ওবায়দুল কাদের: আওয়ামী লীগ নেতাকে দেখে ভারতের হৃদরোগ চিকিৎসক দেবী শেঠি কী বলেছেন?

ওবায়দুল কাদের ছবির কপিরাইট obaidul Quader Facebook
Image caption ওবায়দুল কাদের

ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ চিকিৎসক ডা. দেবী শেঠির পরামর্শে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ভারতের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী শেঠি মি: কাদেরকে হাসপাতালে দেখার পরেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

দেবী শেঠি মি: কাদেরকে দেখার কিছুক্ষন পরেই অ্যাম্বুলেন্সে করে বিমানবন্দরের দিকে রওনা হয়। সেখান তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার জন্য গতকাল থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত ছিল।

আজ ঢাকায় এসে দেবী শেঠি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে যান।

সেখানে গিয়ে তিনি মি: কাদেরকে দেখেন এবং সব কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন।

এরপর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া এবং সে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

তবে সে সংবাদ সম্মেলনে ডা. দেবী শেঠি উপস্থিত ছিলেন না।

ডা. দেবী শেঠিকে উদ্ধৃত করে মি; বড়ুয়া বলেন, ঢাকার হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা যা করেছে সেটি খুবই চমৎকার।

"মিসেস ওবায়দুল কাদের ছিলেন সেখানে। তিনি বলেন, ইওর হাজব্যান্ড ইজ লাকি (আপনার স্বামী সৌভাগ্যবান)।... ইউরোপ-আমেরিকাতেও এর চেয়ে বেশি কিছু করার নাই। "

দেবী শেঠিকে বাংলাদেশে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া। দুপুর একটার দিকে দেবী শেঠি ঢাকায় এসে পৌঁছেন।

ডিসেম্বরেও একবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের ডায়াবেটিস ছিল অনিয়ন্ত্রিত।

মি: কাদেরের এর আগেও হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল বলে জানান ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

"ওনাকে স্ট্যান্টিং করার জন্য আগেও পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। গত ২০ ডিসেম্বর আমার এখানে আসার পর আমি একটা মেডিকেল বোর্ড করে ওনাকে পরামর্শ দেই। আমার মেডিকেল বোর্ড বলেছে, আপনি এখানে ভর্তিই থাকেন। কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই ইলেকশন ৩০ তারিখে। উনি বললেন যে ইলেকশনের পর পরেই এসে উনি ভর্তি হবেন," সংবাদ সম্মেলনে বলেন মি: বড়ুয়া।

" তারপরেও ওনার সাথে দেখা হলে ওনাকে রিকোয়েস্ট করেছিলাম আমরা। কিন্তু উনি বলছেন, আমি তো ভালো আছি, সুস্থ আছি। ঠিক আছে একসময় আসবো।"

মি: কাদেরের ফুসফুসেও সমস্যা রয়েছে বলে উপাচার্য মি: বড়ুয়া।

আরো পড়ুন:

হার্ট অ্যাটাক: যে বিষয়গুলো কখনো উপেক্ষা করবেন না

ওবায়দুল কাদের ‘সম্পূর্ণভাবে চেতনা ফিরে পেয়েছেন’

কাদের চোখ খুলেছেন, তবে পুরোপুরি শঙ্কা মুক্ত নন

রোববার ভোরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই নেতা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

এরপর সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসা দিতে দিতেই তার একটি হার্ট অ্যাটাক হয়।

তারপর এনজিওগ্রাম করে দেখা যায়, তার হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক রয়েছে, যার একটিতে স্টেন্টিং করে দেয়া হয়।

তাঁর হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। চিকিৎসকেরা গতকাল জরুরী ভিত্তিতে একটি অপসারণ করেছেন। এখন আরো দুইটি ব্লক রয়েছে বলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, ব্লকগুলো সম্পূর্ণ অপসারণের জন্য বড় অপারেশনের দিকে যেতে হতে পারে।

মি. কাদের ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।