমদীয়া মুসলিম জামাতের অন্যতম শীর্ষ নেতা আহমদ তবশির চৌধুরী বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা বুধবার রাত দশটা নাগাদ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন যাতে ফেব্রুয়ারি ২২ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত তাদের 'জলসা এবং মহা-সমাবেশ' করার অনুমতি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

মি চৌধুরী বলেন, কোনো কারণ দর্শানো হয়নি, শুধু লেখা হয়েছে অনিবার্য কারণবশত প্রশাসন অনুমতি স্থগিত করছে।

পঞ্চগড়ের উপকণ্ঠে আহমদ নগর গ্রামে গত ৬০ বছর ধরে আহমদীয়া সম্প্রদায় বাৎসরিক এই জলসা করে।

তবে সম্প্রতি খতমে নবুয়ত নামে একটি কট্টর ধর্মীয় সংগঠন, যারা আহমদীয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছে, তারা একই গ্রামে একই সময়ে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকে।

উত্তেজনার মাঝে, মঙ্গলবার রাতে আহমদনগরে আহমেদীয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বেশ কিছু বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়।

পরদিনই বুধবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহমদীয়াদের জলসার এই অনুমতি স্থগিত করা হলো।

ছবির কপিরাইট Ahmed Tafsir Chowdhury
Image caption আহমদীয়া নেতাদের কাছে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের চিঠিতে

৬০ বছরে প্রথম বাধা

আহমদ তাফসির চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, "ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত" হলেও সরকারের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন। "আমরা কখনো কোনো বিরোধে জড়াতে চাইনা।"

তিনি বলেন, অনুষ্ঠান না করতে পারায় তাদের প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হবে। "অনুষ্ঠানের জন্য সমস্ত আয়োজন প্রায় শেষের পথে ছিল। মূল প্যান্ডেল, আগতদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা প্রায় শেষ।"

আহমদীয়া জামাত আশা করছিল তাদের এই জলসা এবং 'মহা-সমাবেশে' আট থেকে ১০ হাজার লোক হবে।

এর আগে, আহমদীয়া মুসলিম জামাতের আমির মোবাশ্বেরুর রহমান বিবিসিকে বলেন, পঞ্চগড়ে জলসা করতে গিয়ে বাধা পাবেন, এটা তারা কখনো ধারণা করেননি।

"পঞ্চগড়ে ১৯৬০সাল থেকে আমাদের জলসা হচ্ছে। সেখানে আমাদের এই জলসা কখনই বাধার মুখে পড়েনি...খুবই দু:খজনক।"

আহমদ তাফসির চৌধুরী - যিনি আহমদীয়া মুসলিম জামাতের একজন নায়েব ন্যাশনাল আমীর - বিবিসিকে বলেন, জানুয়ারিতে তাদের বাৎসরিক জলসার অনুমতি পাওয়ার পর সরকারের "উঁচু পর্যায়" থেকে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান করার নিশ্চয়তা পেয়েছিলেন তারা।

তিনি বলেন, তারপরও এ ধরণের ঘটনা "দুঃখজনক।"

"তারা (প্রশাসন)কোনো ঝামেলা চাইছে না। আমাদের নিয়ে প্রশাসনের ভেতর কেমন যেন জুজুর ভয় কাজ করে।"

ছবির কপিরাইট Ahmed Tafsir Chowdhury
Image caption এই মাঠেই আহমদীয়াদের জলসার আয়োজন চলছিল

আহমদীয়া জামাতের আমীর মোবাশ্বেরুর রহমান বলেন, ধর্মীয় কট্টরপন্থীরাই তাদের ওপর হামলা করেছে এবং এর বিচার চান তারা।

"ধারালো অস্ত্র নিয়ে তারা যে আক্রমণ করেছে, এটি তাদের পুরোনো স্টাইল। এই খতমে নবুয়ত তারা পাকিস্তান থেকে এটা আমদানি করেছে।"

পঞ্চগড় শহরের উপকণ্ঠে আহমদনগর নামে যে গ্রামটিতে এ মাসের ২২ থেকে ২৪ তারিখ এই জলসা হওয়ার কথা, সেই গ্রামটিতে এই সম্প্রদায়ের অনেক লোকজনের বসবাস।

সম্প্রতি একই গ্রামে একই সময়ে ধর্মীয় সমাবেশের ডাক দেয় খতমে নবুয়ত নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন - যারা বহুদিন ধরে আহমদীয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছে।

মঙ্গলবার রাতে আহমদনগরে আহমদীয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

ধর্মভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আহমদীয়াদের বিরুদ্ধে ঢাকায় ২০০৩ সাল থেকে দুই বছর ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল।

একপর্যায়ে সংগঠনটির নেতারা বিভক্ত হয়েছিলেন পরস্পরের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে। এখন আবার পঞ্চগড়ে এই সংগঠনের ব্যানারে আহমদীয়াদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি নেয়া হয়।

এদিকে কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতা আহমদ শফীও মঙ্গলবার হামলার ঘটনার দিনে এক বিবৃতি দিয়ে পঞ্চগড়ে আহমদীয়া বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন। বুধবার আবার তার পক্ষে চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে সংবাদ সম্মেলন করে আহমদীয়া মুসলিম জামাতকে নিষিদ্ধ করার তাদের পুরোনো দাবি তুলে ধরা হয়।