বিবিসি ফ্যাক্টচেক: ভুয়া ছবি দিয়ে বালাকোট হামলার সফলতা প্রমাণের চেষ্টা ভারতীয় মন্ত্রীর

দাবী করা হয় এই দুটি ছবি হামলার আগের এবং পরের। ছবির কপিরাইট GOOGLE / ZOOM EARTH
Image caption দাবি করা হয় এই দুটি ছবি হামলার আগের এবং পরের।

পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতীয় বিমান হামলা নিয়ে দেশটির ইউনিয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের একটি টুইট ভারতে ভাইরাল হয়েছে।

টুইটে সংযুক্ত ভিডিওতে দাবি করা হয় যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঐ হামলায় একটি জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস হয়েছে। ভারতের একটি নামকরা টেলিভিশন চ্যানেলে ঐ ভিডিওটি সম্প্রচার করা হয়।

ভিডিওতে বালাকোটের দুটি স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয় যার প্রথমটি বিমান হামলার আগের এবং অপরটি হামলার পরের চিত্র বলে দাবি করা হয়। ফেসবুক, টুইটার এবং ইউটিউবে ভিডিওটি লক্ষ-লক্ষ বার দেখা এবং শেয়ার করা হয়েছে।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামাতে জঈশ-ই-মোহাম্মদের দাবীকৃত হামলায় ৪০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হবার পর ভারত ঐ বিমান হামলা চালায়।

তবে হামলার সফলতা প্রমাণের উদ্দেশ্যে তৈরি ঐ ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

ছবিগুলো কি আসলেই সত্যি?

ভিডিওর প্রথম স্যাটেলাইট চিত্রটি হামলার আগে ২৩শে ফেব্রুয়ারি ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

ছবির কপিরাইট Twitter
Image caption ভারতের ইউনিয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংয়ের টুইট।

দ্বিতীয় ছবিটি ২৬শে ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ হামলার পরে ধারণ করা বলে দাবি করা হয় যেটি ভারতীয় যুদ্ধবিমানের হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের ছবি বলে দাবি করা হয়।

ছবির কপিরাইট BING MAPS/ZOOM EARTH
Image caption এটি হামলার পরের ছবি বলে দাবী করা হয়।

তবে বিবিসির ফ্যাক্টচেক দলের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে: দ্বিতীয় ছবিটি বেশ কয়েক বছর আগে ধারণ করা।

ভিডিওতে দেয়া অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের সাহায্যে আমরা দেখেছি যে - ছবিটি নেয়া হয়েছে "জুম আর্থ" ওয়েবসাইট থেকে, মাইক্রোসফটের বিং ম্যাপের স্যাটেলাইট ছবির ওয়েবসাইট এটি।

ওয়েবসাইটটির প্রতিষ্ঠাতা পল নিভ বিবিসিকে বলেছেন, ঐ ছবিটির সাথে বিমান হামলাকে সংযুক্ত করার সুযোগ নেই।

"হ্যাঁ, ভবনটিতে বোমা হামলার প্রমাণ হিসেবে ছবিটি ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু ঘটনা আসলে সেটা নয়। এই ছবিটি সম্ভবত বেশ কয়েক বছরের পুরনো এবং তাতে দেখা যাচ্ছে যে ভবনটির নির্মাণকাজ চলছে," তিনি বলেন।

ওয়েবসাইটটি বলছে, শুধুমাত্র মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ছবিগুলোই (যেখানে মেঘ দেখা যাচ্ছে) প্রতিদিন আপডেট করা হয়। বিং ম্যাপের ছবিগুলো নিয়মিত আপডেট হয় না এবং কয়েক বছরের পুরনো।

বিষয়টি নিয়ে মি. নিভ নিজেও টুইট করেন।

আরো পড়ুন:

ভারত-পাকিস্তান: পারমাণবিক অস্ত্রে কে এগিয়ে?

পাকিস্তান জুড়ে জঙ্গি-বিরোধী ব্যাপক ধরপাকড়

কাশ্মীর নিয়ে ভারত আর পাকিস্তানের লড়াইয়ের কারণ কি?

বালাকোটে '২৯২ জঙ্গী নিহত' এই দাবি সত্য না মিথ্যা?

ছবির কপিরাইট Twitter
Image caption পল নিভের টুইট।

জুম আর্থের মাধ্যমে যে কেউ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকার ছবি খুঁজে নিতে পারেন। আমরা দেখেছি যে দ্বিতীয় ছবিটি ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সার্চ করলে খুঁজে পাওয়া যায়।

এদিকে প্রথম ছবিটি এখনো গুগল আর্থে রয়েছে।

ভবন অক্ষত থাকার চিত্র

ছবির কপিরাইট PLANET LABS INC./HANDOUT VIA REUTERS
Image caption পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ার বালাকোটে এই মাদ্রাসাটিতে হামলার দাবী করা হয়।

এদিকে মার্কিন প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেট ল্যাবসের প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, 'জঈশ-ই-মোহাম্মদের পরিচালিত একটি মাদ্রাসা' অক্ষত রয়েছে।

ছবিটি ৪ই মার্চ ধারণ করা বলে জানাচ্ছে প্ল্যানেট ল্যাবস।

মাদ্রাসাটি জঙ্গিগোষ্ঠীটির সাথে যুক্ত কিনা তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে ছবিতে যে ভবনটি দেখা যাচ্ছে সেটিই ধ্বংস করার দাবী করেছিল ভারত।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না
কাশ্মীরের উভয় প্রান্তের দৃশ্য বিবিসির চোখে