ডাকসু নির্বাচন: আগ্রহ-উত্তেজনা, তবু সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা

ডাকসু নির্বাচন
Image caption ডাকসু নির্বাচনের আগের দিন টিএসসি এলাকার চিত্র।

শনিবার মধ্যরাত থেকে শেষ হয়েছে ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণা। কিন্তু সারা ক্যাম্পাস জুড়ে বিভিন্ন প্যানেল, প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানারে সাটা।

নির্বাচনের ঠিক একদিন আগে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। এত দীর্ঘ বছর পর এই নির্বাচন হচ্ছে এবং সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে এটা তাদের জন্য বেশ রোমাঞ্চকর ব্যাপার বলে মনে হয়েছে।

বিবিসি'র সাথে আলাপকালে শিক্ষার্থীদের বেশ আগ্রহী মনে হলে।

এক শিক্ষার্থী জানালেন, "ডাকসুটা খুব প্রয়োজন আমাদের জন্য। প্রশাসনকে চাপের রাখার জন্য ডাকসুটা প্রয়োজন আমাদের।"

"এতদিন যখন বহিরাগত হিসেবে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতাম তখন দেখতাম বিভিন্ন দেয়ালে লেখা ডাকসু নির্বাচন চায়, ডাকসু নির্বাচন চায়," বলেন আরেকজন।

"কিন্তু এখন আমরা সেই নির্বাচনে ভোট দিতে পারছি। অবশ্যই আমাদের অনেক আগ্রহের জায়গা," তিনি জানাচ্ছিলেন।

আরো পড়ুন:

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ কতোটা আছে ক্যাম্পাসে?

১১ই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন

Image caption ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাভবন প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য: অপরাজেয় বাংলা।

অনেক শিক্ষার্থী আছেন যারা শুধু ডাকসুর নাম শুনেছেন। কিন্তু সেটা কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে কোন ধারণা নেই - তাই ভোট দেয়ার আগ্রহ কম বলে জানিয়েছেন। অনেকে আবার নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সেটা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

একজন বলছিলেন, ''আমি ডাকসু সম্পর্কে খুব বেশি জানি না, কারা প্রার্থী তাও জানি না। তাই আন্দাজে কাকে ভোট দেব?''

"আমার বাবারা সবশেষ ভোট দিয়ে বের হয়ে গেছে, আর আমরা এসেই আবার এতদিন পর ভোট দিতে পারবো। সেটা নিয়ে একটা উত্তেজনা আছে। কিন্তু একটু ভয় আছে যে কিছু হয় কিনা," বলছেন আরেকজন শিক্ষার্থী।

''আমার খুব একটা আগ্রহ নেই। তারপরেও আসবো। কারণ মনে হচ্ছে না সুষ্ঠু ভোট হবে ।"

তিনি জানান: "সবার কাছ থেকে খবর নিয়ে তারপর আসবো। এখানে আসলাম লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলাম তারপর দেখলাম কোন লাভ হল না।"

এমন ভাবে নিজেদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আজ প্রার্থীদের সেই অর্থে প্রচারণা কার্যক্রম দেখা যায়নি তবে সরব উপস্থিতি ছিল তাদের।

এদিকে যারা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা বলছেন, একটা সময় ছিল যখন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চালু ছিল।

কিন্তু এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

ভারত পাকিস্তানের টিভি স্টুডিওতে যেভাবে যুদ্ধ হলো

ইথিওপিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, 'বেঁচে নেই কেউ'

আরো দুই আইএস জিহাদি বধূর নাগরিকত্ব বাতিল

শামীমার ‘অন্যায়ের’ জন্য ক্ষমা চাইলেন তার বাবা

Image caption সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ২৮ বছর আগে।

লেখক এবং রাজনীতির পর্যবেক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়া, সাধারণ ছাত্রদের অংশগ্রহণ না থাকার ফলে এই বিষয়টা নিয়ে ছাত্রদের মধ্যে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলছিলেন, ''এরা ঠিক ছাত্রদেরও রিপ্রেজেন্ট করে না। ছাত্রদের সমস্যা, দাবি-দাওয়া, এসব নিয়ে কাজ করে না। অনেকে আছে রাজনৈতিক দলের লাঠিয়ালের মত কাজ করে।"

মি. আহমদ বলছিলেন, ''দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ার কারণে এখন এটা নিয়ে একটা আকর্ষণ, বা ভোট দেয়ার আনন্দ বা কিছু ফান এই জিনিসটাই আছে।"

"কিন্তু আগে যেভাবে হত সেখানে রাজনীতিতে একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, আদর্শের লড়াই ছিল। এখন আর সেই জিনিসটা নেই। ফলে ডাকসু নির্বাচনটি প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলেছে।''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিবছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু পরবর্তীতে এই নিয়ম খুব একটা অনুসরণ করা হয়নি।

এ পর্যন্ত ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মাত্র সাত বার, যেটি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৯০ সালে।