চট্টগ্রাম বিমান ছিনতাই চেষ্টা: নিহত ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

  • সায়েদুল ইসলাম
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
চট্টগ্রামে বিমানে অভিযান চালানোর পরের দৃশ্য

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

চট্টগ্রামে বিমানে অভিযান চালানোর পরের দৃশ্য

চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান ছিনতাই চেষ্টার সময় নিহত ব্যক্তির পরিচয় উদ্ধারের দাবি করেছে র‍্যাব।

নিহত ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে র‍্যাবের অপরাধী তথ্যভাণ্ডারে রক্ষিত তথ্যে একজন অপরাধীর সঙ্গে মিল পেয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার র‍্যাবের পাঠানো একটি ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ পলাশ আহমেদ। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এর পিরিজপুরের দুধঘাটায়।

র‍্যাব জানিয়েছে, নারী অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির একটি মামলায় এর আগে সে র‍্যাবের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছিল।

বিমানের যাত্রী তালিকা অনুযায়ী, তিনি বিজি-১৪৭ ফ্লাইটের ঢাকা- চট্টগ্রামের যাত্রী ছিলেন। সেখানে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে Ahmed/MD Polash। তার আসন নম্বর ছিল 17A।

পাশাপাশি রবিবার রাতে নিহত ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ।

আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান,

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সেনা সদস্যদের একটি দল

বাড়িতে গিয়ে পুলিশ যা বলছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পলাশ আহমেদ ২০১১-১২ সালে স্থানীয় তাহিরপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। পরে স্থানীয় মোগড়াপাড়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হলেও পড়াশুনা শেষ করতে পারেননি।

এলাকায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণার বেশ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে টাকাপয়সা নিয়েছেন বলে মি. ইসলাম জানিয়েছেন। তবে তার নামে থানায় কোন মামলা নেই।

নারায়ণগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ রবিবার রাতেই ওই গ্রামে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। মৃতদেহের ছবি দেখিয়ে তার পরিচয়ও সনাক্ত করা হয়েছে।

মি. আজাদ বিবিসিকে বলছেন, পলাশ আহমেদ ওরফে মাহিবী ঢাকায় বসবাস করলেও প্রায়ই গ্রামে যাতায়াত করতেন। ঢাকায় গিয়ে মাহিবী জাহান নাম নিয়ে তিনি শোবিজ মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন।

সেখানে 'কবর' নামে একটি শর্ট ফিল্মে তিনি অভিনয় ও প্রযোজনা করেছেন। মাঝে কিছুদিন তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে বগুড়ায় একটি বিয়ে করলেও সেই মেয়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। পরে সাবেক একজন নায়িকাকে তিনি তিন বছর আগে বিয়ে করেন।

তবে এই বিয়ে নিয়ে পরিবার সন্তুষ্ট ছিল না। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে দুইবার গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে বয়সে বড় মেয়েকে বিয়ে করায় বাড়ির কেউ তার ওপর সন্তুষ্ট ছিল না।

ছবির উৎস, BBC BANGLA

ছবির ক্যাপশান,

বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে

পরিবার যা বলছে

মাহিবী জাহান ওরফে পলাশ আহমেদের সঙ্গে প্রায় বিশ বছরের বড় ওই নায়িকার বিয়ের খবরটি কয়েক বছর আগে ঢাকার বেশ কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। সেসব খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই ব্যক্তিটি লন্ডনে বসবাস করেন, পেশায় ব্যবসায়ী।

তবে শোবিজ মিডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছাড়া আর কোন ব্যবসার কথা জানাতে পারেনি পলাশ আহমেদের পরিবার।

পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সর্দার দীর্ঘদিন সৌদি আরব ও কুয়েতে ছিলেন। পাঁচ বছর আগে দেশে ফিরে তিনি মুদির দোকান শুরু করেন।

তার চার সন্তানের মধ্যে পলাশ দ্বিতীয়, বাকি তিনজন মেয়ে। পলাশের মা স্ট্রোক করার পর গতকালই হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছেন।

পলাশ বেশিরভাগ সময় ঢাকাতেই থাকতেন। সেখানে সে নাটক সিনেমার সঙ্গে জড়িত বলে বাড়ির লোকজন জানতো।

সর্বশেষ কিছুদিন আগে বাড়িতে ফিরে একটানা ১৫দিন বাড়িতেই ছিলেন।

পিয়ার জাহান বিবিসিকে বলছেন, ''শুক্রবার দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় পলাশ। সে সময় তাকে বলেছিলাম, এইবার গিয়ে অনেকদিন থেকো। টাকাপয়সা আর নষ্ট করো না।''

মাহিবী ওরফে পলাশ আহমেদের আয়ের উৎস নিয়ে পরিবার বা পুলিশ পরিষ্কার ভাবে কিছু জানাতে পারেনি।

পিয়ার জানান বলছেন, ''সে অনেকদিন ধরেই সে বাড়ি থেকে টাকাপয়সা নিয়ে নষ্ট করেছে। মাঝে মাঝেই পাঁচ হাজার দশ হাজার করে টাকা নিয়ে যেতো।"

"শেষের দিকে আমরা আর টাকা পয়সা দিতে চাইতাম না। তবে মিডিয়ায় কাজ করে সেখান থেকেও হয়তো কিছু আয় করতো।''

ছবির উৎস, GOOGLE MAPS

ছবির ক্যাপশান,

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

তার নামে খোলা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কী আছে?

মাহিবী জাহান ওরফে পলাশ আহমেদের ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে একজন নায়িকার সঙ্গে বেশ কিছু ছবি দেখা যায়। সেখানে চলচ্চিত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ছবিও রয়েছে। একটি ছবিতে তার হাতে একটি পিস্তলও দেখা যায়।

রবিবার বিকালে ময়ূরপঙ্খী নামে বাংলাদেশ বিমানের ওই উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। তবে চট্টগ্রাম যাবার পথে একজন যাত্রী পাইলটকে পিস্তল ধরে কিছু দাবি জানান।

সন্ধ্যার পরে কম্যান্ডো অভিযানে ওই ব্যক্তি নিহত হন। তবে অন্য সকল যাত্রী ও ক্রু অক্ষত রয়েছে।ববার সন্ধ্যায় কম্যান্ডো অভিযানের পর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আলাপের সময় ওই ব্যক্তি নিজের নাম মাহাদি বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তার ফেসবুকে নাম উল্লেখ রয়েছে মাহিবী জাহান নামে।

তবে তার পেশা বা বসবাসের স্থান সম্পর্কে ফেসবুকে অনেক তথ্য দেয়া রয়েছে, যার সত্যতা পাওয়া যায়নি।

ছবির উৎস, বিবিসি বাংলা

ছবির ক্যাপশান,

বিমান ছিনতাই চেষ্টার সময় নিহত হওয়া পলাশ আহমেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মাহিবী জাহান নামে ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: