চকবাজার অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত: যেভাবে আগুন লেগেছে পুরনো ঢাকার এই ব্যবসা কেন্দ্রে

চকবাজারের আগুন ছবির কপিরাইট Abu Sufian Jewel
Image caption চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় দমকল বাহিনী

ঢাকার চকবাজারে যেভাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে, সে সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মফিজুল হককে প্রধান করে গঠিত একটি তদন্ত কমিটির ওই প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে রাসায়নিক নয়, বরং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাত ১০.৩০ মিনিট নাগাদ চকবাজারের চুরিহাট্টা জামে মসজিদ সংলগ্ন আসগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড ও হায়দার বক্সলেন-এর মিলনস্থলে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়।

এতে বলা হয়, এই গলিপথের একপাশে ওয়াহিদ ম্যানশন, অন্যপাশে বাচ্চু মিয়ার বাড়ি। উক্ত ওয়াহিদ ম্যানশনের নিচতলায় হোটেল এবং উপরের তলায় একটি কসমেটিকসের গোডাউন ছিল।

আরও পড়তে পারেন:

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: দাহ্য পদার্থ নিয়ে বিস্ফোরক পরিদপ্তর যা বলছে

ভয়াবহ আগুনে নিহত ৭৮, স্বজনরা লাশ পাবেন কিভাবে?

এছাড়াও আশেপাশে কয়েকটি দোকানে বিক্রয়ের জন্য প্লাস্টিকের গ্রেনুলার রক্ষিত ছিলো, তবে আশেপাশে কেমিকেলের কোন কারখানা বা গোডাউন ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের কমিটি বলেছে, এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি গাড়ি রাখা ছিল এবং সে সময় হোটেলে অথবা গাড়িতে রাখা একটি গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়।

"উক্ত বিস্ফোরণের ফলে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং উক্ত আগুন বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমারে ধরে যায়। এতে উক্ত ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণ ঘটে।"

ছবির কপিরাইট Munir uz Zaman
Image caption অগ্নিকাণ্ডের পর চকবাজারের পরিস্থিতি

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরণের পর সম্পূর্ণ এলাকা পুরো অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, ফলে ওই এলাকার বাসিন্দারা অন্ধকারে বের হওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেন।

ওয়াহিদ ম্যানশন ও বাচ্চু মিয়ার বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং সিলিন্ডারভর্তি গাড়িটি ভস্মিভূত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, রাস্তায় কসমেটিকসের প্রচুর বোতল ও প্লাস্টিকের গ্রেনুলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের স্থানে পরিদর্শনে গিয়েছিলে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন সহ সরকারী কর্মকর্তারা। এরপর শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনটি দেয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজে যে ৫২ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৪১ জনই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।

হাসপাতালে ভর্তি অগ্নিদগ্ধ কোন রোগী থেকে কেমিকেলের চিহ্ন অথবা গন্ধ পাওয়া যায়নি এবং অগ্নিদগ্ধ দেহগুলো 'ড্রাই ফ্রেম'-এ দগ্ধ ছিল - বলছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন।

অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মফিজুল হককে আহবায়ক করে যে ১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তাদেরকে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পাঁচ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়