এডিটার'স মেইলবক্স: শব্দ দিয়ে জব্দ নারী আর বালাকোট হামলার সত্যাসত্য

বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে ৮৮ শতাংশ নারী, পথচারী কর্তৃক আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হন। ছবির কপিরাইট BARCROFT MEDIA
Image caption বাংলাদেশে শহরাঞ্চলে ৮৮ শতাংশ নারী, পথচারী কর্তৃক আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হন।

৮ই মার্চ ছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

এই দিবসকে সামনে রেখে ৬ই মার্চ প্রবাহ অনুষ্ঠানে প্রচারিত 'তিরষ্কারমূলক শব্দ যেভাবে জব্দ করে নারীকে' প্রতিবেদনটি নিয়ে কাউনিয়া, রংপুর থেকে লিখেছেন বিলকিস আক্তার:

''আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে চাই-আমাদের নারীদের চলার পথে এই একুশ শতকেও পদে পদে কাঁটা। কখনো পারিবারিক অনুশাসনের কাঁটা। কখনো সামাজিক রীতি-নীতি, কখনো ধর্মীয় কুসংস্কার, কখনো নিরাপত্তাহীনতার কাঁটা। আছে বখাটের লোলুপ দৃষ্টি ও লালসার কাঁটা। আবার অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতাহীনতা, পরনির্ভরতা, সেইসঙ্গে পুরুষদের অবজ্ঞা-অবমূল্যায়নের কাঁটাও আছে। আছে মানুষ হয়ে জন্মেও পরিবার-সমাজের চোখে 'মানুষ' হতে না পারা, কেবল 'কন্যা' হয়ে থাকার গ্লানির কাঁটা।

''এরকম কাঁটাময় পথেই হেঁটে চলেছি আমরা নারীরা দিনের পর দিন! তাই একমাত্র বিবিসিই পারে বিশ্লেষণমূলক এরকম প্রতিবেদন প্রচার করে আমাদের নারীদের এই প্রতিকূলতা থেকে বের করে আনতে।''

মিস আক্তার- মেয়েদের এখনও বিশ্বের সর্বত্রই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে পথ হাঁটতে হচ্ছে। কোথাও কম কোথাও বেশি। মেয়েদের যোগ্যতাকে ছোট করে দেখার প্রবণতা এখনও অনেক সমাজে রয়েছে। কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ৬ই মার্চ ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরেছিল যে বাংলা ভাষায় মেয়েদের হেয় বা ছোট করে এমন অনেক শব্দ প্রচলিত রয়েছে- অধিকাংশ হয়রানিমূলক কথা, গালি, তিরস্কারমূলক শব্দ সাধারণত নারীকে অবমাননা বা হয়রানি করার জন্য ব্যবহার হয়। সেটা নিয়েই ছিল আমাদের প্রতিবেদন। পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন

যুগ বদলাচ্ছে। তাই আশা করব এসব শব্দ ব্যবহার করার সময় মানুষ ভবিষ্যতে দুবার ভাববেন। আপনাকে চিঠি লেখার জন্য ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট GOOGLE / ZOOM EARTH
Image caption দাবি করা হয় বালাকোটের এই দুটি ছবি হামলার আগের এবং পরের।

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু এই সংঘাত নিয়ে অনেকের মনে এখনও ঘুরছে নানা প্রশ্ন। দক্ষিণ পানাপুকুর, রংপুর সদর থেকে লিখেছেন দেব প্রসাদ রায়:

''পাকিস্তানের বালাকোটে ভারতের হামলা নিয়ে ধোঁয়াশা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন দেশের মিডিয়া ভিন্ন ভিন্ন মতামত দিচ্ছে। পাক-ভারত সরকারের তরফ থেকেও ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসছে। আসলে সত্যটা কি? বালাকোটে আদৌ কি কোন হামলার ঘটনা ঘটেছে?''

বালাকোটে ভারতীয় বিমান বাহিনী একটা হামলা চালিয়েছে, কিন্তু সেই হামলা কতটা ব্যাপক ছিল, তাতে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, কত হতাহত হয়েছে এ নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা।

ভারতের একজন মন্ত্রী ঐ হামলার যে টুইট করেছেন তাতে সংযুক্ত একটি ভিডিওতে বালাকোটের দুটি স্যাটেলাইট চিত্র দেখানো হয়েছে যার প্রথমটি বিমান হামলার আগের এবং অন্যটি হামলার পরের চিত্র বলে দাবি করা হয়েছে। সেখানে ধ্বংসের ছবি দেখানো হয়েছে। কিন্তু বিবিসির একটি অনুসন্ধান ঐ ভিডিওটি ভুয়া বলে অনুসন্ধানে দেখেছে। নিহতের সংখ্যা নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আসা একটি কথোপকথন বিবিসির অনুসন্ধানে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। আসলে কী ঘটেছে সেটা এখনও অন্ধকারে। বিবিসির অনুসন্ধান নিয়ে রিপোর্ট পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ছবির কপিরাইট .
Image caption ওয়াগা সীমান্তে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের ঠিক আগে উইং কমান্ডার আভিনন্দন ভার্তামান (ডানে)। পাশে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ফারিহা বুগতি

এই ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''পাকিস্তানে আটক ভারতীয় পাইলটকে মুক্তি দেওয়া বা পাকিস্তানে কথিত জঙ্গী সংগঠনের সদস্যদের আটকের মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতকে কি শান্তির বার্তা দিতে চাইছেন? পাকিস্তানের এসব উদ্যোগ চির বৈরি এ দেশ দু'টির শীতল সম্পর্ককে কি উষ্ণ করতে পারবে?''

আর ধানমণ্ডি, ঢাকা থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল-এর প্রশ্ন:

''পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বার বার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতকে। এমনকি ভারতের পাইলটকে ফেরতও দিয়েছেন। তিনি এত কিছু করছেন, তাহলে সন্ত্রাস দমনে জোরালো অভিযান কেন চালাচ্ছেন না পাকিস্তানে? কিংবা এতদিন কেন সন্ত্রাসীদের লালন করে এসেছেন তারা?''

খুবই কঠিন প্রশ্ন করেছেন মি. শামীমউদ্দিন এবং মি. সরদার। আটক ভারতীয় পাইলটকে ছেড়ে দিয়ে মি: খান অবশ্যই একটা শান্তির বার্তা দিতে চেয়েছেন। এখন তার সরকার জঙ্গীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে তারা অন্তত ২০০ জঙ্গীকে আটক করেছে। দেশটির ভেতর বিরোধী দল থেকেও একটা অর্থপূর্ণ অভিযান চালানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের যে ক্ষত আর কাশ্মীরের অধিকারের যে প্রশ্ন তা নিয়ে দুই পক্ষ নমনীয় না হলে এবং একটা অর্থপূর্ণ আলোচনায় না বসলে দুদেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা দুরাশাই থেকে যাবে। আপনাদের ধন্যবাদ।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মি: খান ভারত পাকিস্তান ইস্যুতে একটা শান্তির বার্তা দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন ভারত পাকিস্তান দুদেশেই।

এই সঙ্কট সমাধানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে লিখেছেন আকবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুরের শাহা আলম ইসলাম:

''বলা হয়েছিল কাশ্মীর অঞ্চলের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কি করবে। গণভোটে তারা সিদ্ধান্ত নেবে তারা কি ভারতের সাথে যাবে নাকি পাকিস্তানের সাথে যাবে নাকি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করবে। কিন্তু কাশ্মীর জনগনকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ হচ্ছে সেই গণভোটের আয়োজন।''

একই সমাধানের পথ বাতলেছেন ধনিয়াখালি, হুগলি,পশ্চিমবঙ্গ থেকে সৈয়দ মহম্মদ মুসা

আপনাদের মত অনেকেই মনে করেন কাশ্মীরের জনগণকে গণভোটের সুযোগ দিয়ে সমস্যা সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করা উচিত। আপনাদের দুজনই ধন্যবাদ লেখার জন্য।

বিবিসি বাংলা ওয়েবসাইটের একটি খবর নিয়ে লিখেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি:

''৩রা মার্চ পড়লাম আমেরিকান কংগ্রেসের মুসলিম নারী সদস্য ইলহান উমর রিপাবলিকান পার্টির অনুষ্ঠানে মুসলমান বিরোধী পোস্টার দেখানোর নিন্দা করেছেন এবং ১১ই সেপ্টেম্বরের জঙ্গী হামলার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে ঐ পোস্টারটি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে মনে করেছেন। আমেরিকা শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় উন্নত দেশ বলে দাবি করে। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী ভেদাভেদ ভুলে সকলকে সম্মান করে এবং নারী পুরুষের সমান অধিকারকে গুরুত্ব দেয় বলে প্রচার করে। কিন্তু এ ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে বর্ণবাদে বিশ্বাসীদের প্রেতাত্মা এখনও আমেরিকার সমাজে লুকিয়ে আছে এবং এখনও সময় সুযোগ পেলে তাদের কুৎসিত রূপ প্রদর্শন করতে তারা পিছপা হননা।

''বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হওয়ার পর এ প্রবণতা বাড়ছে বলে প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ শিরোণাম হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, সে দেশের একজন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য যদি এভাবে প্রকাশ্যে বর্ণবাদী হেনস্থার শিকার হন, তবে একজন সাধারণ নাগরিকের অবস্থা কী হতে পারে, তা ভাবতেই আমাদের কষ্ট হচ্ছে।''

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মুসলিম বিরোধী পোস্টার নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে আমেরিকান কংগ্রেসের ডেমোক্রাট সদস্য ইলহান উমর।

ঐ ঘটনার পর রিপাবিলকান পার্টির পক্ষ থেকে পোস্টারটি সরিয়ে নেবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তাকে নিয়ে আমেরিকায় এখন জোর বিতর্ক চলছে। তিনি ইহুদী-বিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন বলে মি: ট্রাম্প তার সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্রাট সদস্যরাও তার মন্তব্য নিয়ে বিভক্ত। তবে সাম্প্রতিককালে আমেরিকায় বর্ণবাদ যে বেড়েছে এমন খবর প্রায়শই সংবাদমাধ্যমে আসছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

সপ্তাহের আর একটি আলোচিত বিষয় ছিল অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের পিস্তল বিমানবন্দরের স্ক্যানারে ধরা পড়া না পড়ার বিষয়টি।

এ নিয়ে লিখেছেন ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''কিছুদিন আগেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ময়ূরপঙ্খী 'ছিনতাই' চেষ্টার ঘটনা ঘটে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের প্রশ্নের সম্মুখীন হলো বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য ৫ মার্চ হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের প্রথম গেটের স্ক্যানার মেশিনের নজর এড়িয়ে পিস্তল ও গুলি ব্যাগে নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

''জেনেছি কোন বিমান যাত্রীর সাথে ফায়ার আর্মস থাকলে শুরুতে গেটে নিরাপত্তাকর্মীর কাছে ডিক্লেয়ার করাতে হয়। সে ক্ষেত্রে যাত্রী হিসাবে তিনিও কিছুটা নিয়ম ভেঙ্গেছেন বলে মনে করি।''

ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র স্ক্যানারে ধরা না পড়ার ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে বলে লিখেছেন পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক

তবে ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করে ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে তিনি অসত্য কথা বলেছেন। তারা বলছেন স্ক্যানার মেশিনে তারাই আগ্নেয়াস্ত্র শনাক্ত করে মি: কাঞ্চনকে জানালে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করেন। তবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন তার বক্তব্যই সঠিক এবং বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই আসলে জানা যাবে কী হয়েছিল । লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্য নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন।

Image caption অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের পিস্তল হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্ক্যানারে ধরা পড়ার বিষয়টি ছিল সপ্তাহের আলোচিত একটি বিষয়

চলতি সপ্তাহের আর একটি আলোচিত ঘটনা ছিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের অসুস্থতা ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন করেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে তানাকা রহমান:

''তার চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখার জন্য ভারতের ডাঃ দেবী শেঠি ও সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষজ্ঞ দল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বাংলাদেশে আসেন, যা সাম্প্রতিক কালের ইতিহাসে একটি বিরল ও ব্যতিক্রমী ঘটনা। তার সুচিকিৎসা হোক সেটা আমার মতো সকলেই প্রত্যাশা করে কিন্তু আমাদের দেশে বড় বড় নেতা নেত্রী, ব্যবসায়ী, আমলা সকলে প্রায়ই চিকিৎসার জন্য বিদেশী হাসপাতাল ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। এটা প্রকারান্তরে আমাদের দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উপরই এক ধরণের অনাস্থা ও অবিশ্বাস। বিবিসির মাধ্যমে সরকারের কাছে আমার প্রশ্ন, আমরা কবে সেইদিন দেখতে পাবো যেখানে সকলের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে?''

একই প্রশ্ন তুলেছেন কপিলমুনি খুলনা থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''বাংলাদেশে সবার জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । কিন্ত বাংলাদেশে সবার জন্য সমান চিকিৎসা সেবা কি নিশ্চিত করা গেছে? একটু অবস্থাপন্ন মানুষ আমাদের প্বার্শবর্তী দেশ ভারতে চলে যান। রাষ্ট্রীয় দ্বায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা উন্নত সেবা গ্রহনের জন্য চলে যান দেশের বাইরে। এটা কি আসলে আমাদের দেশের চিকিৎসা সেবার প্রতি মানুষের আস্থার সংকট ? নাকি চিকিৎসা প্রযুক্তির সংকট? না সঠিক রোগ নির্ণয়ে অক্ষমতা?''

যেহেতু বাংলাদেশের আর্থিক সঙ্গতিপূর্ণ মানুষের একটা বড় অংশ উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন, সেটা নি:সন্দেহে দেশের চিকিৎসা সেবার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে উন্নত মানের হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে, যোগ্য চিকিৎসক আছেন - তাও দেখা যাচ্ছে মানুষ দেশের ভেতর চিকিৎসা সেবার ওপর সেভাবে আস্থা রাখতে পারছেন না। আপনাদের দুজনকেই ধন্যবাদ।

Image caption আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনের প্রশংসা করে লিখেছেন ভোলার লালমোহন থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''বাংলাদেশে ভিক্ষা বন্ধে এক ইউএনও'র অভিনব প্রয়াস নিয়ে পয়লা মার্চ প্রবাহে ফারহানা পারভীনের প্রতিবেদনটি শুনলাম এবং ওয়েবসাইটে পড়লাম। ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগটি শ্রোতা ও পাঠকদের সামনে তুলে ধরার জন্য বিবিসি বাংলাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আসলে ভিক্ষাবৃত্তি হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত ও অসম্মানজনক পেশা। কেউ ইচ্ছায়, কেউ অনিচ্ছায় কিংবা কেউ কোন উপায়ন্তর না দেখে পেটের দায়ে সমাজের এই অসম্মানজনক পেশাকে জীবিকা হিসাবে বেছে নেয়।

''সমাজের অবহেলিত এ পেশাকে অনেকেই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে এবং সমাজ থেকে কিভাবে ভিক্ষাবৃত্তি দূর করা যায় তা নিয়ে একদম কোন চিন্তা করে না। সেক্ষেত্রে ইউএনও তৌহিদুর রহমান একটি অনুপ্রেরণামুলক পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তার এ দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ অনেককেই উৎসাহিত করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।''

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় অন্তত বিশজন বয়স্ক ভিক্ষুককে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত করতে তাদের দেখভালের দায়িত্ব সন্তানদের হাতে তুলে দেবার ব্যাপারে মি: রহমানের উদ্যোগ ও সাফল্য আরও মানুষকে এব্যাপারে সচেতন ও অনুপ্রাণিত করবে বলেই আশা করা যায়। আপনাকে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

বড়শশী-অমরখানা, পঞ্চগড় থেকে সম্প্রচার মান নিয়ে অভিযোগ করেছেন মোঃ উজ্জ্বল ইসলাম:

''মাঝে মাঝে বিবিসির বাংলা সংবাদ শুরু হবার আগে বিবিসির ইংরেজি সংবাদ বাজানো হচ্ছে এমনকি খবর শোনার মাঝপথে খবরের অংশ বাদ পড়ে হঠাৎ শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যাচ্ছে। গত ৫ই মার্চ সকালের অধিবেশন প্র্যতুষা শোনার জন্য রেডিও চালু করার পরও পুরো অধিবেশনটাই শুনতে পেলামনা। এধরনের সমস্যাগুলোর সৃষ্টি কি বিবিসির ঢাকা স্টুডিওতে, না বাংলাদেশ বেতারের কোনআঞ্চলিক কেন্দ্রে?''

মি: ইসলাম - আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে এটা বিবিসির ঢাকা স্টুডিওর কোন সমস্যা নয়। আমরা সমস্যাটি বাংলাদেশ বেতারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। আশা করি তারা দেখবেন কেন এই সমস্যা হচ্ছে। আপনাকে ধন্যবাদ।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার।

ফরিদুল হক, ফুলবাড়ী সদর, কুড়িগ্রাম।

হরেন চন্দ্র দাস, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট।

জুনাইদ আল হাবিব, লক্ষ্মীপুর।

দিপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ,পঞ্চগড়।

মো: সাইফুল ইসলাম থানদার, দূর্গাপুর, রাজশাহী।

রহিদুল ইসলাম,নোহাইল,বীরগঞ্জ,দিনাজপুর।

শাহিন তালুকদার,মৌকরন,পটুয়াখালী।

ডা.এস.এম.এ. হান্নান, চাটমোহর, পাবনা।

বিপুল দেবশর্মা, নশিপুর, দিনাজপুর।

বিবিসি বাংলার খবর নিয়ে আপনাদের মতামত, প্রতিক্রিয়া, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কাছে লিখতে পারেন:

ইমেইল ঠিকানা: bengali@bbc.co.uk

ফেসবুক পেজ: www.facebook.com/BBCBengaliService/