ঢাকার চকবাজারের আগুন: 'বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোকের ডেডবডি দেখতে পাচ্ছি'

পুরানো ঢাকার আগুন ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ঘটনাস্থল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

পুরানো ঢাকার চকবাজারের অগ্নিকান্ড প্রায় ৯৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, এমন ঘোষণার এক ঘন্টার মধ্যে নতুন করে আগুন জ্বলা শুরু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ১২জন মানুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট এই মূহুর্তে কাজ করছে।

তবে, মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরুর ঠিক আগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, বিবিসি নিউজ বাংলাকে জানিয়েছেন, আগুনে ৪০ থেকে ৫০ জন মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন।

"বিচ্ছিন্নভাবে আমরা দেখতে পেয়েছি কিছু লোকের ডেডবডি পড়ে আছে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমরা সার্চ (অনুসন্ধান) করে দেখবো।

তখন নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে। অনেক বডি পুড়ে বিকৃত হয়ে গিয়েছে।"

"আমাদের এখানে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র এসেছেন, অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংস্থা আছে, যাদের নিয়ে আমরা ঘটনার পুরো বিস্তারিত (ডিটেইল) জানাব কতজন মারা গেছে, কতজন বার্ন হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত মৃত লোক অনেক আছে, এটা দেখা যাচ্ছে।"

আরো পড়তে পারেন:আগুনে নিহত ১২, এ সংখ্যা বাড়বে আশংকা দমকলের

চকবাজারের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে

তবে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ছবির কপিরাইট .
Image caption আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে দমকল বাহিনী

আগুনের সূত্রপাত

মিঃ খান জানিয়েছেন, আগুন কিভাবে লেগেছে তা নিশ্চিত জানা যায়নি এখনো।

"এটি তদন্ত ছাড়া বলা যাবেনা, তার আগ পর্যন্ত বলা যায় না ঠিক কিভাবে আগুন লেগেছে।

এখন পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন রকম তথ্য পাচ্ছি, কেউ বলছে সিলিন্ডারের গ্যাসের আগুন কেউ বলছে সিএনজি গাড়ির সিলিন্ডার এক্সপ্লোড করেছে।

ফলে তদন্ত না করে আমি বলতে পারবো না।"

"তবে আগুনটা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ আশেপাশে দাহ্য পদার্থ বা রাসায়নিক ছিল।

এখানে প্লাস্টিক ছিল, এবং অ্যারোসল বানাত। যে কারণে আগুন দ্রুত নিচ থেকে ওপরে, এবং এরপর আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছে।"

অনুমতি নেই রাসায়নিক রাখার

২০১০ সালের জুনে পুরানো ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিকের কারখানায় আগুন ধরে ১২৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

এরপর পুরানো ঢাকার আবাসিক এলাকায় রাসায়নিকের কারখানা বা সংরক্ষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

তাহলে কিভাবে চকবাজারে রাসায়নিকের গুদাম থাকতে পারে?

বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে মিঃ খান বলেন, "নিষেধাজ্ঞার পরেও অনেকে হয়ত চোরাইভাবে রেখে ব্যবসাবাণিজ্য করে।

কর্তৃপক্ষের অগোচরে কাজ করে তারা। কিন্তু এর পরিণতি হচ্ছে এ ধরণের ঘটনা। "

সরু রাস্তা ও পানির সংকট

চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে, এর কারণ হিসেবে মিঃ খান সরু রাস্তা ও পানির সংকটকে প্রধান সমস্যা বলে চিহ্নিত করেছেন।

"অনেক দূর ঘুরিয়ে গাড়ি ভেতরে আনতে হয়েছে। সেই সঙ্গে এটা একটা জনবহুল এলাকা তাই আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগছে বেশি।"

এছাড়া এখানে পানির অভাবও রয়েছে। এখন পুকুর থেকে পানি এনে কাজ চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে তিনি জানিয়েছেন আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

ফায়ার সার্ভিসের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে ৮৮ হাজার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

প্রাণহানি হয়েছে ১৪০০ জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫০০০ মানুষ।

সম্পর্কিত বিষয়