আরো দুই আইএস জিহাদি বধূর নাগরিকত্ব বাতিল করলো যুক্তরাজ্য

শামীমা বেগম
Image caption তথাকথিত ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়ে যুক্তরাজ্য ছেড়ে সিরিয়া গিয়েছিলেন শামীমা বেগম

শিশু সন্তান নিয়ে সিরিয়ার ক্যাম্পে আটকে থাকা আরো দুইজন আইএস জিহাদি বধূর নাগরিকত্ব যুক্তরাজ্য বাতিল করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

সিরিয়ার ক্যাম্পে আটকে থাকা শামীমা বেগমের শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনার পরই এই তথ্য জানা গেল, যিনি তথাকথিত ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাজ্য তার নাগরিকত্ব বাতিল করেছে।

আইনি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সানডে টাইমস বলছে, ওই নারীদের নাম রিমা ইকবাল এবং তার বোন জারা। তাদের দুজনেই পূর্ব লন্ডনের বাসিন্দা ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, তারা আলাদা করে কোন ঘটনার ওপর মন্তব্য করে না।

আরো পড়ুন:

শামীমার ‘অন্যায়ের’ জন্য ক্ষমা চাইলেন তার বাবা

শামীমার সন্তানের মৃত্যু: সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ মন্ত্রী

সেখানে আরো বলা হয়েছে, কারো নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত তথ্যপ্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই নেয়া হয়ে থাকে, যা হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।

এই ক্ষমতার ব্যবহার সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। অভিবাসন বিষয়ক ওয়েবসাইট ফ্রি মুভমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে ২০১৭ সালে ১০৪জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়, যা আগের এক দশকে ছিল মাত্র ৫০টি।

এর মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা এবং আল কায়েদার মতো গোষ্ঠীকে সমর্থন করার মতো অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি রোচডেল গ্রুমিং গ্যাং এর মতো অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

ছবির কপিরাইট MET POLICE
Image caption তিন বান্ধবী খাদিজা সুলতানা, আমিরা অবাসি ও শামিমা -আইএস বাহিনীতে যোগ দিতে ব্রিটেন ছেড়ে যান।

সানডে টাইমস বলছে, ৩০ বছরের রিমা আর ২৮ বছরের জারা সিরিয়ায় পৃথক দুইটি শরণার্থী ক্যাম্পে বাস করছে, যেখানে জিহাদিদের নিয়ন্ত্রিত সাবেক এলাকাগুলো থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার শরণার্থী রয়েছে।

এই দুই বোনের পাঁচটি সন্তান রয়েছে, যাদের সবার বয়স আট বছরের নীচে।

এই বোনদের পিতামাতা পাকিস্তান থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন। তবে তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সানডে টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই বোনরা ২০১৩ সালে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্য ছাড়েন এবং তার আগেই আইএসের এমন যোদ্ধাদের বিয়ে করেন, যাদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জিম্মি হত্যা এবং ভিডিও করার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যে থাকার সময় জারার একটি সন্তান হয়। সিরিয়ায় যাবার সময়ও গর্ভবতী ছিলেন জারা। সিরিয়ায় গিয়ে তিনি তৃতীয় সন্তানের মা হন।

রেমার একটি সন্তানের জন্ম হয় যুক্তরাজ্যে, অপর জনের সিরিয়ায়।

অনেকটা একই ধরণের ঘটনায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের জিহাদি-বধূ শামীমা বেগমের বিষয়টি নিয়ে এখন সমালোচনার মূখে পড়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ।

শামীমা বেগমের শিশু সন্তানটি সিরিয়ার শরণার্থী শিবিরে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এই সমালোচনা শুরু হয়েছে।

চিকিৎসা সনদ হিসাবে নিউমোনিয়ায় মারা গেছে শামীমা বেগমের তিন সপ্তাহ বয়সী শিশু সন্তান যারাহ।

ইসলামিক স্টেট বাহিনীতে যোগ দিতে মিজ বেগম ১৫ বছর বয়সে লন্ডন ছেড়ে সিরিয়ায় যান ।

এই টিনএজার যখন ফিরে আসার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তখন মিস্টার জাভিদ তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা জানান।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

তিমির সাথে ধাক্কা লেগে ফেরির ৮০ জন যাত্রী আহত

ব্যালট বাক্স আগেই ভরা নিয়ে বিতর্ক

ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন যে ইংরেজ নারী

উত্তর কোরিয়া 'রকেট ছোঁড়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে'

সম্পর্কিত বিষয়